logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

এশিয়া কাপ চলাকালে স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব!

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:০০ | আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:১২
স্পট ফিক্সিং। কী ফিরে গেলেন লর্ডসে? ২০১০ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে পাকিস্তানের সালমান বাট-মোহাম্মদ আমির-মোহাম্মদ আসিফ স্পট ফিক্সিং করে বিভিন্ন মেয়াদে ক্রিকেট থেকে বহিষ্কৃত হয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই এ বিষয়ে নড়েচড়ে বসে আইসিসি। কিন্তু চাইলেই কি সব একেবারে ধুয়ে মুছে সাফ করা যায়? তার তো সময় লাগবেই। 

whirpool
ওই ঘটনার পর অনেক ক্রিকেটারকেই আড়ালে আবডালে ফিক্সিংয়ের অফার করা হয়। কিন্তু আইসিসির নিয়মানুসারে কোনও ক্রিকেটার প্রস্তাব পেলেই সঙ্গে সঙ্গে তা সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ড হয়ে জানাতে হবে আইসিসির দুর্নীতি দমন কমিশনকে। তারপর তারা তা তদন্ত করে দেখবে। 

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : আগামীকাল ঢাকায় শুরু বিভাগীয় পর্যায়ের খেলা
-------------------------------------------------------

২০১০ সালের ঐ ঘটনার পর অনেক ক্রিকেটারই প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু সকলেই তা বোর্ডকে জানিয়ে দেন পরবর্তীতে বোর্ড জানায় আইসিসিকে। তড়িঘড়ি করে তদন্তে নামে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট। 

বিশ্ব ক্রিকেটে দুর্নীতির আঁতুড় ঘর হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাত। আর সেখানেই চলছে এশিয়া কাপের ১৪তম আসর। এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে ভারত। অপেক্ষা আরেকটি দলের। এমন সময় স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন বলে বোমা ফাটিয়েছেন টুর্নামেন্টের অংশগ্রহণকারী দল আফগানিস্তানের উইকেটরক্ষক কাম ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদ। 

এশিয়া কাপ চলাকালে জুয়াড়িদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেলেও এ টুর্নামেন্টে কিছু করতে বলেনি প্রস্তাবকারীরা। আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শারজাহতেই প্রথমবারের মতো শুরু হবে আফগান প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টির প্রথম আসর। আর সে আসরকে কেন্দ্র করেই স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেয়া হয় শাহজাদকে।

আফগান প্রিমিয়ার লিগে শাহজাদ খেলবেন পাকতিয়া ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, শহীদ আফ্রিদি, আন্দ্রে রাসেল, ক্রিস গেইলের মতো বিশ্বের বড় বড় তারকারাও খেলবেন এই টুর্নামেন্টে। আছেন বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম আর তামিম ইকবাল।

ইএসপিএন-ক্রিকইনফো বলছে, প্রস্তাব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শাহজাদ বিষয়টি আফগান টিম ম্যানেজমেন্টকে জানিয়ে দেন। তারা আবার সেটা জানিয়েছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে। আর তারাও সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমে পড়েছে। 

এ ব্যাপারে আইসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, এশিয়া কাপ চলাকালে প্রস্তাব পাওয়া গেলেও তা করা হয়েছে (আফগানিস্তানের) নিজস্ব টি-টোয়েন্টি লিগের জন্য। শনিবার যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন ইউনিট সেটা খতিয়ে দেখছে।

এদিকে দুবাইয়ে সোমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলার সময় আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল জানান, গত ১২ মাসে পাঁচজন আন্তর্জাতিক অধিনায়ক স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন। এর মধ্যে চারজন পূর্ণ সদস্য দেশের। একমাত্র পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ করেন।

মার্শাল বলেছেন, গত ১২ মাসে ৩২টি তদন্ত হয়েছে। যেখানে আটজন খেলোয়াড়কে সন্দেহভাজন হিসেবে পাওয়া গেছে। আবার পাঁচজন রয়েছে প্রশাসক অথবা ক্রিকেট খেলে না এমন। তিনজনকে ইতিমধ্যেই শাস্তি দেয়া হয়েছে। পাঁচজন আন্তর্জাতিক অধিনায়ক স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

এসব অপরাধ থেকে খেলোয়াড়দের দূরে থাকার পরামর্শ হিসেবে মার্শাল ক্রিকেটারদের বোর্ডগুলোর সঙ্গে একসাথে কাজ করার কথা বলেন। 

আরও পড়ুন :

এএ/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়