logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

যেখানে রোনালদো থেকে পিছিয়ে মেসি!

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ১৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৩৫ | আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৪৫
কে সেরা? লিওনেল মেসি না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এ নিয়ে বিতর্ক চলছেই। এর বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞমহলও দু’শিবিরে বিভক্ত। একরকম গোটা ফুটবল বিশ্বই এ বিষয়ে দু’ভাগে বিভক্ত। একে অপরকে ছাড়িয়ে যেতে তাদের দ্বৈরথ চলে মাঠেও। 

bestelectronics
বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত তারকা পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলে বর্তমানে খেলছেন স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবে। আর আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আছেন আরেক স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার সঙ্গে।

ফুটবলের এই মহাতারকাদের জন্য পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড বুকে নাম লেখানো যেন চিরসত্যে পরিণত হয়েছে। মনে হয় যেন তারা প্রতি সপ্তাহেই রেকর্ড ভাঙা-গড়ার মধ্যেই থাকেন। বর্তমানে ফুটবল ইতিহাসে এই তারকাদের ঝুলিতে রয়েছে অনেক বড় বড় রেকর্ড।

তারা দুজনই সবচেয়ে বেশি পাঁচবার করে ব্যালন ডি’অর ট্রফি অর্জন করেছেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে তারা দুজনই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সাতটি করে হ্যাটট্রিকের মালিক। দুজনই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক চারবার করে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শ্যূ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।

তারাই একমাত্র খেলোয়াড় যারা লা লিগায় পরপর সাত মৌসুমে ২৫টির বেশি গোল করেছেন এবং এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি লিগ ম্যাচে গোল পেয়েছেন এই দুজন। উভয়ই ২৭টি করে।

এরকম আরো অনেক রেকর্ড এই দুজনের আছে, যা হয়তো উল্লেখ করে শেষ করা যাবে না। মেসির এমন কিছু রেকর্ড আছে যা হয়তো কেউ কখনো ভাঙতে পারবে না। আবার রোনালদোরও এমন কিছু রেকর্ড আছে, যা ভাঙা হয়তো কোনো খেলোয়াড়, এমনকি মেসির দ্বারাও সম্ভব হবে না। রোনালদো এই রেকর্ডগুলো ভাঙতে হলে মেসিকে অবশ্যই ক্লাব পরিবর্তন করতে হবে।

এমন পাঁচটি রেকর্ড নিচে উল্লেখ করা হলো 

টানা ৬ মৌসুমে ৫০ এর বেশি গোল
প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলায় ধারাবাহিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা, ধারাবাহিকতাই একজন শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়কে অন্যান্য ভাল খেলোয়াড় থেকে আলাদা করে। রোনালদোর মাঠের সাফল্য অনেক বড়, শুধুমাত্র তার ধারাবাহিক পারফম্যান্সের জন্য।

২০০৯ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইডেট থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেয়ার পর প্রত্যেক লা লিগা মৌসুমে কমপক্ষে ৪০টি করে গোল করেছেন, তবে শুধুমাত্র অভিষেক মৌসুম ছাড়া।

তিনিই সবচেয়ে দ্রুততম খেলোয়াড় যিনি লা লিগায় ১৫০ ও ২০০ গোল পেয়েছেন, কম সংখ্যক ম্যাচ খেলে। পর্তুগিজ এই তারকা লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা ছয় মৌসুমে ৫০ এর বেশি গোল করেছেন। 

মৌসুম ও গোলের পরিসংখ্যান নিম্নরূপ
২০১০-১১ মৌসুমে ৫৩ গোল, ২০১১-১২ মৌসুমে ৬০ গোল, ২০১২-১৩ মৌসুমে ৫৫ গোল, ২০১৩-১৪ মৌসুমে ৫১ গোল, ২০১৪-১৫ মৌসুমে ৬১ গোল, ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৫১ গোল

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো শুধুমাত্র লা লিগা কিংবা প্রিমিয়ার লিগেই মরণঘাতী ফিনিশার নন। চ্যাম্পিয়নস লিগেও তিনি দুর্দান্ত।

তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে সকল গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচেই গোল পেয়েছেন।

এছাড়া একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে এক ক্যালেন্ডার বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগের তিন মৌসুমে ১৫টির বেশি গোল করেছেন রোনালদো এবং তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি চ্যাম্পিয়নস লিগের টানা ৮ ম্যাচে গোল পেয়েছেন।

রোনালদোই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলের সেঞ্চুরি করেছেন। এখন পর্যন্ত ১১৪টি গোল করেছেন এই পর্তুগিজ তারকা, যা মেসির চেয়ে ১৭টি বেশি।

যদিও চলতি মৌসুমের লা লিগায় সময়টা ভাল যাচ্ছে না রোনালদোর, তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে তিনি এখনও যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে এগিয়ে। চ্যাম্পিয়নস লিগে ৯টি গোল করেছেন তিনি, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। হয়তো আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি তাকে আর ধরতেও পারবেন না।

উয়েফার ইতিহাসে শীর্ষ তিন গোলদাতা (কোয়ালিফাইং ম্যাচ ছাড়া)
১১৪: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো(ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদ)।
৯৭: লিওনেল মেসি(বার্সেলোনা)
৭১: রাউল গঞ্জালেজ(রিয়াল মাদ্রিদ, শালকে)

টানা চার ক্যালেন্ডার বছরে ৬০ গোল
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সাফল্যের ধারাবাহিকতার আরেকটি উদাহরণ এটি। তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি টানা চার ক্যালেন্ডার বছর ৬০ বা তার বেশি গোল পেয়েছেন। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত।

আর্জেন্টাইন তারকা মেসি তার ক্যারিয়ারে শুধু দুই বছর (২০১০ ও ২০১২) ৬০ বা তার বেশি গোল পেয়েছেন। ২০১২ সালটি মেসির জন্য ছিল একটি অসাধারণ বছর। এই বছরে তিনি ৯১টি গোল পেয়েছেন।

তবে রোনালদোই ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি টানা ৭ বছর (২০১১ থেকে ২০১৭) ক্যালেন্ডার বছরে ৫০ বা তার বেশি গোল দেয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ।

অবশ্য মেসিও ৭ ক্যালেন্ডার বছর ৫০ বা তার বেশি গোল পেয়েছেন। তবে এর মধ্যে টানা ছিল চার বছর। হয়তো মেসি রোনালদোর এই রেকর্ডটিও কোনোদিন ভাঙতে পারবেন না।

রোনালদোর বাৎসরিক গোলের পরিসংখ্যান
২০১১ সালে ৬০ ম্যাচে ৬০ গোল, ২০১২ সালে ৭১ ম্যাচে ৬৩ গোল, ২০১৩ সালে ৫৯ ম্যাচে ৬৯ গোল, ২০১৪ সালে ৬০ ম্যাচে ৬১ গোল, ২০১৫ সালে ৫৭ ম্যাচে ৫৭ গোল, ২০১৬ সালে ৫৭ ম্যাচে ৫৫ গোল, ২০১৭ সালে ৬০ ম্যাচে ৫৩ গোল। 

আন্তর্জাতিক গোল ও সাফল্য
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির চেয়ে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সাফল্য অনেক বেশি। রোনালদো ২০১৬ সালে পর্তুগালকে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা এনে দেন। ২০১৭ সালে ফিফা কনফেডারেশনস কাপে পর্তুগালকে তৃতীয়স্থানে উন্নীত করেন।

অন্যদিকে, মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে কোনো শিরোপা জিতেননি। ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিলেও জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেন।

এদিকে গোলের ক্ষেত্রে পর্তুগিজ তারকা রোনালদো মেসির চেয়ে অনেক এগিয়ে। পর্তুগিজ অধিনায়ক রোনালদোর আন্তর্জাতিক গোল ৭৯টি, যেখানে মেসির গোল ৬১টি। এক্ষেত্রে ১৮ গোলের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে মেসি। বছরে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যার আনুপাতিক বিশ্লেষণে গোলের এই ব্যবধান বড় হলেও মেসির এখনও সময় আছে রোনালদোর এই রেকর্ড তাড়া করার। সেটি এবারের বিশ্বকাপ আসরও হতে পারে।

লা লিগায় ম্যাচ অনুপাতে গোল
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো লা লিগায় এখন পর্যন্ত ২৭৯ ম্যাচ খেলেছেন। গোল করেছেন ২৮৯টি। অন্যদিকে, মেসি খেলেছেন ৪০১টি ম্যাচ, গোল করেছেন ৩৬৬টি।

লা লিগায় মেসির ম্যাচ প্রতি গোলের অনুপাত হচ্ছে ০.৯১ শতাংশ, আর রোনালদোর গোলের অনুপাত ১.০৪ শতাংশ। যদিও এক্ষেত্রে দুজনের আনুপাতিক ব্যবধান ০.১৩ শতাংশ, তবে মেসির জন্য এই রেকর্ডটিও ভাঙা কঠিনই হবে। তাছাড়া রোনালদো ফর্মে ফিরলে এই ব্যবধান আরো বড়ও হতে পারে।

আরও পড়ুন

এএ

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়