
চলতি কাতার বিশ্বকাপে 'জি' গ্রুপে ব্রাজিল ছাড়া বাকি তিন দলের সামনেই সুযোগ ছিল নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার। যার মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থানে ছিল সুইজারল্যান্ড। সার্বিয়ার বিপক্ষে ড্র কিংবা জয় পেলেই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত ছিল সুইসদের সামনে।
এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়েও সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এক পর্যায়ে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত সার্বিয়াকে কাঁদিয়ে ৩-২ ব্যবধানের জয় পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। যার সুবাদে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েই পরের রাউন্ড নিশ্চিত করল ইউরোপিয়ান জায়ান্টরা।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দোহার স্টেডিয়াম ৯৭৪'এ গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের শুরু থেকেই সুইজারল্যান্ডকে চেপে ধরেছিল সার্বিয়া। সার্বিয়ার মুহুর্মুহু আক্রমণে দিশেহারা হয়ে উঠেছিল সুইসরা। তবে নির্খুত ফিনিশিংয়ের অভাবে ডি-বক্সের ভেতর বল নিয়ে গিয়েও গোলবঞ্চিত হয় সার্বিয়া।
স্রোতের বিপরীতে থাকা সুইজারল্যান্ড প্রথম সুযোগ পেয়েই কাজে লাগান। ২১তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সুইস দলের তারকা ফরোয়ার্ড শাকিরি গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। তার বাঁ পায়ের শট দারুণভাবে সার্বিয়ার জালে জড়িয়ে গেলে ১-০ গোলের লিড পায় সুইজারল্যান্ড।
এদিকে গোল হজম করে সার্বিয়া যেন আরও আক্রমণাত্বক হয়ে ওঠে। যার ফলও দ্রুত পেয়ে যায় তারা। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে মিত্রোভিচ গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। ট্যাডিচের বাঁ পাশ থেকে দারুণ এক ক্রস হেড করে বল জালে জড়ান ফুলহ্যামের এই স্ট্রাইকার।
প্রথম গোলের ৯ মিনিট পরে আবারও জাদু দেখায় সার্বিয়া। ৩৬তম মিনিটে আবারও ট্যাডিচের বাড়ানো ক্রস থেকে গোল করে শুরুতে পিছিয়ে থাকা দলকে লিড এনে দেন দুসান ভালেহোভিচ।
তবে সার্বিয়ার এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি সুইজারল্যান্ডের তারকা এমবোলো। প্রথমার্ধের বিরতিত ঠিক ২ মিনিট আগে এবারের বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবোলো। ফলে ২-২ গোলের সমতায় দুই দলের প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়।
বিরতি থেকে ফিরেই ম্যাচের জয়সূচক গোলটি পেয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। ৪৮তম মিনিটে ফ্রেউলারের দারুণ এক গোলে আবারও এগিয়ে যায় সুইসরা। এরপর দুই দল একের পর চেষ্টা করেও জালের দেখা পায়নি। সার্বিয়া অনেক চেষ্টা করেও ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়ে। আর ৩-২ গোলের জয়ে নকআউটে ওঠার উল্লাসে মাতে সুইজারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা।




