DMCA.com Protection Status
  • ঢাকা বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬

বিশেষ সাক্ষাৎকার

‘কার্ডিফ সবসময়ই অনুপ্রেরণার’

জাফর উল্লাহ সোহেল
|  ০৯ জুন ২০১৭, ১১:২৫ | আপডেট : ০৯ জুন ২০১৭, ১১:৫৫
২০০৫ সালের ১৮ জুন ইংল্যান্ডের কার্ডিফে তখনকার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি করে সেই ম্যাচের নায়ক ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। আরেকটি কার্ডিফ কাব্যের মঞ্চ প্রস্তুত। এবার কি পারবে বাংলাদেশ? কার্ডিফের সুখস্মৃতির পাশাপাশি এ ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন লিটল মাস্টার খ্যাত আশরাফুল। আরটিভি অনলাইনের জন্য সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অতিথি লেখক জাফর উল্লাহ সোহেল।

সোহেল : শুরুতেই কার্ডিফ প্রসঙ্গে আসি। কেমন লাগছে আপনার- এক যুগ পর কার্ডিফে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ...

আশরাফুল : শুধু অনুভূতির কথা যদি বলেন- এক কথায় অসাধারণ। জয় পরাজয় পরের বিষয়, বাংলাদেশ যে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলছে তাতেই ভালো লাগছে। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলও কিন্তু এ টুর্নামেন্ট খেলতে পারছে না। আর কার্ডিফের কথা আলাদাভাবে যদি বলেন, অবশ্যই সেই ক্ষণগুলোর কথা মনে পড়ছে। এক ধরনের নস্টালজিয়া বলতে পারেন। জুন মাস আসলেই প্রতিবছর কোনো না কোনোভাবে কার্ডিফের স্মৃতি নাড়া দেয়। সুখের স্মৃতি কি না....

সোহেল : এক যুগ আগে কার্ডিফে যখন বাংলাদেশ নামে তখন দলের একমাত্র আশার প্রদীপ ছিলেন আপনি। সেঞ্চুরি করে অজিদের নাক কেটে তার প্রমাণও রেখেছিলেন। আজ যখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা শুরু হবে তখন আপনি টেলিভিশনের সামনে কেবলই দর্শক। কতটা মিস করছেন?

আশরাফুল : অবশ্যই, দারুণ মিস করছি। কতটা তা তো আর মাপা যাবে না, তবে মিস করছি। সবসময় মিস করি। বাংলাদেশ কোথাও বাইরে খেলতে গেলেই টিভিতে যখন খেলা দেখি খুব মিস করি। বিশেষ করে জাতীয় দলের লাল-সবুজ জার্সিটা বেশি টানে, অনেক বেশি নস্টালজিক করে .....

সোহেল : আচ্ছা, কার্ডিফ কাব্য কীভাবে সম্ভব হলো? ম্যাচের আগে সেরকম কিছু কি ভেবেছিলেন নাকি অজিদের ইনিংসের পর মনে হয়েছিল ...... তখনকার বাংলাদেশ তো অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বপ্নও দেখতো কি না সন্দেহ !

আশরাফুল : না, স্বপ্ন দেখতাম না তা ঠিক নয়। তবে এটা ঠিক, বাংলাদেশ তখনো সেই মাপের দল হয়ে ওঠেনি যে অস্ট্রেলিয়াকে হারাবে। সেই ম্যাচের আগে তেমন কোনো পারফরম্যান্সও ছিল না। তবে আমাদের দলে কয়েকজন নতুন পারফরমার তৈরি হয়েছিল। যেমন মাশরাফি বিন মর্তুজা তখন নিয়মিত ভালো বল করত এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে পারত। আফতাব আহমেদ ভালো স্ট্রোক প্লেয়ার ছিল। হাবিবুল বাশার ভাই নিয়মিত রান করতেন। তবে সবকিছু একত্রে প্রতিফলন হত না। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচে জয় নিয়ে আমরা চিন্তা শুরু করি তাদের ইনিংসের পর। বোলাররা তাদের আড়াইশ রানের মধ্যে আটকে দেয়ার পর আমরা একটা চেষ্টা নেয়ার কথা ভাবি। এরপর আমি যখন দু’তিনটা ‘চার’ মেরে দিই, তখনই আমার কেমন যেন মনে হয়েছিল- ‘আজ আমরা জিতব’!

সোহেল : তো শেষ পর্যন্ত তো জিতেই গেলেন, বলা যায় আপনিই জেতালেন- ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরি করলেন, তাও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, জয়ের পর কী অনুভূতি হয়েছিল মনে পড়ে?

আশরাফুল : মনে পড়বে না কেন, সেই অনুভূতি কি ভোলার .... ?  মনে হয়েছিল বিশ্ব জয় করেছি। দলের সবারই একই অনুভূতি ছিল। একজন আরেকজনের ওপর লাফিয়ে লাফিয়ে পড়ছিলাম আমরা। খুশিতে অনেকেরই চোখ ভিজে এসেছিল। সারাজীবন ওই মুহূর্তগুলো মনে থাকবে। কখনোই ভুলব না। কার্ডিফ আসলে সবসময় অনুপ্রেরণার। এরপর থেকে কিন্তু আমরা বড় দলের বিপক্ষে জয়ের চিন্তা করেই মাঠে নামতাম। সে সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়গুলো এসেছিল কার্ডিফের আত্মবিশ্বাসের পথ ধরেই।

সোহেল : এবার বর্তমানে আসি। কী মনে হয়, কার্ডিফে আজ কত রান হলে প্রথমে ব্যাট করা দল নিরাপদ থাকতে পারে?

আশরাফুল : আমার মনে হয় ২৭০-২৮০। কারণ, সেখানে খুব বেশি বড় স্কোর হয় না। বোলাররা কিছুটা সুবিধা পায়। কিছু কিছু বল একটু লাফিয়ে আসে। শুরুর দিকে ব্যাটসম্যানদের একটু দেখে খেলতে হবে। ঠিক রান উৎসব বলতে যা বোঝায় তা সেখানে হবে না।

সোহেল : বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটুকু ?

আশরাফুল : বৃষ্টি না হলে খুব ভালো সম্ভাবনাই আছে বলব। নিউজিল্যান্ড তুলনায় কিছুটা ভালো দল। বোলিংয়ে তারা এগিয়ে থাকবে। তবে ব্যাটিংয়ে দু’দলের শক্তির মধ্যে এখন খুব বেশি ফারাক নেই। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অনেক সফলতা আছে। দেশের মাটিতে তাদের দু’বার বাংলাওয়াশের অভিজ্ঞতা যেমন আছে, তেমন গেলো মাসেই দেশের বাইরেও হারানোর অভিজ্ঞতা আছে। সুতরাং এখন যেকোনো পর্যায়ের ম্যাচেই কিউইদের বিপক্ষে সমানতালে লড়ার সামর্থ্য আমাদের আছে। ব্যাটিংয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে এ ম্যাচেও বাংলাদেশ জিতবে। বিশেষ করে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের বা মুশফিক, সাব্বির ও সাকিবের কেউ একজন ইনিংসটা শেষ পর্যন্ত ক্যারি করলে বাংলাদেশ ভালো স্কোর পাবে।

সোহেল : এ মাঠে কোনটা ভালো- আগে ব্যাটিং না পরে?

আশরাফুল : আমার মনে হয় চেজ করাটাই ভালো হবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে অবশ্যই আগে বোলিং করাটা সুবিধাজনক হবে। কার্ডিফে যেহেতু আমরা চেজ করেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছি, অনেক আগের হলেও মাশরাফির নিশ্চয়ই সেই ম্যাচের কথা মনে আছে। সে এখানে চেজ করেই জিততে চাইবে। আর বাংলাদেশ কিন্তু চেজিংয়ে ইদানিং ভালো করছে। নিউজিল্যান্ডকে যদি ২৬০-এর মধ্যে আটকানো যায় ফলটা বাংলাদেশের ঘরেই আসবে।

সোহেল : ধরে নিই বাংলাদেশ সেমিতে চলে গেল, ফাইনালের স্বপ্ন কি দেখেন?

আশরাফুল : স্বপ্ন তো দেখাই যায়। তবে এটা বেশ কঠিন হবে। সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ভারত-পাকিস্তান-আফ্রিকা যাদের সাথেই পড়ুক, খেলা হবে সমানে সমান। এদের সবাইকেই ওয়ানডে সিরিজে হারানোর অভিজ্ঞতা আছে আমাদের। এর মধ্যে ভারত বেশ শক্তিশালী দল। পারফেক্ট অলরাউন্ডারে ঠাঁসা দলটি টুর্নামেন্টে শিরোপার অন্যতম দাবিদারও। তারপরও ক্রিকেট আসলে নির্দিষ্ট দিনের খেলা। সেদিন যারা ভালো ক্রিকেট খেলবে তারাই জিতবে। সে হিসেবে কোনো কিছুকেই উড়িয়ে দেয়া যায় না।

সোহেল : আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্যে।

আশরাফুল : আপনাকেও ধন্যবাদ।

ডিএইচ 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়