ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

পিএসএল নিয়ে পাকিস্তানের উন্মাদনা, বিপিএল কেন ঘুমিয়ে!

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:০১ পিএম

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কার্যালয়ের দরজা খুলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধান রমিজ রাজা বলছেন, ‘পিএম, সময় হয়েছে’। রমিজ রাজার এমন কথার জন্যই যেন অপেক্ষা করছিলেন ইমরান খান।

রমিজের কথা শুনে দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে ইমরান খান বলছেন, ‘পাকিস্তান সুপার লিগের সপ্তম আসর আসছে।’ আজ ২৭ জানুয়ারি পর্দা উঠছে পিএসএলের সপ্তম আসরের।

২০০৯ সালে দেশটিতে শ্রীলঙ্কা দলের টিম বাসের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হওয়ার পর থেকে লম্বা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ ছিল। এখনও সেটি স্বাভাবিক হয়নি। অনেক চেষ্টার পর কয়েকটি দল পাকিস্তান সফর করলেও, দ্বিতীয়বার ভাবে পাকিস্তান সফরে যাবে কি না।

এমন অবস্থার ভেতর থেকেও ২০১৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভেন্যু ভাড়া করে শুরু হয় পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। গোটা আসরের একটি ম্যাচও হয়নি পাকিস্তানে।

এরপর ২০১৭ সালে আসরের সবকটি ম্যাচ আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হলেও ফাইনাল ম্যাচটা সফলভাবে আয়োজন হয় পাকিস্তানে। ২০১৮ সালে দুটি এলিমিনেটর ও ফাইনাল আয়োজন হয় পাকিস্তানে, বাকি সব ম্যাচ আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৯ সালের আসরে ফাইনালসহ শেষ দিকের ৮টি ম্যাচ আয়োজন হয় পাকিস্তানে। এভাবেই ধীরে ধীরে পিএসএল পুরোপুরি পাকিস্তানে নিয়ে আসতে সক্ষম হয় পিসিবি। সবশেষ ২০২০ সালের গোটা আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তানে।

২০১৬ সালে শুরু হবার পর পাকিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে কী না এ নিয়েও দুশ্চিন্তা ছিল। কিন্তু পিসিবি সেটি নিখুঁতভাবে চালিয়ে নিয়েছে সামনের দিকে।

শুধু আয়োজনেই শেষ নয়, দিন দিন উন্নতি করছে পিএসএল। যা বর্তমানে পাকিস্তান ক্রিকেটের আয়ের অনেক বড় খাত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

অথচ এখন থেকে তিন আসর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালের আসরেও পিসিবি লিগটি সরাসরি সম্প্রচার করাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরত সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠানের।

সেই পিএসএল এবার সম্প্রচার করবে বিশ্বের ১৮ টি দেশে ৪০টি চ্যানেলে। অস্ট্রেলিয়ায় ফক্স স্পোর্টস, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে স্কাই স্পোর্টস, আফ্রিকান অঞ্চলে সুপারস্পোর্টস। উপমহাদেশে টেন স্পোর্টস ও পিটিভি স্পোর্টস দেখাবে পিএসএল। সম্প্রচার ও স্পন্সরশীপ থেকে পাওয়া ৮০ শতাংশ অর্থ আবার ভাগ করে দেয়া হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মধ্যে। বাকি অর্থ জমা হয় পিসিবির কোষাগারে।

অস্ট্রেলিয়ার ফক্স স্পোর্টস প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে পিএসএলের সঙ্গে। অথচ ফক্স স্পোর্টস সরাসরি সম্প্রচার করেনি নিজের দেশের খেলাও (বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ২০২১)।

পিএসএলের ডিরেক্টর সালমান নাসের সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, “পিএসএল বৈশ্বিক একটা ব্র্যান্ড এখন। নতুন আসরের স্পন্সরশীপ ও প্রচারসত্ত্ব ২০০ ভাগ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।”

চলতি বছর প্রায় একই সময়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অষ্টম আসর। ২০১২ সালে শুরু হওয়া বিপিএল নিয়মিত আয়োজন হলে এবার ১১তম আসর মাঠে গড়াতো। কিন্তু বিপিএল যেন গলার কাঁটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)।

প্রতি বছর পিএসএল যেখানে উন্নতির ধারা অব্যাহত রেখেছে, সেখানে বিপিএল যেন হারিয়ে যাবার উপক্রম। বিদেশি নিম্নমানের খেলোয়াড়দের নিয়ে এসে কোনও মতে লিগ আয়োজন করেই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচা। আর সেখানে পিএসএলের দলগুলো দেখলে বোঝা যায় তারা খেলোয়াড় নির্বাচনে কতটা সতর্ক।

করোনা মহামারীর দোহাই দিয়ে এবারের বিপিএলে নেই ডিআরএস, বিদেশি আম্পায়ার, স্বনামধন্য ধারাভাষ্যকার। এমন কী নিন্মমানের গ্রাফিক্স দিয়ে দায়সারা আয়োজন চলছে বিপিএলের।

পিএসএলের এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন দল যেখানে ৯০ মিলিয়ন (পাকিস্তানি রুপি) পাবে যেখানে বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন দল পবে মাত্র ১কোটি টাকা। গোটা আসরে ১৩০ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি থাকছে শুধু পুরুস্কারের জন্য। যা গত আসরে ছিল ১১২ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি।

করোনার দোহাই দিয়ে দর্শক প্রবেশের অনুমতিও শেষ মুহূর্তে উঠিয়ে নেয় বিসিবি। অথচ করোনা মাথায় নিয়েও কোভিড ভ্যাকসিন সনদ নিশ্চিত করে প্রতি ম্যাচে প্রায় ৫০ শতাংশ দর্শক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে পিসিবি। বিসিবি কী পারত না?

এম/

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিএসপিএ’র ষাট বছর পূর্তি / পুরস্কার পেয়েও প্রত্যাখ্যান করলেন কাজী সালাউদ্দিন
বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) কর্তৃক নির্বাচিত দেশের স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছরে সেরা ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। যেখানে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন বর্তমান বাফুফে ও সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও সাবেক ফুটবলার কাজী মো. সালাউদ্দিন। কিন্তু সে পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার।   শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিএসপিএ’র ষাট বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের ১০ জন ক্রীড়াবিদকে সম্মাননা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় ক্রীড়াবিদের নাম ঘোষণার পরপরই বাফুফে সভাপতি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। সেই ঘটনায় বিষয়ে শনিবার এক বৈঠকে বসেছিল বাফুফের নির্বাহী কমিটি। এই সভায় বিএসপিএ’র দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে একথা জানিয়েছে বাফুফে।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অন্যতম খেলোয়াড়, শহীদ শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার প্রাপ্ত এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) পরপর চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনকে প্রদত্ত 'দ্বিতীয় সেরা ক্রীড়াবিদ'এর পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে উক্ত প্রহসণের পুরস্কার প্রদান আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে অবমাননা করার শামিল এবং একই সঙ্গে ক্রীড়াঙ্গন তথা ফুটবল সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য অবমাননাকর।’ এদিকে বিএসপিএ’র দ্বিতীয় হওয়ার পুরস্কারের অর্থের চেক এবং ক্রেস্ট ফিরিয়ে দিয়েছে বাফুফে কার্যনির্বাহী কমিটি। বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির কার্যালয়ে তা ফিরিয়ে দিয়েছে তারা।  আরও পড়ুন- বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদ সাকিব আরও পড়ুন- ক্রীড়াবিদদের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও পাচ্ছেন বিএসপিএ সম্মাননা
পুরস্কার পেয়েও প্রত্যাখ্যান করলেন কাজী সালাউদ্দিন
আবারও দেখা যাবে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ!
ফুটবল বিশ্বের দুই এলিয়েন-লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। নিজেদের রাজ্যে এ যুগলের রাজত্ব মুগ্ধ করেছে গোটা পৃথিবীর ফুটবল প্রেমীদের। কিন্তু সেই ২০১৮ সালে স্প্যানিশ লিগ ছেড়ে দেওয়ার পর দুজন খেলছেন আলাদা লিগে। তবুও চ্যাম্পিয়নস লিগের কারণে এই দুই তারকার দ্বৈরথ দেখেছিল বিশ্ব।  কিন্তু পর্তুগিজ তারকা রোনালদো এশিয়ান ফুটবলের ক্লাব আল নাসেরে যোগ দেওয়ায় এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মিলিত হওয়ার সম্ভাবনার শেষ দেখে ফেলেছিল সবাই। তবে আশার কথা হচ্ছে, নতুন বছরের শুরুতেই এই দুই তারকার দ্বৈরথ দেখবে বিশ্ববাসী। হয়তো এই সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে শেষবারের মতো! জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব যাবে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। সেই ম্যাচে লিওনেল মেসিদের বিপক্ষে খেলবে আল হিলাল ও আল নাসের ক্লাবের আদলে সাজানো দল। আর এই ম্যাচের একাদশে আল নাসেরের হয়ে রোনালদোকে মাঠে নামতে দেখা যেতে পারে।  সবশেষ ২০২০ সালে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ দেখেছিল ফুটবলপ্রেমীরা। দুই বছর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেই ম্যাচে রোনালদোর জোড়া গোলে  মেসির বার্সেলোনাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাস। আরও পড়ুন- রোনালদোর আল নাসের ক্লাবের অজানা ইতিহাস
আবারও দেখা যাবে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ!
বিপিএলে শুধু এলিমিনেটর ও ফাইনালে থাকবে ‘পূর্ণ’ ডিআরএস
আধুনিক ক্রিকেটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হচ্ছে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)। এই প্রযুক্তি ক্রিকেট মাঠে আম্পায়ারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) আসন্ন বিপিএলে প্রযুক্তিগত দিক থেকে আগের আসরের চেয়ে আরও ভালো কিছু করতে মরিয়া। কিন্তু আসরের শুরুতে এর পূর্ণতা দেখা যাবে না। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ঈসমাইল হায়দার মল্লিক সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানিয়েছেন।   আগামী ৬ জানুয়ারি শুরু হবে সাত দলের ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক বিপিএল টি-টোয়েন্টির নবম আসর। কিন্তু আন্তর্জাতিক সূচিতে ঠাসা ম্যাচের কারণে ডিআরএস প্রযুক্তি টুর্নামেন্টের শুরু থেকে পাচ্ছে না বোর্ড। তবে এলিমিনেটরের তিন ম্যাচ ও ফাইনালে দেখা যাবে পূর্ণ ডিআরএস প্রযুক্তি। ঈসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘আপনার জানেন মাত্র ভারত সিরিজ শেষ হলো। ৬ তারিখে আমাদের টুর্নামেন্ট শুরু। ডিআরএসের ব্যাপারটা হলো, এটা এলিমিনেটরে থাকবে। তিনটা ম্যাচ হয়, আরেকটা ফাইনাল। এখানে কমপ্লিট ডিআরএস থাকবে। আর বাকি ম্যাচগুলোতে আমরা একটা অল্টারনেট ডিআরএস দেওয়ার চেষ্টা করছি।’ পূর্ণ ডিআরএস আনতে না পারার কারণ এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সারা বিশ্বে সব জায়গায় এই সময় অনেক খেলা হচ্ছে। ডিআরএসের জন্য দুইটা কোম্পানি এভেইলেবল থাকে- হক আই আর ভার্চুয়াল আই। বেসিক্যালি হক আই যেটা সেটা এভেইলেবল না। ভার্চুয়াল আই সাধারণত অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের ওখানে করে। হক আই যেহেতু দ্বিপক্ষীয় সিরিজে চুক্তিবদ্ধ থাকে, তাই শুধু এলিমিনেটরে আমরা আনতে পারবো।’
বিপিএলে শুধু এলিমিনেটর ও ফাইনালে থাকবে ‘পূর্ণ’ ডিআরএস
পেলের মৃত্যুর খবর জানেন না তার শতবর্ষী মা
না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে। কোলন ক্যান্সারের কাছে হার মেনে ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ফুটবলের এই সম্রাট। বৈশ্বিক ফুটবলের এই আইকনের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পুরো বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গন। কিন্তু ছেলের মৃত্যুর ব্যাপারে কিছুই জানেন না পেলের মা দোনা সেলেস্তে। বরং তাকে এই কথা শোনানোই হয়নি।  পেলের ৭৮ বছর বয়সি বোন মারিয়া লুসিয়া দো নাসিমেন্তো জনপ্রিয় ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন কথাই জানিয়েছেন।  সম্প্রতি শতবর্ষে পা রেখেছেন পেলের মা। মহীয়সী এই নারীকে কিছুদিন আগেই ‘বর্ষসেরা ব্রাজিলিয়ান মা’ ঘোষণা করেছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ও গ্লোবো। তিনি জানতেন যে, পেলে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কিন্তু এখনো মৃত্যুর ব্যাপারে অবগত নন দোনা সেলেস্তে। পেলের বোন মারিয়া বলেছেন, ‘আমরা কথা বলেছি কিন্তু তিনি মৃত্যুর ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তার একটি নিজস্ব জগত আছে, সেখানে তিনি ভালোই আছেন। মাঝেমধ্যে আমি তাকে বলেছি, ‘সেলেস্তিকা, দিকোকে (পেলে) দেখতে এমন লাগে এখন। তিনি চোখ খুলে শুধু বললেন, পেলের জন্য প্রার্থনা করো।’   গত ২৯ নভেম্বর সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পেলে। কিন্তু তার শরীরে কেমো থেরাপি কাজ করছিল না। তখনই ফুটবলের রাজা বুঝতে পেরেছিলেন তার জীবনের শেষ সময় হয়ে এসেছে। এমনটাই জানান তার বোন মারিয়া।  মারিয়া বলেন, ‘খুবই কঠিনভাবে কাটছে সময়। আমরা কেউই চিরন্তন নই, তবে তার চলে যাওয়ার খবর আমাদের হৃদয়কে খুব শক্ত করে তুলেছে। এটা মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু মৃত্যু জিনিসটা ইশ্বরের হাতে। আমরা তার সঙ্গে ছিলাম। কিছু কথাও বলেছি। আমি জানতাম সে চলে যাচ্ছে। কথা বলার সময়ে সে বেশ ধার্মিক ছিল। সে বলেছিল, ইশ্বর তাকে ডাকছে।’ উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ফুটবল বিশ্বে ‘কালো মানিক’ খ্যাত পেলে। এই কিংবদন্তির প্রয়াণের খবর শোনার পর থেকেই শোকস্তব্ধ বিশ্বের সব ক্রীড়াঙ্গন। ব্রাজিল সরকার সেদেশে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। 
পেলের মৃত্যুর খবর জানেন না তার শতবর্ষী মা
রোনালদোর আল নাসের ক্লাবের অজানা ইতিহাস
ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে টানা ২০ বছর দাপটের সঙ্গে খেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ এই স্ট্রাইকার ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির পাঠ চুকিয়ে এবার যোগ দিলেন এশিয়ার ফুটবলে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরের সঙ্গে আড়াই বছরের চুক্তি করেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে নিজের দুই দশকের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে চান পর্তুগিজ এই তারকা।   সৌদি আরবের স্থানীয় গণমাধ্যম ‘সৌদি গেজেট’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষে সৌদি ফুটবলের দূত হিসেবেও কাজ করবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফলে মুসলিম প্রধান এই দেশটির আল নাসের ক্লাবকে নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন নতুন প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে।  সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোর অন্যতম একটি ক্লাব আল নাসের। দেশটির রাজধানী রিয়াদভিত্তিক ক্লাবটি ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ক্লাবটি সৌদির শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতা সৌদি প্রফেশনাল লিগে (এসএফএল) খেলে। প্রতিযোগিতার অন্য নাম আবদুল লতিফ জামিল লিগ বা দাউরি জামিল। আল নাসের ক্লাবে রোনালদো সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে হারানো ক্যামেরুন অধিনায়ক ভিনসেন্ট আবুবকর, কলাম্বিয়ান গোলরক্ষক ডেভিড ওসপিনা, বায়ার্ন মিউনিখের ব্রাজিলিয়ান সাবেক মিডফিল্ডার লুইস গুস্তাভো ও বেনফিকার মিডফিল্ডার তালিসকাকে। এ ছাড়া সৌদি আরবের ছয় ফুটবলার, যারা গত বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ছিলেন।  এই ক্লাবের প্রধান কোচের দায়িত্বে আছেন সাবেক ফরাসি ফুটবলার রুডি গার্সিয়া। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি লিগ’আর ক্লাব লিল-এর হয়ে খেলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে গার্সিয়া ২৮ বছর ধরে কোচিংয়েড় সঙে জড়িত। ফ্রান্সের লিগ’আর ক্লাব মার্শেই ও লিঁওর কোচ ছিলেন তিনি। ৩ বছর ছিলেন ইতালিয়ান ক্লাব রোমার দায়িত্বেও। এরপর চলতি বছর তিনি আল নাসেরে যোগ দেন।  সর্বকালের সেরা  ১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া সৌদি আরবের ঘরোয়া লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৯ বার) শিরোপা জিতেছে আল নাসের ক্লাব। এই লিগে গত তিন আসরে চ্যাম্পিয়ন আল হিলাল ক্লাব সর্বোচ্চ ১৮ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। রোনালদোর ক্লাব সর্বশেষ ২০১৮-১৯ মৌসুমে শিরোপা জিতেছে।  ইউরোপের মতো সৌদি আরবের ফুটবল মৌসুমও শুরু হয় আগস্ট মাসে। যেখানে ‘হোম-অ্যাওয়ে’ ভিত্তিতে ১৬টি দল দুবার করে একে অপরের মুখোমুখি হয়।  যেখানে প্রতিটি দল ৩০টি করে ম্যাচ খেলে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী দল শিরোপা জেতে। আর লিগের সেরা তিনটি দল এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলে।  আরও পড়ুন- পেলের মৃত্যুতে সাও পাওলোয় ফিরছেন শোকাহত ব্রাজিলিয়ানরা সৌদি প্রফেশনাল লিগের পাশাপাশি কিংস কাপ, ক্রাউন প্রিন্স কাপ, ফেডারেশন কাপ এবং সৌদি সুপার কাপেও খেলে আল নাসের। এ ছাড়া আঞ্চলিক পর্যায়ে জিসিসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং মহাদেশীয় পর্যায়ে এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপ ও এশিয়ান সুপার কাপে শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতাও আছে ক্লাবটির। চলতি ২০২২-২৩ মৌসুমে সৌদি আরবের লিগে এখন পর্যন্ত ১০ রাউন্ডের খেলা হয়েছে। যেখানে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে রিয়াদভিত্তিক ক্লাব আল শাবাব। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আল নাসের ক্লাবের ২৩ পয়েন্ট।  আর আল হিলালের অবস্থান ২১ পয়েন্ট নিয়ে চারে।  আল নাসের ক্লাবের নিজস্ব স্টেডিয়ামও রয়েছে। দলটির হোম ভেন্যু কিং সউদ ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামে ২৫ হাজার ধারণক্ষমতার মাঠটি চালু হয় ২০১৫ সালে। গত বছর আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার স্মরণে বার্সেলোনা ও বোকা জুনিয়র্সের মধ্যকার একটি প্রীতি ম্যাচ এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। 
রোনালদোর আল নাসের ক্লাবের অজানা ইতিহাস
আরও পড়ুন
‘বিপিএল নির্ধারিত সময়েই হবে’
ভেন্যু বাড়িয়ে চূড়ান্ত হলো পিএসএল-৮ এর সময়
বিপিএলের বিপদ বাড়াচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা
বিপিএল ইস্যুতে সাকিবের সঙ্গে একমত নন পাপন