Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ১ আষাঢ় ১৪২৮

আক্ষেপ নিয়েই থামলেন তেভেজ?

messi ronaldo tevez, rtv online
ছবি- সংগৃহীত

কার্লোস তেভেজের মাঠের চরিত্র সবার জানা। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ক্ষমতা থাকার কারণে তাকে বলা হয় এল অ্যাপাচে তথা খলনায়ক। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড বোকা জুনিয়র ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে এখানেই ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন তিনি।

২০০১, ২০১৫ ও ২০১৮ তিন দফা আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক ক্লাবটির জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন তেভেজ। এতে তিনি বলেন, ‘শারীরিকভাবে আমি এখনও খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে মানসিকভাবে নয়। এখানেই শেষ নয়। আবারও দেখা হবে। জানি না অবসর নিচ্ছি নাকি। যদি ফুটবলে ফিরি তাহলে বোকায় আর দেখা যাবে না।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছেন তেভেজ। জুভেন্টাসের পক্ষে সিরি আ’ ট্রফিতে চুমু খেয়েছেন। দুটি লিগ শিরোপা তুলেছেন তৃতীয় দফায় ২০১৮ সালে বোকায় যোগ দিয়ে।

সম্প্রতি বুয়েন্স আর্য়াসের দলটিকে কোপা লিবার্টাডোরেসর শেষ ষোলতে উঠতে সহায়তা করেছেন তেভেজ। আগামী জুলাইয়ে মহাদেশীয় এই টুর্নামেন্টে ব্রাজিলিয়ান দল অ্যাতলেটিকো মিনেইরোর বিপক্ষের নামার কথা বোকার। তার আগেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

‘আমার জীবনের অন্যতম দুঃখের দিন এটি। তবে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি খুশী। আমার মানসিকভাবে শতভাগ ফিট নই। তাই আমার মনে হচ্ছে এখানেই থামা উচিৎ।’

২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ২০০৪ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে অলিম্পিকে সোনাও জিতেছেন তেভেজ।

‘আমি বেশ ভালোই ফর্মে ছিলাম। তবে আমার থেকে বোকা ১২০% আশা করে। বর্তমানে আমি তা দিতে ব্যর্থ। এমনকি নিজেদের বাবার মৃত্যুর শোকও প্রকাশ করতে পারিনি (তিন মাস আগে মৃত্যু হয়)। খেলার জন্য চলে আসতে হয়। এখনে আমার পরিবারের পাশে থাকার সময় এসেছে।’

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ৭৩ ম্যাচ খেলেছেন। তুলেছেন ১৩ গোল। ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন লিওনেল মেসির সঙ্গে। তিনবার কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছেন। তবু জাতীয় দলের হয়ে কোনও শিরোপা তুলতে পারেননি।

তেভেজকে ‘জনগণের খেলোয়াড়’ হিসেবেও ডাকা হয়। ভোটের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার তিনবার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৩ সালে বোকা জুনিয়র্সের হয়ে কোপা লিবার্টাডোরেস ও ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলেন। ২০০৫ সালে কোরিনথিয়ানসের পক্ষে ব্রাজিলিয়ান লিগ শিরোপাও জিতে নেন।

২০০৬ সালে ওয়েস্টহ্যামে যোগ দিয়ে ইংল্যান্ডে সাত মৌসুম কাটান তেভেজ। তার গোলে লিগের শেষ ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারাতে সক্ষম হয় ওয়েস্ট হ্যাম। ফলে দলটি রেলিগেশন এড়িয়ে পরের মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকে। এতে দলটির সমর্থকরা আজীবন মনে রাখবে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে।

পরের মৌসুমেই স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন তেভেজকে নিজেদের করে নেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-ওয়েন রুনিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ২০০৭/০৮ মৌসুমে রেড ডেভিলসদের ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন, ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে সহায়তা করেন তিনি।

দুই মৌসুম পর তুমুল আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়ে ম্যানইউর নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানসিটিতে যোগ দেন। সিটিজেনদের হয়ে চার বছর কাটিয়ে একটি প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপ জয় করেন।

শুরু হয় জুভেন্টাস অধ্যায়। প্রথম মৌসুমে ইতালিয়ান দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ২১ গোল করেন। লিগের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন। ২০১৩/১৪ ও ২০১৪/১৫ মৌসুমে দুটি সিরি আ’, একটি কোপা ইতালিয়া ও একটি সুপার কোপা ইতালিয়ানা জয় করেন।

২০১৫ সালে এক মৌসুমের জন্য বোকায় চলে যান। সেখানে কোপা আর্জেন্টিনা শিরোপা তুলেন। ২০১৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দেন সাংহাই সেনহুয়ায়। চাইনিজ সুপার লিগের দলটির পক্ষে এফএফ কাপের শিরোপা তুলেন। ইনজুরির কারণে চীনে স্থায়ী হতে পারেননি। ২০১৮ সালে প্রিয় দল বোকায় জুনিয়র্সে পাড়ি জমান। প্রথম মৌসুমে সুপার লিগা জয়ী হন। ২০২০ সালের মার্চে তার গোলেই লিগ শিরোপা নিজেদের করে নেয় বোকা।

গেল বছর এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, নিজের বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনার মেসি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইডের সতীর্থ রোনালদোকে নিয়ে তৈরি করা একাদশে খেলতে চান তেভেজ। জাতীয় দল ও ক্লাব পর্যায়ে যাদের সঙ্গে খেলেছেন তাদের নিয়ে একটি একাদশও সাজিয়েছিলেন তিনি। বিশ্ব ফুটবলের দুই শাসনকর্তাকে এক দলে না খেলানোর আক্ষেপ নিয়েই বিদায় নিতে হচ্ছে ৩৭ বছর বয়সী তেভেজকে।

এক নজরে কার্লোস তেভেজের স্বপ্নের একাদশ

গোলকিপার

জিয়ানলুইজি বুফন (জুভেন্টাস)

ডিফেন্স

হুগো ইবারা (আর্জেন্টিনা ও বোকা জুনিয়র্স), রিও ফার্দিন্যান্ড (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জে (আর্জেন্টিনা), প্যাট্রিস এভরা (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)।

মিডফিল্ড

আন্দ্রেয়া পিরলো (জুভেন্টাস), পল স্কোলস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), পল পগবা (জুভেন্টাস)

ফরোয়ার্ড

ওয়েন রুনি (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)।

ওয়াই

RTV Drama
RTVPLUS