
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় নাম সাকিব আল হাসান। দেশের ক্রিকেটের ব্র্যান্ড বললেও ভুল হবে না। বিশ্ব ক্রিকেটের দরবারে দেশের নাম অনেকবার উজ্জ্বল করেছেন এই বাঁহাতি অল-রাউন্ডার। এখনও যিনি ওয়ানডের সেরা অল-রাউন্ডার। কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা বিব্রত করে বাংলাদেশ দলকে, দেশের ক্রিকেটকে। এই যেমন দেশের হয়ে না খেলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলতে।
আগামী এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা সফরে রয়েছে দুটি টেস্ট। একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে আইপিএলের ১৪তম আসর। তাই এই সময়ে সাকিব দেশের হয়ে খেলবেন না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও তাতে সায় দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করেছে। তার আগে সন্তান সম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে মার্চে নিউজিল্যান্ড সফর থেকেও ছুটি নিয়েছেন। যেখানে টাইগাররা খেলবে ৩টি করে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে ম্যাচ।
কিন্তু এমন ছুটির ঘটনা সাকিবের এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকেও ছুটি নিয়েছিলেন এই বাঁহাতি অল-রাউন্ডার।
তখন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান জানান, টেস্টে অনিহা সাকিবের। এবার এই কথার সঙ্গেই মিলে গেল। বিসিবি চাইলে সাকিবকে জোর করে খেলানো যেত তবে সেটা চাইছে না বোর্ড।
‘সাকিবকে কি খেলানো যেত না জোর করে? ওকে ছুটি না দিলে কি করত? হয়তো খেলত। কিন্তু আমরা ওটা চাই না। আমরা চাই যারা এই খেলাটাকে ভালোবাসে, তারাই খেলুক।’
গত ২০১৯ সালের অক্টোবরে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয় সাকিবকে। তাকে ছাড়াই বেশ কয়েকটা ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়কের নেতৃত্বে সাকিবের না থাকাটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টাও করেছে। সাকিব আবারও ফিরেছেন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে। উইন্ডিজের সঙ্গে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে ম্যাচ সেরার সঙ্গে হয়েছেন সিরিজ সেরাও। টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ফিফটি দেখেছে তার ব্যাট। তবে কী সাকিব ছাড়া চলবে না?
বিসিবি প্রধানের কাছে রাখা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আজকে যে সমস্ত খেলোয়াড় বিশ্বের নাম করা, দেশের সব সেরা খেলোয়াড় ওদের প্রথম ১০ বছর গড় কি ছিল? ওদের ১০ বছরের গড়টা দেখে নিই। আমরা তো তখন তাদের বাদ দেইনি। প্রথম ৬ বছরে ১২-১৫ গড়, আমরা কি তখন তাদের বাদ দিয়ে দিয়েছি? এরপরও তো ওদের সুযোগ দিয়েছি। যে জন্য আজকে এ জায়গায় এসেছে। যে সময়টায় তারা দেশের জন্য কিছু করবে সে সময়টায় যদি! মানে এটা তাদের ইচ্ছে। আমরা এখন খুব পরিষ্কার, এভাবে সময় নষ্ট করতে চাইনা। একটা জিনিস দেখেছি জোর করে খেলিয়ে লাভ হয়না। এটা বিশেষ করে টেস্টে, এটা মানসিক খেলা। খেলতে হবে দেখে খেলা, এটা হবে না।’
এমআর/




