logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭

ক্রীড়া প্রতিবেদক, আরটিভি নিউজ

  ১০ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:৪৫

ফেডারেশন কাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস

ছবি- বাফুফে
আগেরবার গ্রুপ পর্বে হেরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বসুন্ধরা কিংস এবার অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো। ফাইনালে সাইফ স্পোর্টিংকে ০-১ গোল হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করল অস্কার বুজনের শিষ্যরা।

২০১৮ সালের আসরে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই ফাইনালে পৌঁছে যায় বসুন্ধরা। যদিও ফাইনালে আবাহনীর কাছে হারতে হয়েছিল দলটিকে। পরের আসরে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। অন্যদিকে প্রথমবার মতো ফাইনালে উঠেও শিরোপা বঞ্চিত হতে হলো সাইফকে।

রোববার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জয় সূচক গোলটি করেন রাউল অস্কার। ম্যাচের ৫২ মিনিটের মাথায় রবসন ডা সিলভার বাড়ানো বলে দলকে এগিয়ে দেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই সাইফের জালে বল জড়ায় বসুন্ধরা কিংস। যদিও অফ-সাইডের কারণে তা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ১৬ মিনিটের সময় সাইফের গোলরক্ষককে পাপ্পু হোসাইনকে একা পেয়েও জালে বল জড়াতে পারেননি বিশ্বনাথ ঘোষ। মাঝ মাঠ থেকে কাউন্টার অ্যাটাক করে বসুন্ধরা। জনাথনের মাপা শট সরাসরি যায় সাইফের ডি বক্সে বিশ্বনাথের পায়ে। গোল তুলতে ব্যর্থ হন এই ডিফেন্ডার

দুই মিনিট পরে বসুন্ধরার ডি বক্সে থেকে সাইফের ইকেচুকো কেনেথ বল বাড়িয়ে দেন জন ওকোলিকের কাছে। তবে ওকোলির নেয়া শটটি চলে যায় গোলপোস্টের ওপর দিয়ে। সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি প্রথমবার ফাইনালে ওঠা সাইফ। ২০ মিনিটের সময় গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর দারুণ দক্ষতায় গোল খাওয়া থেকে রক্ষা পায় বসুন্ধরা।

মাঝ মাঠ থেকে অসাধারণ ড্রিবলিংয়ে বল নিয়ে বসুন্ধরার দিকে ছুটে যান ওকোলি। ডি বক্সের বা দিক থেকে বাড়িয়ে দেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে। কিন্তু জিকো এগিয়ে ব্যর্থ করে দেন সাইফের আক্রমণ। ২৮ মিনিটের সময় মাঝমাঠের একটু সামনে থেকে কোনাকুনি শট নেন বসুন্ধরার ফরোয়ার্ড রিমন হোসেন। কিন্তু তার শট সাইফের গোলরক্ষক পাপ্পুকে ফাঁকি দিতে পারেনি।

৩২ মিনিটে আবারও সুযোগ পায় বসুন্ধরা। ডান দিকে থ্রো করে খালেদ। এরপর সাইফের রক্ষণভাগ বল ভালোভাবে ক্লিয়ার করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ডি বক্সের সামনে আবার বল পেয়ে শট নেন জনাথন। তবে বল চলে যায় গোলপোস্টের পাশ দিয়ে। বিরতির যোগ করা সময়ে বসুন্ধরার ডি বক্সের বাম পাশে হ্যান্ডবল হলে ফ্রি কিকের বাঁশি বাজান রেফারি। যোগ করা সময়ে রহমত মিয়ার দারুণ শট রুখে দেন জিকো।

প্রথমার্ধে দুই দলই খেলে দারুণ। কিন্তু গোলের দেখা পায়নি চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংবা প্রথমবার ফাইনালে ওঠা সাইফ। বিরতি থেকে ফেরার তিন মিনিট পরেই এগিয়ে যেতো পারতো সাইফ। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে শট নেন রহমত মিয়া। সবাইকে ফাঁকি দিতে পারলেও গোলরক্ষক জিকোকেই যেনো ফাঁকি দিতে পারেননি সাইফের ফুটবলাররা। বরাবরের মতো এবারো শট রুখে দেন জিকো।

বিরতির পর মাঠে ফিরে এগিয়ে যায় কিংসরা। ব্রাজিলিয়ান-আর্জেন্টিনার মেলবন্ধনে গোলটি পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। মাঝ মাঠ থেকে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবসনের সরাসরি যায় বক্সে থাকা রাউল অস্কারের পায়ে। এবার আর ভুল করেনি বসুন্ধরা, মাঠ গড়ানো শটে গোলরক্ষক পাপ্পুকে ফাঁকি দিয়ে বল জড়ায় সাইফের জালে।

কিছুক্ষণ পরেই সুযোগ পায় সাইফ। বামদিক থেকে সাজ্জাদ হোসাইন একাই বল নিয়ে এগিয়ে যান বসুন্ধরার ডি বক্সের দিকে। কিন্তু ভুলে পাস দিয়ে বসেন বসুন্ধরার ডিফেন্ডারের কাছে। ৬৯ মিনিটে আবারও দলকে রক্ষা করেন জিকো। ডি বক্সের বাইরে থাকা কেনেথের বুলেট গতির শট লাফিয়ে উঠে হাতের আলতো ছোঁয়ায় পাঠিয়ে দেন গোলবারের ওপর দিয়ে। এর চার মিনিট পরেই আবারও আক্রমণে আসেন কেনেথ। এবার তার বাঁ পায়ের শট চলে যায় বার ঘেঁষে।

৮৬ মিনিটে ডি বক্সের ডান কোন থেকে কেনেথের হেড দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন জিকো। মিনিট না পেরোতেই ওকোলির শট ঠেকিয়ে বসুন্ধরাকে  রক্ষা করেন জিকো। সাইফ আর গোল দিতে সক্ষম হয়নি। এতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা উল্লাসে ভাসলো কিংসরা।

ওয়াই/

RTV Drama
RTVPLUS