logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭

বিদায় ‘দ্য গোল্ডেন বয়’

maradona the golden boy
বিশ্বকাপ হাতে ম্যারাডোনা
ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে স্প্যানিশ ভাষায় আর্জেন্টাইনরা ডাকতো ‘এল পিবে ডি অরো’ নামে। যার অর্থ হচ্ছে ‘দ্য গোল্ডেন বয়’। এমন নাম দেয়ার পেছনের কারণটা ফুটবল প্রেমী সবারই হয়তো জানা। ১৯৮৬ সালে তিনি যে প্রায় একাই দেশটিকে এনে দিয়েছিলেন ফুটবলের সর্বোচ্চ সম্মান।

কয়েকদিন আগেই জন্মদিন পালন করেছেন ম্যারাডোনা। ৩০ অক্টোবর ৬০ বছরে পা রেখেছিলেন তিনি। জন্মদিন উপলক্ষে একটি চাওয়া ছিল তার। ইংলিশদের বিপক্ষে ডান হাত দিয়ে গোল করতে চেয়েছিলেন।

আশির দশকে ফকল্যান্ড যুদ্ধের জড়িয়েছিল ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা। ছিয়াশির বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে যখন দুই দল মুখোমুখি হয় তখন ওই ম্যাচটি নিয়ে মাঠের বাইরেও ছিল বাড়তি উত্তাপ। 

মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে ৫১ মিনিটের মাথায় এক বিতর্কিত গোলে এগিয়ে যায় আকাশী-সাদা শিবির। বাম-হাত দিয়ে গোলটি করেন ম্যারাডোনা। রেফারি ভেবেছিলেন হয়তো মাথা দিয়েই জালে জড়িয়েছে বল। তাই গোলের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছিল। এই গোলটিকে ঈশ্বরের আশীর্বাদেই হয়েছে বলে অনেকেই দাবি করেছিলেন। তাই গোলটির নাম দেয়া হয় ‘হ্যান্ড অব গড’।

ম্যারাডোনা নিজেও স্বীকার করেছেন, গোলটি হাত দিয়েই হয়েছিল। ৩৪ বছর পরও আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির কোনওই আক্ষেপ ছিল না। উল্টো আবদার করেছিলেন নিজের ৬০ তম জন্মদিনে এবার ডান হাতে গোল করতে চান তিনি। 

সেমিফাইনালের ওঠার ওই ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে  ১১ বার বলে পা স্পর্শ করে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় পিটার বেয়ার্ডসলে, স্টিভ হজ, পেটার রেইড, টেরি বুচার ও টেরি ফেন উইককে ড্রিবিলিং দিয়ে পরাস্ত করেন। সব শেষে গোল রক্ষক পিটার শিল্টনকেও পাত্তা না দিয়ে তুলে নেন শতাব্দীর সেরা গোল। হ্যাঁ ওই গোলকেই ফিফার ভোটে ফুটবল ভক্তরা সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। 

শেষ পর্যন্ত ২-১ এ জয় পায় আলবেসিলেস্তেরা। ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর ইংলিশদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ তুলার মূল নায়ক ছিলেন ম্যারাডোনাই। 

শেষচারে বেলজিয়াম ২-০ গোল ও ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয় তুলে দ্বিতীয়বার শিরোপা তুলে নেয় আর্জেন্টাইনরা। টুর্নামেন্টজুড়ে প্রায় প্রতি ম্যাচেই অবদান ছিল তার। পুরো বিশ্বকাপে দল গোল করেছিল ১৪টি যার দশটিতেই অবদান ছিল তার। বিজয়ী দলের অধিনায়ক পাঁচটি গোল তুলে হয়েছিলেন সেরা খেলোয়াড়ও। এমন দাপটের কারণেই তার নাম দেয়া হয়েছিল গোল্ডেন বয়। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির বিশ্বকাপ জয়ের সব শেষ নায়ক বুধবার বাংলাদেশ সময় রাতে চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি।

৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে যোগ দেন। বয়স যখন ১২ স্থানীয়দের কাছে বেশ নাম ডাক পেয়ে যান তিনি। ১৯৭৭ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পান। দেশের জার্সিতে চারটি বিশ্বকাপ আসরে অংশ নেন। 

বোকা জুনিয়র্স, বার্সালোনা, নাপোলি, সেভিয়া এবং নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলেছেন। ১৯৯৭ সালে বোকা জুনিয়র্সে এসে শেষ হয় দীর্ঘ ক্যারিয়ার। মাদক সেবনসহ কারণে শিরোনাম হয়েছেন তিনি। ফুটবল শৈলী দেখিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে পেয়েছিলেন তুমুল জনপ্রিয়তা। নানা কারণে ভক্তদের হাসিয়েছেন। ভাসিয়েছেন কান্নায়। আবারাও ভক্তদের চোখে অশ্রু আনলেন। প্রিয় তারকা চলে গেলেন সব মায়া ত্যাগ করে।

ওয়াই

RTV Drama
RTVPLUS