logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সাকিব জানেন কী করতে হবে তাকে

SHAKIB AL HASAN
প্রর্তাবর্তনের ঠিক আগ মুহূর্তে নিউইয়র্কে প্রবাসীদের সংবর্ধনা পেয়েছেন সাকিব
সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার এক বছর মেয়াদ শেষ হচ্ছে অক্টোবর বুধবার মধ্যরাতে। জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) দেয়া নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ নিয়ম মেনে শেষ করায় প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে আর কোনও বাধা থাকছে না সাকিবের।

বাংলাদেশ দলের এই সেরা অল-রাউন্ডারের নিষেধাজ্ঞা এটাই প্রথম না, এর আগেও তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাকিব সেসব বিতর্ক পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন তার মতো করে, নিজেকে নিয়ে গেছেন সর্বোচ্চ শিখরে।

এবারও ফিরছেন, কে জানে হয়তো আগের চেয়েও দুর্দান্ত সাকিবকে দেখা যাবে ব্যাটে-বলে। এমনটাই বিশ্বাস করেন সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন।

‘আমি মনে করি সে পেশাদার এবং সে জানে কি করতে হবে। সুতরাং আমার মনে হয় না খুব একটা সমস্যা হবে। সবচেয়ে বড় কথা, সে একজন ফাইটার ক্রিকেটার।’

সাকিবের ক্রিকেটে ফেরার কথা ছিল নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট দিয়ে। এই সফরকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেছিলেন দেশে। এখানে বিকেএসপিতে অনুশীলন করেন দিন পনেরোর মতো দুই কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও সালাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে থেকে।

সফর স্থগিত হওয়ায় আবারও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান দুই মেয়ে আর স্ত্রীর কাছে। এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজন করতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি লিগ। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হবার কথা জানিয়েছেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন।

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সাকিব হয়তো ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন কিন্তু ব্যাটে-বলে অনুশীলন তো করা হচ্ছে না। অবশ্য সাকিবকে নিয়ে ভাবছেন না খালেদ মাহমুদ।

‘মাঝে ও ঢাকায় এসছিলেন, অনুশীলন করেছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন সেখানে কী করছে সেটা বলতে পারব না। আমি নিশ্চিত ক্রিকেট নিয়ে কাজ না করলেও ফিটনেস নিয়ে ঠিকই কাজ করেছেন।’

সাকিবের নিষেধাজ্ঞার বড় একটা সময় কেটে গেছে করোনা মহামারিতে। এই সময়ে বন্ধ ছিল ক্রিকেট-ক্রীড়াঙ্গন। দলের বাকিরা যেভাবে সময় কাটিয়েছে, সাকিবের অবস্থাটাও ঠিক তেমনই ছিল। এতদিন পর ফিরলেও খালেদ মাহমুদ বিশ্বাস করেন, সাকিব নিজেকে মেলে ধরবেন দারুণ ভাবে।

‘আসলে এতদিন তো কেউই ক্রিকেট খেলেনি। সাকিবের যে মেধা, যেরকম খেলোয়াড় তিনি নিজেকে ঠিকই মেলে ধরবেন। আরও ভালো খেলবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

নিষেধাজ্ঞা পাবার আগে ২০১৯ বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন স্বপ্নের মতো। বিশ্বকাপে আট ম্যাচে সাকিব ৬০৬ রান তুলেন ৮৬.৫৭ গড়ে। বল হাতে নেন ১১টি উইকেট। সাকিবের গড় ছিল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গোটা দলের পারফর্ম আর সাকিবের একার পারফর্ম ভাগ করলে নিঃসন্দেহে এগিয়ে থাকবেন সাকিব। 

তিনিই যে সত্যিই বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডারের সেটি আবারও প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন বারবার। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে তিন ফরম্যাটেই অল-রাউন্ডার হিসেবে শীর্ষে থাকার রেকর্ড যে রয়েছে তার নামের পাশেই।

২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (ওয়ানডে) অভিষেক হওয়া সাকিবের টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০০৭ সালে। টি-টোয়েন্টিতে ২০০৬ সালে।

সাকিব ৫৬ টেস্টে ৩৯.৪০ গড়ে ৫টি শতক আর ২৪ অর্ধশতক মিলে করেছেন ৩ হাজার ৮৬২ রান। বল হাতে নেন ২১০ উইকেট। ওয়ানডেতে ২০৬ ম্যাচে ৩৭.৮৫৬ গড়ে করেছেন ৬ হাজার ৩২৩ রান। রয়েছে ৯টি শতক আর ৪৭টি অর্ধশতক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৭৬ ম্যাচে ২৩.৭৪ গড়ে করেছেন ১ হাজার ৫৬৭ রান। রয়েছে ৯টি অর্ধশতক। 

এমআর/ওয়াই

RTVPLUS