logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ভক্তের পরিসংখ্যানে সাকিবের ফেরার দিন গণনা

Emil's statistics count the days of Shakib's return
সাকিব আল হাসান || ছবি- সংগৃহীত
আইসিসির নিষেধাজ্ঞা শেষ হবার বাকি মাত্র ১ দিন। এরপর ক্রিকেটে ফিরতে আর কোনও বাধা থাকবে না বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসানের।

বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম এই সেরা অলরাউন্ডারকে পুনরায় ফিরে পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার সেকেন্ড, ৫ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ মিনিট, ৮ হাজার ৭৬০ ঘণ্টা, ৫৫ সপ্তাহ, ৩৬৫ দিন ও ১২ মাস।

এমন অপেক্ষা সব ভক্তের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক তবে প্রিয় তারকার ফেরাকে ভিন্নভাবে সাজিয়েছেন রিফাত এমিল নামে এক ভক্ত। যা ফেসবুকে ‘সাকিব নামা’ হিসেবে পরিচয় পেয়েছে।

২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু সাকিবের। নিষেধাজ্ঞায় পড়ার আগে ৫৬ টেস্টে পাঁচটি শতক ও ২৪ টি অর্ধশতক মিলে ৩৯.৪০ গড়ে করেছেন ৩ হাজার ৮৬২ রান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রয়েছে ২১৭ রানের ইনিংসও। যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।

সাদা পোশাকে ২১০টি উইকেট রয়েছে নামের পাশে। সেরা পারফরমেন্স ৩৬ রান খরচ করে সাত উইকেট। ইনিংসে ১৮ বার পাঁচ উইকেট ও ম্যাচে দুইবার দশ উইকেট নেয়ার মতো রেকর্ড।

জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে খেলেছেন ২০৬টি। এখানে ৩৭.৮৬ গড়ে করেছেন ৬ হাজার ৩২৩ রান। রয়েছে ৯টি শতকের সঙ্গে ৪৭টি অর্ধশতক। সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ১৩৪ রান (জিম্বাবুয়ে)।

একদিনের ক্রিকেটে উইকেট সংখ্যা ২৬০টি। সেরা অর্জন ২৯ রানে পাঁচ উইকেট নেয়া। দুইবার পাঁচ উইকেটও নিয়েছেন ম্যাচে।

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারটাও সাকিবের বেশ সমৃদ্ধ। ৭৬ টি-টোয়েন্টিতে ২৩.৭৪ গড়ে করেছেন ১ হাজার ৫৬৭ রান। রয়েছে নয়টি অর্ধশতক। আছে ৮৪ রানের একটি ইনিংস। বল হাতে নিয়েছেন ৯২ উইকেট। সেরা সাফল্য ২০ রান খরচ করে পাঁচ উইকেট নেয়া।

গত বছর ২৮ অক্টোবর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হবার দিন থেকেই সাকিবের ক্যারিয়ারের নানা পরিসংখ্যান দিয়ে মাঠে ফেরার ক্ষণ গণনা করে আসছেন রিফাত এমিল নামের এক সাকিব ভক্ত।

যেমন, ‘আজ সাকিবের নিষেধাজ্ঞার ৩৬৪তম দিন। সাকিবের ৩৬৪তম টেস্ট রান এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।’

‘৩৬৪তম ওয়ানডে রান এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ৩৬৪তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি রান এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে।’ দিন গণনার সঙ্গে টাইগার তারকার ক্যারিয়ারের নানা কীর্তি তুলে ধরেন তিনি।

এমিল জানিয়েছেন সাকিবকে নিয়ে তার এসব পোস্ট গণমাধ্যমে প্রকাশ হবে সেটি তার ভাবনায় ছিল না।

‘অনেক আগে থেকেই তাকে আমার পছন্দ। আসলে এতকিছু ভেবে কাউন্টডাউন শুরু করিনি।’

নিষেধাজ্ঞার ৩৫০ তম দিনে সাকিবের এই ভক্তর পোস্ট ছিল এমন, ‘ক্যারিয়ারের ৩৫০ তম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উইকেট ছিল সিকান্দার রাজা। ৩৫০তম টি-টোয়েন্টি উইকেট ছিল মোহাম্মদ নবী। ৩৫০তম টেস্ট রান এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ৩৫০তম ওয়ানডে রান আসে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। ৩৫০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি রান তুলেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। ৩৫০তম টেস্ট বলটি করেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ৩৫০ তম ওয়ানডে বল করেছিলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ৩৫০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বল করেছেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।’

ফেরার অপেক্ষায় থাকা এমিল পোস্ট করেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব ফিরবেন ৬৪ দিন ৬৪ মিনিট পর। সাকিব নিজের ৬৪ তম ওয়ানডে ইনিংসে ৬৪ বলই ব্যাটিং করেন। উল্লেখ্য, সে ইনিংসেই সাকিব বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুততম শতক করেন।’

২০০৭ সালের ৯ আগস্ট প্রথমবার ওয়ানডেতে খেলতে নেমেছিলেন সাকিব। অভিষেকের ১৪তম বছরটি এমিল স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন এমন একটি পোস্টের মাধ্যমে।

‘সাকিবের ওয়ানডে অভিষেক আজকের দিনে। তার ওয়ানডে ক্যাপ নম্বর ৮২, তার সঙ্গে সবমিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও খেলছেন ৮২ জন ক্রিকেটার। কী অদ্ভুত, আজ তার নিষেধাজ্ঞার ২৮২ তম দিন।’

শুধু ফিরে আসার হিসেব নয়, সাকিব সংশ্লিষ্ট নানা তথ্য নিজ টাইমলাইনের মাধ্যমে সবাইকে জানান তিনি।

এক পোস্টে এমিল লিখেছেন, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক চার ব্যাটসম্যানের মধ্যে সবচেয়ে কম ৪৮.৭৭ শতাংশ ডট বল খেলেছেন সাকিব আল হাসান। ওয়ানডে ক্রিকেটে সাকিব ৭ হাজার ৬৪১ বল খেলে ডট দিয়েছেন ৩ হাজার ৭২৭ বল।’

নিষেধাজ্ঞার ১৯৫ তম দিনে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘সাকিবের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৫ হাজার ৫৭৭ রান ছিল ১৯৫ ম্যাচ শেষে। সাকিবের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২৪৭ উইকেট ছিল ১৯৫ ম্যাচ শেষে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে সাকিবের রান ১৯৫।’

৩৬৫ দিনে নানা সমীকরণ দিয়ে সাজিয়েছিলেন সাকিবের ফেরার গল্প। আগামী মাসে পাঁচ দল নিয়ে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শুরু করবে বিসিবি। সেখানেই ব্যাটে-বলে মাঠে ফিরবেন সাকিব।

ওয়াই/এমআর

RTVPLUS