logo
  • ঢাকা বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ক্রীড়া প্রতিবেদক, আরটিভি নিউজ

  ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১৮:২৬
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১৯:৪৩

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে তারুণ্যের জয়

'I am satisfied with the performance of the youth'
ছবি- বিসিবি
করোনা মহামারির এই সময়ে বলা যায় সফলভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ক্রিকেটারদের জৈব সুরক্ষাবলয়ে রেখে তিন দলের ওয়ানডে টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে রোববার।

টুর্নামেন্ট সফলভাবে শেষ হলেও যারা খেলেছে তারা কতটা সফল। শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য ঘোষিত ২৭ সদস্যের দলের সঙ্গে জাতীয় দলের বাইরে থাকা কজন আর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের কয়েকজনকে নিয়ে করা হয় ৩টি দল।

ব্যাট হাতে সিনিয়ররা নিজদের নামের প্রতি সুবিচার না করতে পারলেও রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজরা ছিলেন ধারাবাহিক।

রুবেল, সাইফউদ্দিন দুজনেই নেন ১২টি করে উইকেট। জাতীয় দলের বাইরে থাকা সুমন খান ফাইনালে দেখিয়েছেন চমক, তুলে নেন ৫টি উইকেট। সুমন নেন মোট ৯ উইকেট। মোস্তাফিজও আভাস দেন ফেরার। নেন ৮ উইকেট। আল-আমীন, এবাদত হোসেনও নেন ৮টি করে উইকেট। তাসিকেনর ঝুলিতে ৭ উইকেট। টুর্নামেন্ট শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রধান নাজমুল হাসান পাপন জানালেন সন্তুষ্টির কথা।

‘নিয়মিত যেসব খেলোয়াড়দের কাছে আমরা রান আশা করেছিলাম সেটা হয়নি। যাইহোক ঠিকাছে। হয়নি হয়নি করেও মুশফিক তো করেছে। লিটন দাস শেষ ম্যাচে গিয়ে রান পেয়েছে, ছন্দে ফিরেছে। ইতিবাচক দিক হলো নতুন অনেকে ভালো করছে। সবচেয়ে ভাল লেগেছে তাসকিন যেভাবে ফিরেছে। একটা সময় ভেবেছিলাম ও হয়তো আর জাতীয় দলে ফিরবেই না। কিন্তু ও খুব ভালো করেছে। রুবেলকে নিয়ে আমরা কী করব কী করব ভাবছি। কতদিন খেলবে কী খেলবে না করছি। রুবেল দারুণ বল করেছে। শুধু তাই না, সুমন খান নতুন ছেলেটাও দারুণ খেলেছে। এবাদত ভালো করেছে, আল-আমিন ভালো করেছে। এখানটায় আমরা বেশ কিছু খেলোয়াড় নিয়ে আমাদের যে সন্দেহ ছিল তা ভেঙে গেছে। তারা ফিরেছে।’

টুর্নামেন্টে সিনিয়রদের মধ্যে মুশফিকুর রহিম ছিলেন সবার থেকে আলাদা। ৫ ম্যাচে ৪৩.৮০ গড়ে ১টি শতক আর ২টি অর্ধশতক মিলে মুশফিকু করেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ২১৯ রান।

এর পরই আছেন তরুণ ক্রিকেটার ইরফান শুক্কুর। ৫ ম্যাচে ৭১.৩৩ গড়ে ২টি অর্ধশতক মিলে করেছেন ২১৪ রান। তৌহিদ রিদয়ও দলের বিপর্যয়ে বেশ কয়েকটি জুটি গড়েছিল। যেসবে সন্তুষ্ট বোর্ড প্রধান।

‘ব্যাটিংয়ে যদি দেখেন, ইরফান শুক্কুর ধারাবাহিকভাবে রান করেছে। সব ম্যাচে খুব চাপের মধ্যে সে এসে পারফর্ম করেছে। আরেকটা ছেলে তৌহিদ হৃদয়। ও হয়তো আহামরি কিছু করেনি কিন্তু, জুটিতে থেকেছে। মুশফিকের সঙ্গে বলেন, ইরফানের সঙ্গে বলেন সাপোর্ট দিয়ে গেছে। শেখ মাহেদি হাসানকে আগে থেকেই চিনি। অলরাউন্ডার হিসেবে ওর ভালো সম্ভাবনা আছে। ব্যাটিংও করে, বলও ভালো করে।’

অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে আসা এই ছেলেরা ছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজনের তত্বাবধানে। যিনি তখনকার গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। এই দলটাকে নিজের মতো করে গড়ে তুলেছিলেন সেটার ফলাফলও পান বিশ্বকাপে।

তারা যখন জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাল রেখে খেলে তখন গর্ব হয় খালেদ মাহমুদ সুজনের। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ শেষে আরটিভি নিউজের সঙ্গে আলাপকালে সেসবই শোনান তিনি।

‘প্রথমত টুর্নামেন্টটা দারুণ ভাবে সফল হয়েছে। অনেক দিন পর দেশে ক্রিকেট ফিরেছে এটাও বা কম কী। তবে দীর্ঘ বিরতির পর ছেলেদের খেলতে দেখে মনে হচ্ছে না এতদিন খেলার বাইরে ছিল। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটাররা দারুণ খেলছে।’

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দল থেকে আসা তৌহিদ রিদয় ছিলেন বেশ ধারাবাহিক। নাজমুল একাদশের হয়ে ৫ ম্যাচে ২৪.৪০ গড়ে ১টি অর্ধশতক মিলে করেন ১০১ রান।

রিদয়ের অ-১৯ দলের সতীর্থ মাহমুদুল হাসান জয় খেলেন মাহমুদউল্লাহ একাদশের হয়ে। টুর্নামেন্টে ৩ ইনিংসে ২৯.৬৬ গড়ে করেন ৮৯ রান, ছিল  ৫৮ রানের একটি ইনিংসও।

বল হাতে বেশ উজ্বল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। তামিম একাদশের হয়ে ৩ ম্যাচ খেলা এই পেসার এক ম্যাচেই নেন ৪ উইকেট। ৩ ম্যাচে ইকোনমি ছিল ৪.৮০।

এছাড়াও তরুণরা বেশ দ্যুতি ছড়িয়েছেন বেশ। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছেন সমানে সমান।

প্রেসিডেন্টস কাপে মাহমুদউল্লাহ একাদশের অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের তালিকায় থাকা সুমন খান ফাইনালে ৫ উইকেট নিয়ে  দেখান চমক। টুর্নামেন্টে  মাত্র ৩ ম্যাচে নিয়েছেন ৯ উইকেট, ৫.০৪ ইকোনমি রেটে।

বাকিরাও নিজেদের মেলে ধরার চেষ্টা করেছে। এই টুর্নামেন্টে হয়তো সেভাবে না পারলেও এখানেই তো শেষ না। সুজনের কথায়, ছেলেরা চেষ্টা করলেই পারবে।

‘অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে আসা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ভালো খেলেছে। যারা পারেনি তারাও চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটাররা দুর্দান্ত খেলেছে, খেলার চেষ্টা করেছে। এমন একটা টুর্নামেন্ট প্রয়োজন ছিল এই সময়ে। যারা এখানে পারেনি তাদের জন্য সামনে টি-টোয়েন্টি লিগ আছে, সেখানে পারবে আশা করি।’

নভেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে শুরু হবার কথা রয়েছে টি-টোয়েন্টি লিগ শুরুর। এই টুর্নামেন্টে খেলবে ৫টি দল।

এমআর/

RTVPLUS