logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ভৈরবে সীমাহীন দুর্ভোগে ট্রেন যাত্রীরা

ট্রেন,  দুর্ভোগ
ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীরা। ছবি: আরটিভি অনলাইন

সকাল সাড়ে আটটায় কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মহানগর প্রভাতির যাত্রী ৪ শতাধিক। অথচ ভৈরব স্টেশনের যাত্রীদের আসন সংখ্যা বরাদ্দ মাত্র ৪৩টি। এর অর্ধেক আবার অনলাইনে। ফলে এখানকার টিকিট আগের স্টেশনের যাত্রীরাও কেটে নেয়ার সুযোগ পায়। তাই দশ দিন আগে স্টেশনে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও মেলে না কাঙ্ক্ষিত টিকেট।

এসব কারণে গন্তব্যে যেতে এখানকার যাত্রীদের বাধ্য হয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিট কাটতে হয়। এতে তারা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন। একই চিত্র একাধিক আন্তঃনগর ট্রেন যাত্রীদেরও।

রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব রেলওয়ে জংশন দিয়ে প্রতিদিন ২৪টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। নৌ এবং সড়ক পথের অবাধ যোগাযোগের কারণে ভৈরবের পাশের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদীর বেশ কয়েকটি উপজেলাসহ হাওরাঞ্চলের ৩ হাজারেরও অধিক যাত্রীরা ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার টিকেট বিক্রির মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আদায় হয়। রাজধানী কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনের পরেই ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হয় বলে জানা গেছে।

আর রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগে ৩য় এবং সারা দেশে ৪র্থ অবস্থানে রয়েছে স্টেশনটি। এরপরও স্টেশনটির আধুনিকায়ন বা সংস্কারের অভাবে যাত্রী সেবার মান নেমেছে তলানিতে। তাই এই পথের হাজার হাজার ট্রেন যাত্রীদের দাবী দ্রুত ট্রেনের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও সব ট্রেনের যাত্রা বিরতি এবং স্টেশনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবে রেলওয়ে বিভাগ। না হলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ডাবল লাইনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন চট্টগ্রাম-ঢাকা, ঢাকা-সিলেট, কিশোরগঞ্জ-ঢাকা ও চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ এই পথে ২৪টি ট্রেন দিনে-রাতে ৪৮ বার যাতায়াত করে। এর মধ্যে ১১টি আন্তঃনগর ও ১৩ মেইল এবং লোকাল ট্রেন রয়েছে। তাছাড়া আন্তঃনগর সোনার বাংলা, সুর্বণা, জয়ন্তিকা, উপকূল ও সিলেটগামী কালনী ট্রেনের যাত্রা বিরতি নেই এখানে।

ঢাকাগামী কালনী ট্রেনের যাত্রা বিরতি থাকলেও মাত্র ৫টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। ফলে ৫টি আসনের বিপরীতে যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৫০০। ঢাকাগামী চট্টলা ট্রেনের ৮০টি আসনের বিপরীতে যাত্রীর সংখ্যা ২ শতাধিক, এগারো সিন্ধুর গোধূলি ট্রেনের ৪৩টি আসনের বিপরীতে যাত্রীর সংখ্যা ৩ শতাধিক। কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ৪০টি আসনের বিপরীতে যাত্রীর সংখ্যা রয়েছে ২ শতাধিক এবং মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৫০টি আসনের বিপরীতে যাত্রীর সংখ্যা ২ শতাধিক। মহানগর গোধূলি ট্রেনের ৫০টি আসনের বিপরীতে যাত্রী রয়েছে ৩ শতাধিক। উপবন ট্রেনের ২০টি আসন ও নিশিতা ট্রেনের ২০টি আসনের বিপরীতে যাত্রীর সংখ্যা রয়েছে শতাধিক। অর্থাৎ আসন বরাদ্দের তুলনায় যাত্রীর চাহিদা সাড়ে সাতগুণ বেশি।

সরেজমিনে গতকাল শনিবার দুপুরে স্টেশন গিয়ে দেখা যায়, ঢাকাগামী ট্রেনের টিকেটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী। দীর্ঘ লাইন শেষে কাউন্টারে যাবার পর জানানো হয় ট্রেনের আসন নেই। চাইলে স্ট্যান্ডিং টিকেট নিতে পারেন।

তাই হতাশ হয়ে মিজান নামে এক ট্রেন যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, সরকার কম সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাতায়াত করতে এবং নিরাপদ রেল ভ্রমণের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ডাবল লাইন বাস্তবায়ন করেছেন ঠিকই। কিন্তু ট্রেনে আসন না পেলে সেবার বদলে যাত্রীদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

তিনিসহ কয়েকজন যাত্রীর মতে শুধু রেললাইন কিংবা স্টেশন উন্নয়ন করলেই হবে না, সেই সঙ্গে যাত্রী সেবার মান বাড়াতে হলে ট্রেনের বগি ও আসন বৃদ্ধি করতে হবে।

এ সময় অপেক্ষমাণ ভৈরব চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গেল কয়েক বছর ধরে দশ দিন আগে এসেও প্রথম শ্রেণির একটি টিকেটও কাটতে পারেনি। আর জরুরি প্রয়োজনে আগের দিন ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের যেতে হলে টিকেট পাবো বলে কল্পনাই করা যায়। তার মতে, এ গ্রেডের একটি স্টেশন এমন হতে পারে না।

আবার কেউ কেউ স্টেশনের যাত্রী সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা বলেন, অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত বেঞ্চের অভাব, পারাপারে পুরনো ওভার ব্রিজ, এমন কি পাবলিক টয়লেট নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে। শুধু তাই নয়, রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বে অবহেলা কারণে প্রায়ই প্লাটফর্মে চুরি ও ছিনতাই হয় বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, স্টেশনে আসন বৃদ্ধি করতে হলে বগি বা কোচ বাড়াতে হবে। নতুবা আসন বৃদ্ধি সম্ভব হবে না। এ জন্য নাগরিক আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এ কে এম কামরুজ্জামান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এ গ্রেডের স্টেশনে আসনের তুলনায় বহুগুণে যাত্রীরা চলাচল করছে। ফলে এই স্টেশন থেকে স্ট্যান্ডিং টিকেট বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় হয়। তাছাড়া আমরা যাত্রীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আসন বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

এজে

RTVPLUS