logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হয়েছে? (ভিডিও)

রাজধানীর যানজট নিরসনে, ‘মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ ফ্লাইওভার’ নির্মাণ করা হলেও এর সুফল হারাতে বসেছেন, নগরবাসী। অফিস সময়ে ফ্লাইওভারে যানজটের তীব্রতা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। ফলে কার্যকারিতা হারাচ্ছে ফ্লাইওভারটি। 

রাজধানীর মগবাজার, মৌচাক ও আশপাশের এলাকা যানজটমুক্ত করতে ২০১১ সালে ফ্লাইওভারটি নির্মাণের প্রকল্প নেয় সরকার। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে, আলাদাভাবে নির্মাণকাজ শেষ করা হয় ’১৭ সালে। চার লেনের মোট আট দশমিক দুই পাঁচ কিলোমিটারের ফ্লাইওভারের প্রাথমিক নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছিল ৩৪৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কিন্তু দফায় দফায় তা বেড়ে শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় এক হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। 

উদ্বোধনের পর কেবল দুই বছর পার হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় সবগুলো বাতি প্রাণ হারিয়েছে। অভিভাবক না থাকায় ল্যাম্পপোস্টের তার থেকে শুরু করে অনেক কিছুই চুরি হয়ে গেছে। সড়কের দুই কিনারা পরিণত হচ্ছে মিনি ভাগাড়ে। আর রাতের অন্ধকারে ভবঘুরেদের জন্য মিনি টয়লেটের ব্যবস্থাসহ ঘটছে আরও অনেক কিছু।      

অন্ধকারে এই আরও কী ঘটে, কীভাবে ঘটে, কর্তৃপক্ষের তার হিসাব রাখার সময় কই? তবে দিনের আলোতে সে সবের কিছু আলামত পাওয়া যায়। 

ফ্লাইওভারের নিচের অংশ দখল করে আছে ক্ষমতাশালীরা। বাদ যায়নি আইনের রক্ষক পুলিশও। 

যে উদ্দেশে ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হয়েছিল সেটি আসলে কতটা পূরণ হয়েছে তা পথচারীদের হতাশায় স্পষ্ট। 

সীমানা জটিলতায় দায়িত্ব নেয়া নিয়ে চলছে ঠেলাঠেলি। ফলে রক্ষণাবেক্ষণও হচ্ছে না। আর বুঝিয়ে না দেয়ার অজুহাতে দায় এড়াচ্ছেন উত্তরের মেয়র। 

নগর বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. শামসুল হকের মতে ফ্লাইওভারের কারণে মগবাজার-মৌচাকের যানজট কমেছে ঠিকই। তবে তা ছড়িয়েছে পুরো শহরে।   

ফ্লাইওভারগুলো নির্মাণের সময়ই নগর বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদে এগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। আর এখন নির্মাণ শেষে দেখভালের অভাবে নতুন নতুন সমস্যা তৈরি হওয়ায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে নগরবাসীর কপালে।

এসএস

RTVPLUS