• ঢাকা বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

মামলায় জর্জরিত রাজধানীর সিটি বাসগুলো

রাফিয়া চৌধুরী, আরটিভি অনলাইন
|  ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৬ | আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৫৩
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এর ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী সু-প্রভাত পরিবহণ নামে একটি বাসচাপায় নিহত হন গত ১৯ মার্চ। পরবর্তীতে পুলিশ জানায়, ওই বাসটির বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা ছিল।

whirpool
কোন বাসের বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা রয়েছে, সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় রাজধানীর সিটি বাসগুলো মামলায় জর্জরিত।

বিকল্প সিটি সার্ভিসের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, মামলা চলমান প্রক্রিয়া। টাকা পরিশোধ করে একটি মামলা শেষ করতে না করতেই আরেকটি মামলা দেয়া হয়। একটি গাড়ির মোট পাঁচটি কাগজ থাকে। ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্রেকস টোকেন, ইনস্যুারেন্স সার্টিফিকেট, রুট পারমিট এবং রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট এই পাঁচটি কাগজ ঠিক থাকলে কোন সার্জেন্ট মামলা দিতে পারে না। কিন্তু এখন মামলা দেয়া একটি টার্গেটে পরিণত হয়েছে। টিআই এবং  সার্জেন্ট বলে আমাদের ওপর মহল থেকে টার্গেট রয়েছে। সেই টার্গেট ফুলফিলাপ করার জন্য মামলা দেয়া হয়।

তিনি বলেন, অনেক অজুহাতেই মামলা হয়। যেমন- রং পার্কিং, গাড়ির ব্যাক লাইট জ্বলে না, গাড়ির গ্লাস ভাঙ্গা এসব অজুহাত। এছাড়া এখন নতুন আরেক যন্ত্রণা হয়েছে র‌্যাকার লাগানো। গাড়িতে র‌্যাকার লাগিয়ে ডাম্পিংয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। র‌্যাকারের বিল ২ হাজার টাকা এবং ড্রাইভারকে ২০০ টাকা বকশিস দিয়ে র‌্যাকার ছুটাতে হয়। মাসে দশটি র‌্যাকারের বিল হলে বিশ হাজার টাকা চলে যায়।

মাহাবুবুর রহমান আরও বলেন, আমার বিকল্প অটো সিটি সার্ভিসের ৪০টি গাড়ির সবকটিতেই মামলা রয়েছে। প্রতি মাসে মামলা বাবদ দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়। গাড়ির এক একটা কাগজের ওপর প্রায় তিন থেকে চারটি মামলা দেয়া আছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, মামলা কোনো সমাধান না। এতে মানুষের আর্থিক ক্ষতি হয়। কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয়। সত্যি যদি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। এক সার্জেন্ট মামলা দিলো, আরেক সার্জেন্ট মামলা দেখে ছেড়ে দিলো। মামলা থেকেই গেলো, গাড়িতে যে কারণে মামলা দেয়া হলো সেটা সংশোধন হলো না।

ঢাকা ট্রাফিকের দক্ষিণ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, মামলা কোনো সমাধান না। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।  মামলা দেয়া ছাড়াও রাস্তায় বিভিন্ন ধরণের মোটিভেশনাল কাজ করা হয়। মানুষকে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত করতে মামলা দেয়া পুলিশের উদ্দেশ্য না। 

শিকড় পরিবহনের পরিচালক মোহাম্মদ শাহজালালের অভিযোগ একইরকম। তিনি  আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমাদের পরিবহনখাত মামলায় জর্জরিত। আমার একটি গাড়িকে মার্চে মামলা দেয়া হয়েছে ১৩টি। শিকড় পরিবহনের ৫০টি গাড়ি রয়েছে। শুধু মার্চ মাসে শিকড়ের এসব গাড়ির ওপর মামলা হয়েছে ২৩ হাজার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গণপরিবহণ বিশেষজ্ঞ ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, পুলিশ কমিশনার সড়কে নৈরাজ্যের কথা বলছেন, বলছেন সবাই দায়ী৷ সড়কে থাকে পুলিশের দায়িত্ব সবার আগে। তারা যে কোনো পরিবহণ অনিয়মের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারেন৷ মানুষের জীবনরক্ষার দায়িত্ব তাদের৷ বিআরটিএ, সিটি কর্পোরেশনসহ আরও অনেক সংস্থাকে দায়ী করা যাবে৷ কিন্তু ‘অন স্পট' দেখার দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু তারা দেখছেন না৷

মামলা দেয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। মামলা দেয়া যদি সমাধান হতো তাহলে সু-প্রভাত বাসটি ২৭ মামলার পরও শৃঙ্খলার মধ্যে আসেনি। তারপর পুলিশ কমিশনার বলেছেন গাড়িটির রুট পারমিট ছিলো না। ওই বাসটির বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা তো পুলিশই দিয়েছে৷ কিন্তু এরপর পুলিশ কী করেছে? এদের রুট পারমিট নেই৷ পুলিশ কেন তাদের গাড়ি চালাতে দিলো?

প্রসঙ্গত, সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য ২০টি প্রতিষ্ঠান কাজ করে বাংলাদেশে৷ কিন্তু তাদের কাজের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। চালকদের ৮০ ভাগ লাইসেন্স ভুয়া বলে জানান পরিবহণ মালিকরাই৷ আর যারা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন, তাদের শতকরা ৪৬ ভাগই পথচারী৷

আরসি/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়