logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬

‘নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ’ এর সামনেই ডাস্টবিন

মিথুন চৌধুরী, আরটিভি অনলাইন
|  ২৪ মার্চ ২০১৯, ১৭:২৮ | আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ১৮:১০
রাজধানীর মালিবাগ রেলগেটের চৌরাস্তার পাশে যাত্রীছাউনির দৃশ্য
রাজধানীতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মানুষের সংখ্যা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানবাহন। যানবাহনে উঠার জন্য অপেক্ষমাণ সময়টুকু যাতে যাত্রীরা নিরাপদে দাঁড়িয়ে-বসে কাটাতে পারেন এর জন্য ‘নির্মল বায়ু এবং টেকসই পরিবেশ’ (কেইস) প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা হয়েছে যাত্রীছাউনি।

কিন্তু সেই যাত্রীছাউনির সামনেই ফেলে রাখা হয়েছে ময়লার ডাস্টবিনের কন্টেইনার। এতে যাত্রীরা ছাউনিতে অপেক্ষা করার কোনও পরিবেশ নেই। বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের রীতিমত নাক চেপে ছাউনিতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেক যাত্রীকে দুগর্ন্ধ থেকে রক্ষা পেতে ছাউনির বাহিরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ফলে যাত্রীরা ছাউনির বাহিরে যানবাহন থেকে উঠানামা করতে বাধ্য হচ্ছেন।   

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেটের পাশে নতুন করে তৈরি করা যাত্রীছাউনির সামনেই দেখা যায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কয়েকটি ডাস্টবিনের কন্টেইনার। যা মূল সড়কের পাশেই রাখা হয়েছে। এতে করে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যাত্রীরা। পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে যানজট।

       মালিবাগ রেলগেটের চৌরাস্তায় যাত্রীছাউনির সামনে রাখা হয় ডাস্টবিনের কন্টেইনার

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক জানালেন, জায়গার অভাবে তারা বাধ্য হয়ে রাস্তায় ডাস্টবিনের কন্টেইনার গুলো রেখেছেন। এছাড়া ওই এলাকায় সিটি করপোরেশনের জায়গায় স্থায়ী বৃহত্তম ডাস্টবিন (এসটিএস) তৈরিতে স্থানীয়রা বাধা দেয়ায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গেল ৬ মাস আগে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্পের আওতায় যাত্রীছাউনিটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু চালু হওয়ার পর থেকে যাত্রীছাউনিটি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে ডাস্টবিনের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে ডাস্টবিনগুলো যাত্রীছাউনির সামনে থাকলেও বারবার তাগাদা দেয়ার পরও সরানোর কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না ডিএনসিসি।

দেখা যায়, যাত্রীছাউনির সামনেই রয়েছে চার থেকে ৫টি বর্জ্যের ডাস্টবিন। যাতে আশপাশের এলাকার আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এসব ডাস্টবিনে। এ ডাস্টবিনগুলো ঘিরেই পরিচ্ছন্নকর্মীদের কর্মযজ্ঞতা দেখা যায়। এতে করে ময়লা আবর্জনার দুগর্ন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে যাত্রীছাউনি ব্যবহার করছেন না।

ডাস্টবিন যাত্রীছাউনির সামনে রাখার কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরিচ্ছন্নকর্মী জানান, ডাস্টবিন রাখা বা সরানোর এখতিয়ার তাদের নেই। মূলত ইন্সেপেক্টরই বিষয়টি দেখে থাকেন। তার পরামর্শে ডাস্টবিনগুলো এখানে রাখা হয়েছে।

        মালিবাগ রেলগেটের চৌরাস্তায় যাত্রীছাউনির সামনে রাখা হয় ডাস্টবিনের কন্টেইনার

বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদা ইসলাম জানান, তার বাসা মালিবাগ রেলগেটের পাশে বাগান বাড়িতে। তিনি লাব্বাইক পরিবহনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। যেহেতু যাত্রীছাউনির সামনে দিয়ে বাসটি যায়। তিনি যাত্রী ছাউনিতে দাড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করেন। কিন্তু যাত্রীছাউনির সামনে ডাস্টবিন রাখায় পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ায়। দুগর্ন্ধে কয়েকজনকে বমি করতে দেখেছেন তিনি। 

বাড্ডার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, ১৫ লাখ টাকা খরচ করে যাত্রীছাউনি তৈরি করে যদি সুবিধা ভোগ করা না যায়। তাহলে এটা নির্মাণের কী দরকার ছিল। জনগণের শ্রমের অর্থ, করের মাধ্যমে সরকারকে দেয়া হয় উন্নয়নের জন্য। কিন্তু উন্নয়নের নামে যদি এভাবে অর্থ অপচয় করা হয়, তাহলে এমন উন্নয়নের দরকার কি। মেয়ররা তো মুখে অনেক কথায় বলেন, বাস্তবে কতটাইবা ফল দেয় তা তো দেখতেই পারছেন।

তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনের উচিত যাত্রীছাউনি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। কিন্তু উল্টো তারাই ময়লার ডাস্টবিন রেখে দিলো যাত্রী ছাউনির সামনে। আমরা এ কষ্টের কথা কাকে গিয়ে বলবো। এতোদিন ধরে ডাস্টবিনগুলো এখানে পড়ে আছে। কারো নজরেই পড়ছে না। ভাবতেই অবাক লাগে।

         মালিবাগ রেলগেটে রাস্তার পাশেই ডাস্টবিনের কন্টেইনার

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৩০টি বাস স্টপেজের মধ্যে যাত্রীছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে ৭০টি এবং উত্তরের ৬০টি স্থানের তালিকা করা হয়। প্রায় ৩৮টি স্থানে যাত্রীছাউনি নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি দক্ষিণে আর ১০টি উত্তরে। এসব অত্যাধুনিক স্টপেজ থেকে যাত্রী ওঠা-নামা, উন্নত ফুটপাত, ওয়াইফাই, টি-স্টল, বিশুদ্ধ খাবার পানি, মোবাইল ফোন চার্জের ব্যবস্থা রাখার কথা। কিন্তু সরেজমিন যাত্রীছাউনি ছাড়া অন্য কোনও সেবার ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

যাত্রীছাউনির সামনে ডাস্টবিন রাখা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. জাহিদ হোসেন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আপনি যেসব ডাস্টবিনের কন্টেইনার সম্পর্কে বলছেন, এ বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। আমরা এ কন্টেইনার রাখবো কোথায়?  মৌচাক ফরচুন মার্কেটের সামনে ফ্লাইওভারের নিচে আমাদের জায়গায় স্থায়ী বৃহত্তম ডাস্টবিন (এসটিএস) তৈরি করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু সে এলাকার বাসিন্ধারা আমাদের তা করতে দেয়নি। পুরো এলাকায় বড় কোন খোলা জায়গা নেই যেখানে এসটিএস করা যাবে। কারো কাছে জমি চাইলে দেয়া হয় না। আবার ময়লাও রাখা যাবে না। আমরা কোথায় যাবো? এ এলাকায় প্রতিনিয়ত কয়েকটন আবর্জনা তৈরি হয়। যা কন্টেইনারগুলোতে রাখা হয়, পরে গাড়ি তা নিয়ে যায় ডাম্পিং এলাকায়। আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় কন্টেইনার রাখছি। পুরো শহর পরিস্কারে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহায়তা দরকার।

এমসি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়