logo
  • ঢাকা রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬

যে যার মতো হচ্ছে রাস্তা পার

মিথুন চৌধুরী, আরটিভি অনলাইন
|  ২২ মার্চ ২০১৯, ১৮:০৭ | আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ১৮:২৭
ফুটওভারব্রিজ থাকার পরও চলন্ত গাড়ির মাঝ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ; ছবিটি শুক্রবার বাংলামোটর থেকে তোলা।
রাজধানীতে চলছে ট্র্যাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ। এই ট্র্যাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহর মধ্যেও কেউ মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হচ্ছে। কেউ বা আনমনে। আবার কেউ কেউ মাথায় বোঝা নিয়ে পার হচ্ছে। পাশেই জেব্রা ক্রসিং কিংবা ফুটওভারব্রিজ। কিন্তু সেখান দিয়ে পার না হয়ে যে যার মতো রাস্তা পারাপার হচ্ছে। এর মাঝেই ধেয়ে আসছে গাড়ি। হাত বাড়িয়ে তা থামানোর চেষ্টা। যানবাহনগুলো হঠাৎ ব্রেক কষে দিচ্ছে। এই বুঝি গায়ে সজোরে ধাক্কা লাগলো।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটর মোড়ে এমন চিত্র দেখা যায়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, শুধু মানুষ যত্রতত্র পারাপারই নয়, যেখানে-সেখানে থামছে বাসগুলো। ইচ্ছেমতো সড়কের ওপরই যাত্রী তোলা হচ্ছে। মানুষও দৌড়ে ঝুঁকি নিয়ে বাসে ওঠানামা করছে। এসব ঘটছে ট্র্যাফিক পুলিশের সামনেই।

ট্র্যাফিক পুলিশও নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে জানান, আপনি যা দেখছেন তা সকাল থেকে রাত অবধি প্রতিনিয়ত চলছে। মানুষ সচেতন না হলে শুধু আইন দিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না।

কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটর সিগন্যালে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে দেখা গেছে, জেব্রাক্রসিং ছাড়াই রাস্তা পারাপার হচ্ছে মানুষ। অনেকেই মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত যানবাহনের সামনে দিয়ে যখন-তখন রাস্তা পার হচ্ছে। এভাবে রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে যুবক, বৃদ্ধ, নারী, শিক্ষার্থী কেউ পিছিয়ে নেই। অনেককে দেখা যায়, রাস্তা পার হওয়ার সময় অনেকটা বেখেয়ালি। আবার বাস থামার অনুমতি নেই এমন স্থানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো হচ্ছে। চলন্ত বাসের দরজা বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তা রয়েছে খোলা।

জেব্রা ক্রসিং না মেনে রাস্তার মাঝ দিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হচ্ছেন অনেকে। ছবিটি শুক্রবার কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার সামনে থেকে তোলা

কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার পাশ দিয়ে মোবাইল ফোন কানে দিয়ে পার হচ্ছিলেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পার না হয়ে মাঝপথে মোবাইল ফোন কানে দিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, খুব তাড়া আছে। তাই রাস্তা পার হতে এতো হিসেব করিনি। মোবাইল ফোন কানে দিলে কি হবে, আমি তো দেখেই রাস্তা পার হচ্ছি।

-----------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : গণপরিবহনে যৌন হয়রানির কৌশল বদলেছে
------------------------------------------------------------

হোটেল সোনারগাঁও হতে ইউনিলিভার চত্বরে যেতে জেব্রা ক্রসিং না মেনে রাস্তা পার হচ্ছিলেন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী। সচেতন হয়েও কেন এভাবে পার হচ্ছেন এমনটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিগন্যাল পড়তে পড়তে দেরি আছে। তার উপর গাড়ির চাপও কম। তাই পার হচ্ছিলাম।

এদিকে বাংলামোটরে ফুটওভারব্রিজ থাকার পরও রাস্তা দিয়ে পার হচ্ছিলেন অনেকে। এরমধ্যে একজন ব্যাংকারও ছিলেন। সচেতন মানুষ হয়েও কেন ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করছেন না এমনটি প্রশ্ন করা হলে তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ফুটওভারব্রিজ দিয়ে পার হতে অনেক সময় লাগে। দেখেশুনেই তো পার হচ্ছি। মেট্রোরেলের কাজ চলছে তাই গাড়িও ধীরে ধীরে চলছে।

কারওয়ান বাজারে দায়িত্বরত এক ট্র্যাফিক সার্জেন্ট নাম প্রকাশ না করে বলেন, শুধু আইন করে সড়কে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়। ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে ছুটে মানুষ রাস্তা পারাপার হচ্ছে। জেব্রা ক্রসিং থাকতেও পার হচ্ছে না। ফুটওভারব্রিজ ও ব্যবহার করছে না। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটলে সব দায় পুলিশের উপর পড়ছে। প্রতিটি মোড়ে সার্জেন্টসহ ৮ থেকে ১০ জন ট্র্যাফিক পুলিশ সদস্য থাকে। তারা যান চলাচল ও ভিআইপি পারাপারে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার উপর এ জনবসতিপূর্ণ শহরে এতো মানুষ নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের জন্য কষ্টসাধ্য। রাস্তা পারাপারে মানুষকে সচেতন হতে হবে। নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিজেকেই নিতে হবে। নাগরিককে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাহলে শৃঙ্খলা ফিরবে।

ব্যস্ততম সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন নগরবাসী। ছবিটি শুক্রবার বনানী থেকে তোলা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গতকাল বৃহস্পতিবার গুলিস্তান মহানগর নাট্যমঞ্চে ট্র্যাফিক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় পথচারীদের উদ্দেশে বলেন, জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হলে ওই পথচারীকে জরিমানাসহ আটক করা হবে। এক স্টপেজ থেকে অন্য স্টপেজ পর্যন্ত গাড়ির দরজা বন্ধ রাখতে হবে। রুট পারমিট অনুযায়ী গাড়ি চালাতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে তাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে। শ্রমিক ও মালিকবিরোধী কোনো কাজ আমরা করব না। কিন্তু কথা দিতে হবে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে কাজ করতে হবে।

গেল মঙ্গলবার রাজধানীর নর্দ্দা এলাকায় বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হয়েছিলেন। নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে নামে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তারা এরইমধ্যে সরকারকে আট দফা দাবিও দিয়েছেন। এছাড়া ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় দুই কলেজশিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল। রাজধানীতে প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন।
 

আরও পড়ুন :

এমসি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়