logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর বেড়েছে পানির দাম

রাফিয়া চৌধুরী
|  ১৯ মার্চ ২০১৯, ১২:৪১ | আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১২:৫৬
পানির অপর নাম জীবন। আর সেই জীবন নিয়ে ব্যবসা করছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী। প্রতি গ্লাস সুপেয় পানির দাম ১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা করেছে ব্যবসায়ীরা।  এজন্য তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকে দায়ী করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, র‌্যাব ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) এর ভ্রাম্যমাণ আদালতের গত কয়েকদিনের অভিযানে অবৈধ পানির কোম্পানিগুলো সিলগালা এবং জারগুলো ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। আর এ কারণেই কোম্পানিগুলো পানির দাম বাড়িয়েছে।

whirpool
রাজধানীর সর্বত্র রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান ও অফিসে ভোক্তারা সুপেয় পানির জন্য জারের পানির ওপর নির্ভর করে। তবে জারের পানি কতটা বিশুদ্ধ ও জীবাণুমুক্ত এটি অনেকাংশেই প্রশ্নবিদ্ধ। সুপেয় পানির নামে মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে ময়লাযুক্ত ও দূষিত পানি।

রাজধানীর কলাবাগানের ঢালি রোডের প্রতিটি চা দোকানে এক গ্লাস পানির দাম ২ টাকা করে রাখছে দোকানিরা। যা আগে ১ টাকা করে রাখা হতো। সেখানকার প্রতিটি চায়ের দোকানদারের এক কথা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর প্রতিটি পানির কোম্পানি জারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতি জার আগের থেকে ৪০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।   

কলাবাগানের ঢালি বাড়ি রোডের চায়ের দোকানদার জামাল হোসেন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমরা পানির দাম বাড়ায়নি। পানির দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। এখন প্রতিটি জার ৪০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই পানির দাম প্রতিটি গ্লাস ১ টাকার জায়গায় এখন ২টাকা করে রাখা হচ্ছে।

সুপেয় পানির জারের সরবরাহকারী রুবেল হোসেন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমি কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন হোটেল ও চায়ের দোকানে পানি সাপ্লাই দিই। মধুবাগ ডিপ পাম্প থেকে পানি কিনে নিয়ে আসি। আগে তেজগাঁও থেকে নিয়ে আসতাম। তবে সম্প্রতি র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ওই কোম্পানির পানির মধ্যে সমস্যা পাওয়ায় ডিপ পাম্প বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। র‌্যাব ও বিএসটিআই এর অভিযানে আমাদের জারও নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পানির দাম আমরা বাড়াইনি।

র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম আরটিভি অনলাইনকে এবিষয়ে বলেন, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম। আমরা নিয়মিতভাবেই অভিযান চালাই। আর সে কারণেই পানির কোম্পানিগুলোতে অভিযান চালানো হয়েছে। পানির জারগুলোর মধ্যে যেসব জার ফুডগ্রেড না এবং জীবাণু পাওয়া গেছে, সেসব জার ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এসব কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না এবং কোম্পানিগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সারওয়ার আলম বলেন, পানির দাম বাড়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। অনেক দোকানদার পানির জার কিনে তাতে কলের পানি ভরে মানুষকে খাওয়াতো। কিন্তু এখন হয়তো মোবাইল কোর্টের ভয়ে পানি কিনে খাওয়াছে। এটা সরজমিনে না দেখে বলা যাবে না।  

বিএসটিআই এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানই জারে পানি ভরে বাজারজাত করছে। বিএসটিআই’র অনুমোদনপ্রাপ্ত পানির কারখানার সংখ্যা ৩২৫টি হলেও তাদেরই হিসাব অনুযায়ী, বাস্তবে কারখানা রয়েছে প্রায় ৫০০টিরও বেশি। আবার কেউ কেউ জারে ডিপোর অপরিশোধিত পানি ভরে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ছাড়াই সুপেয় পানি হিসেবে বাজারে বিক্রি করছে। যাদের কোনো পরিসংখ্যান বিএসটিআই’র কাছে নেই। লাইসেন্স থাক বা না থাক এ ধরণের সবগুলো পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান একই অভিযোগে অভিযুক্ত। কোনো প্রতিষ্ঠানেই পুরোপুরি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পানি পরিশোধন করা হয় না।

সুপেয় পানির উৎপাদন ও বাজারজাত করার আগে বাধ্যতামূলক ৩০টি পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিএসটিআই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়।

বিএসটিআইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়। লাইসেন্স পাওয়া অনেক কারখানাতে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে যে পরিবেশে পানি পরিশোধন ও বাজারজাত করা হয়, তা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। অধিকাংশ কোম্পানিরই পরীক্ষাগার ও পরীক্ষার উপকরণ নেই। এ অভিযোগে অনেক কারখানাকে সাজাও দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন পরিমাণে জরিমানা করা হয়েছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স জব্দ করা হয়েছে ।

বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে, পানিতে অল্প ও ক্ষারের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৬ দশমিক ৪ থেকে ৭ দশমিক ৪। কিন্তু ঢাকায় সরবরাহকৃত বেশিরভাগ জারের পানিতে ক্ষারের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে মোবাইল কোর্টের পরীক্ষায়। পানি পরিশোধনের যন্ত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করায় ক্ষারের পরিমাণ বেড়ে গেছে বলে জানা যায়। তাছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই পরিশোধন না করে ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই প্লাস্টিকের জারে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধু জারের মুখ কর্কবন্দী করে নাম দেয়া হয়েছে ’ফিল্টার পানি’। বিশুদ্ধ দাবী করে সেই পানি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও অফিস-আদালতে। তথাকথিত বিশুদ্ধ পানিভর্তি জারটির গায়ে নেই কোনো লেবেল, এমনকি উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখও দেয়া থাকে না।

আরসি/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়