• ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

চৈত্র মাস আসন্ন, তারপরেও শীত কেন?

মিথুন চৌধুরী
|  ০৭ মার্চ ২০১৯, ১০:২৮ | আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৯, ১১:০৪
ভৌগলিক পরিবর্তনের কারণে দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তন বেশ লক্ষ্যণীয়। ফলে শীত ও বৃষ্টির মধ্যে বেশ তারতম্যহীনতা দেখা যাচ্ছে। প্রতিবার মধ্য ফেব্রুয়ারিতে শীত বিদায় নিলেও এবছর মার্চেও শীত অনুভূত হচ্ছে। পাশপাশি তাপমাত্রা বেড়েছে কয়েক বছর ধরে। এটা কি কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি? আবহাওয়াবিদ এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বলা যাবে না। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবতর্নের ফলে এ সমস্যাগুলোর সৃষ্টি হয়েছে। এখন চৈত্র মাস আসন্ন। তারপরেও ঢাকাসহ সারাদেশে শীত অনুভূত হচ্ছে।

whirpool
আবহাওয়াবিদ এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এখন শীত নেই, শীতের অনূভুতি আছে৷ মূলত আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তনের জন্য এমনটি মনে হচ্ছে। রাতের তাপমাত্রা কয়েক বছরের তুলনায় কম। আর সে কারণে শীতের অনুভূতি আছে, আসলে এটি শীত নয়। আবার দিনে বেশ তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে। বাতাসে গরম হাওয়া বয়ে থাকে। আবার ক্ষণিকের জন্য বৃষ্টি হচ্ছে। এগুলো মূলত বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া পরিবর্তনের আভাসের কারণে হচ্ছে। যার জন্য মূলত বন ধ্বংস ও বায়ু দূষণই দায়ী।

ফেব্রুয়ারির আবহাওয়া অফিসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের তুলনায় শতকরা ১৬২ ভাগ বেশি বৃষ্টি হয়েছে সারাদেশে৷ পশ্চিমা লঘু চাপের সঙ্গে পূবালী বাতাসের সংযোগের কারণে বৃষ্টিপাত বেড়ে যায়৷ বিশেষ করে ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে হালকা ও ভারী বর্ষণ হয়েছে৷ ছিল বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি। এর আগে ১৬ এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি বৃষ্টি হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে।  মার্চেও একই অবস্থা। প্রতিদিনই রাতে অথবা দিনে বৃষ্টি হয়েছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদ এবিষয়ে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আবহাওয়া পরির্বতনের জন্য মূলত দায়ী ভৌগলিক পরিবর্তন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বেশ বেড়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে আমরা বিষয়টি দেখছি। ফলে বিশ্বের সব অঞ্চলগুলোর আবহাওয়ার বেশ পরিবর্তন হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। আমাদের দেশে বর্তমানে যে সমস্যাটা সৃষ্টি হয়েছে মাটির তাপমাত্রা বেশ বেড়েছে, জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়েছে। এর জন্য পরিবেশ দূষণটাও অনেক ক্ষেত্রে দায়ী, কারণ দূষণ জলীয় বাস্প বাড়িয়ে দিচ্ছে। যেমন ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা অনেক কম থাকে কিন্তু এবার কিন্তু তা দেখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, সিস্টেম এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় মূলত অনাবৃষ্টি হচ্ছে। ফলে হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি হচ্ছে।

পরিত্রাণের কোন উপায় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু এটা প্রাকৃতিক বিষয় তাই পরিত্রাণের উপায় নেই। বিশ্বব্যাপী বায়ু দুষণের জন্য যেহেতু সমস্যাটি তৈরি সেক্ষেত্রে একা কিছু করা সম্ভব নয়।তবে সচেতনতার পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

দেশে বিশ্বের অনান্য দেশের মতো বরফ ঝরতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. তৌহিদা রশীদ বলেন, আমাদের দেশের প্রকৃতি অনুসারে বৃষ্টি ও শিলা বৃষ্টি হয়ে থাকে। যার পরিমাণ সময় ও কাল বেধে পরিবর্তন হতে পারে। তবে তুষার পড়ার মতো যেসব উপাদান প্রয়োজন তা আমাদের দেশের সীমানায় নেই। তাই তুষার পড়ার সম্ভাবনা আমরা দেখছি না।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, শীতের ধরন বেশ পরিবর্তন হয়েছে। শীতকালের তাপমাত্রা বেশ বেড়েছে।এ বছরটি পুরোই ব্যতিক্রম যাচ্ছে।শীত বেশি পড়তে পারেনি। শীত আগেই চলে গেছে। মাঝে মাঝে বৃষ্টি ও শীত অনুভব হচ্ছে। এটা সাময়িক। প্রতি বছর যে হবে তা নয়। তবে দেশের আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হলেও কিছু পরিবর্তন দেখতে পারছি।

তিনি বলেন, এটা বিশ্বব্যাপী সমস্যা। প্রকৃতি তো গ্লোবাল সীমা রেখে মানে না। এক দেশ পরিবেশ দূষণ করছে তা অন্য দেশে তা যাচ্ছে। বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও কলকারখানা বৃদ্ধির কারণে সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাপী এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব না হলেও বনায়নের প্রতি জোর বাড়িয়ে কিছুটা মুক্তি লাভ করা সম্ভব।

এদিকে বুধবার (৬ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হ্ওায়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রী সে. বৃদ্ধি পেতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। বুধবার ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ।

এমসি/এমকে  

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়