Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

হাসপাতালে গিয়ে পুরুষত্বহীন হতে হলো যুবককে

The young man had to go to the hospital and become impotent
ফাইল ছবি

একজন চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মিয়া (নামের শেষ অংশ) এক যুবকের ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের বিষয়টি অন্ধকারে হারিয়ে যেতে বসেছে। ওই চিকিৎসকের ভুলে যুবক তার পুরুষত্বের শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গোপন শারীরিক জটিলতার চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি ওই হাসপাতালে গিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, চিকিৎসকের ভুলের ফলে ভুক্তভোগী যুবক আর বাবা হতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আলমের আদালতে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন ভুক্তভোগী যুবক। পরে সেই অভিযোগকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন আদালত। সেই নির্দেশনা মোতাবেক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযোগটিকে এফআইআর আকারে গ্রহণ করে থানা পুলিশ।

এ ঘটনার তথ্য-প্রমাণ আরটিভি নিউজের হাতে এসেছে।

তথ্য বলছে, ওই মামলাটি গ্রহণ করতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নির্দেশনা দিয়েছিলেন আদালত। পরে সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ হলেও আজ মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দুই আসামীর কেউই গ্রেপ্তার হয়নি।

মামলার তথ্য অনুযায়ী- ভুক্তভোগী যুবকের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জের মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিস সেন্টারে চেম্বার করা ডা: মো: মহব্বত উল্লাহ’র বিরুদ্ধে। এছাড়াও একই প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার হেমায়েত হোসেন হিমেলকেও সংশ্লিষ্ট মামলায় আসামী করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানায়, চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় পুরুষত্বহীনতার অভিযোগ এনে আসামীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী। তিনি অভিযোগ করেন- আসামীর ভুল চিকিৎসায় তার শরীরে এবং গোপনাঙ্গে সাধারণ ও গুরুতর জখম হয়। বাদীর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় এবং ক্ষত সৃষ্টি হয়।

ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সংশ্লিষ্ট মামলা রেকর্ড করেন। অন্যদিকে এ ঘটনায় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পুলিশকে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার ১ নম্বর আসামী ডা. মো. মহব্বত উল্লাহ একজন চিকিৎসক। আর ২ নম্বর আসামী হেমায়েত হোসেন হিমেল মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিঃ এর জেনারেল ম্যানেজার। ১ নং আসামীর ভুল চিকিৎসায় তার শরীরে এবং গোপনাঙ্গে সাধারণ ও গুরুতর জখম হয়। বাদীর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। গোপনাঙ্গ ঝলসে যায় এবং ক্ষতের সৃষ্টি হয়।

আদালতে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়, ‘ডা: মহব্বতের অবহেলাজনিত কার্য দ্বারা গুরুতর জখমের মাধ্যমে বাদীর সমস্ত শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ১ ও ২নং আসামীকে বিষয়টি জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে হুমকি প্রদর্শন করে। আসামীদ্বয়ের অবহেলা ও প্রতারণামূলক আচরণে বাদীর দেহের মারাত্মক ক্ষতি হয় মর্মে নালিশী দরখাস্তে উল্লেখ করেন। বাদীর আনা অভিযোগসমূহ গুরুতর ও আমলযোগ্য।’

সংশ্লিষ্ট আদালত আদেশে বলেন, অভিযোগসমূহের ভিত্তিতে সিআরপিসি ১৮৯৮ সালের চ্যাপ্টার-১৪ এর আওতায় বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট আদালত মনে করে। সার্বিক বিবেচনায়, আনা অভিযোগ সমূহকে সিআরপিসি ১৮৯৮ এর ১৫৪ ধারা অনুযায়ী সরাসরি এফআইআর গণ্য করে ১৫৬ (৩) ধারা অনুযায়ী তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের সদর মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করা হল।

ভিকটিম মিয়াকে সিভিল সার্জন অথবা তার মনোনীত মেডিকেল অফিসার দ্বারা যতো দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা করাবেন এবং আনিত অভিযোগের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের মতামতসহ সংগ্রহ পূর্বক এম/সি (মেডিকেল সার্টিফিকেট) সংগ্রহ করবেন।

উক্ত কার্যক্রমসহ আনিত অভিযোগ সমূহের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আরও আনুসাঙ্গিক কার্যক্রম সমাপ্ত করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সিআরপিসি

স্বাক্ষর আদেশ ১৮৯৮ এর ১৭৩ ধারা অনুযায়ী পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করবেন।

আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখ সিআরপিসি ১৮৯৮ এর ১৭৩ ধারা অনুযায়ী পুলিশ রিপোর্ট প্রাপ্তির জন্য দিন ধার্য করা হল। এই আদেশের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টকে দেওয়া হোক।

আদালতের এই আদেশের অনুলিপি নারায়ণগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার, নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন, নারায়ণগঞ্জের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক ও সদর থানার ওসিকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মিয়া (ছদ্মনাম) আরটিভি নিউজকে বলেন, ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় এখন আমি অনেকটা অসুস্থ। আমার শারীরিক অবস্থা তেমন একটা ভালো না। আমি মামলা দায়ের করেছি, মামলাটির তদন্ত চলছে। আর শারীরিকভাবে আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। যা প্রমাণের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন মেডিকেল টেস্ট করানো হয়েছে। যেসবের রিপোর্ট বেরিয়ে এলে আদালতের নির্দেশে ঘটনা তদন্তে গঠিত মেডিকেল বোর্ড স্পষ্ট করবেন বিষয়টি, এর বেশি কিছু আমি বলতে পারছি না।

নারায়ণগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য আদালতের নির্দেশ মোতাবেক গতকাল ৩ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছি। আগামীকাল মেডিকেল বোর্ড বিষয়টি নিয়ে বসবে। এরপরই পুরো ঘটনা তদন্ত শেষে আদালতে রিপোর্ট জমা দিবো।

একই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ জামান বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গুরুত্বের সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। যেহেতু এটি তদন্তাধীন বিষয় তাই এর বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না।

কেএফ

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS