Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

সমুদ্র ঘেঁষে নামবে বিমান, দীর্ঘতম রানওয়ে হবে কক্সবাজার বিমানবন্দরে

কক্সবাজার বিমানবন্দরে
কক্সবাজার বিমানবন্দর, ছবি : প্রতিনিধি

দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে সমৃদ্ধ বিমানবন্দর হবে কক্সবাজারে। আর সমুদ্র ঘেঁষে কক্সবাজারে অবতরণ করবে বিমান। দেশের পর্যটন রাজধানীখ্যাত কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ঘিরে চলছে সরকারের নানা পরিকল্পনা। রিজিওনাল হাব হিসেবে এ বিমানবন্দরকে গড়ে তুলতে চায় সরকার। সেই লক্ষ্যে চলছে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ। কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে হবে ১০ হাজার ৭০০ ফিট। এর মধ্যে ৩শ ফুট রানওয়ে নির্মাণ করা হবে সমুদ্রের উপরেই। এর মধ্যদিয়ে দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে সমৃদ্ধ বিমানবন্দর হবে কক্সবাজারে।

আগামী রোববার (২৯ আগস্ট) গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ১৭শ ফিট রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতির সফল বাস্তবায়ন এ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দর যাত্রা শুরু করবে। যেখানে ঢাকা বিনানবন্দরের রানওয়ে ১০ হাজার ৫০০ ফিট। আর কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে হবে ১০ হাজার ৭০০ ফিট।

বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের কাছে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণে কাজ করছে সরকার। বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণের সম্প্রসারণ ও শক্তি বৃদ্ধি, এয়ার ফিল্ড গ্রাউন্ড, লাইটিং সিস্টেম স্থাপনসহ বেশকিছু কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। এখনো চলমান রয়েছে অনেক কাজ। দেশে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার সমুদ্রবক্ষে নির্মাণ করা রানওয়ের খরচ ধরা হয়েছে ১৫শ ৬৯ কোটি টাকা। বিমানবন্দরের রানওয়ের এ প্রকল্প পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এর তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়। ইতোমধ্যে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফিট এবং প্রস্থ ১২০ ফিট থেকে ২০০ ফিটে উন্নীতকরণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে সম্প্রসারিত রানওয়েতে বিমানের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময়ই এই বিমানবন্দরের রানওয়ে ৯ হাজার ফিট থেকে উন্নীতকরণের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। সেই নির্দেশনা মোতাবেক ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরের রানওয়ে ৯ হাজার ফিট থেকে ১০ হাজার ৭০০ ফিটে উন্নীত হবে। বর্তমানে ৯ হাজার ৩শ ফিট ব্যবহার হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর ১৭শ ফিট এর কাজ শেষ হলে রানওয়ে দাঁড়াবে ১০ হাজার ৭০০ ফিটে। এ কাজ শেষ হলে রানওয়ের আয়তন বাড়বে, অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন হবে কক্সবাজার বিমানবন্দর।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কারণে পর্যটনের সম্ভাবনা যেমন বাড়বে, তেমনি এলাকার ব্যাপক উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৯ আগস্ট গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। গণভবন থেকে এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি যুক্ত হবেন। কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রান্তে থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী, সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ কামরুল হাসান, বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান, কক্সবাজারের সংসদ সদস্যবৃন্দ, কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করার কারণে এই অঞ্চলে বিনিয়োগকারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা বিশ্ববাসীর কাছে নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করবে এবং পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটবে। বিশ্বের উপকূলীয় শহরে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরগুলোর কাতারে নাম লিখিয়ে দেশকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধন এবং এভিয়েশন সেক্টরে রিজিওনাল হাব হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের পরিকল্পনা।

শুক্রবার দুপুরে (২৭ আগস্ট) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী এমপি কক্সবাজার বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, কক্সবাজারকে নিয়ে জাতির পিতার অনেক স্বপ্ন ছিল। স্বাধীনতার পরপরই কক্সবাজারকে কিভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু চিন্তাভাবনা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই চিন্তাগুলোকে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানের রূপ দেওয়াসহ অনেকগুলো প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা হলো, সারা বিশ্ব থেকে যাতে সুপরিসর বড় বিমানগুলো কক্সবাজারে নামতে পারে। বিদেশ থেকে সরাসরি পর্যটকরা কক্সবাজারে এসে এখানকার পাহাড় ও সাগরবেষ্টিত নান্দনিক ও নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে। বিমানবন্দর রানওয়ের এ প্রকল্প পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই কাজ সম্পন্ন হবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রাতেও বিমান ওঠানামা করতে পারবে কক্সবাজার বিমানবন্দরে।

পি

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS