Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮

কোনো বিধিনিষেধই মানছে না ঈদে ঘরমুখো মানুষ

কোনো বিধিনিষেধই মানছে না ঈদে ঘরমুখো মানুষ
কোনো বিধিনিষেধই মানছে না ঈদে ঘরমুখো মানুষ

করোনা সংক্রমণরোধে ঈদের ছুটিতে সরকারের পক্ষ থেকে মানুষকে ঢাকা ছাড়তে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তবে কোনও বাধা কিংবা বিধিনিষেধই মানছে না ঘরমুখো মানুষ। যে যেভাবে পারছে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে। ফেরিঘাটে হাজারও মানুষের ঢল ঠেকাতে বিজিবি পর্যন্ত মোতায়েন করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের ঢল সামলাতে বাহিনীটিকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিজিবির বাধা সত্ত্বেও জোর করে যাত্রীদের ফেরিতে উঠতে দেখা গেছে।

সোমবার (১০ মে) মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকালে ৩ হাজার যাত্রী এবং দুটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে শিমুলিয়া থেকে ২ নং ঘাট ছেড়ে গেছে ফেরি যমুনা।

আন্তঃজেলার বাস বন্ধ, ফেরি বন্ধ, কিন্তু তারপরও ঈদে ঘরে ফেরা মানুষকে রোখা যাচ্ছে না। কোনও বাধাই কাজে আসছে না মানুষের কাছে। সরকারের সব নির্দেশনা অমান্য করে মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। এদিকে যখনই যাত্রীবাহী অ্যাম্বুলেন্স বা লাশবাহী গাড়ি ঘাটে ভিড়ছে তখনই মানুষ আনন্দে চিৎকার দিয়ে উঠছে। ঘাটে আসা ফেরিতে করেই তারা পার হতে পারবেন এই ভেবে।

এদিকে সড়কপথের যাত্রীরাও কম যান না। ভেঙে ভেঙে বাড়ি ফিরছেন। খানিক পথ সিএনজি, খানিকটা মাইক্রোবাস আরো কত উপায় যে বের করছেন তারা। যত যাই হোক বাড়ি ফিরতেই হবে, অবস্থা এখন এমনই দাঁড়িয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবার গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল লক্ষ্য করা যেতো। কিন্তু এবার নেই সেই চিত্র। তবে রাতে সুযোগ বুঝে ঠিকই বাস মাইক্রোবাসে করে মানুষ বাড়ি ফিরছে। এদিকে আমিন বাজার ব্রিজের পরেই হাজার হাজার মানুষকে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। চলছে কার, মাইক্রোবাস, টাক্সিক্যাবসহ বেশ কিছু যানবাহন।

সরেজমিনে সোমবার দুপুরে গাবতলী গিয়ে দেখা যায়, মেয়ের শ্বশুর অসুস্থ, তাই মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা করেছেন আকলিমা বানু নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী। তিনি বলেন, যে করেই হোক ফরিদপুর পৌছাতেই হবে। শ্বশুরের এমন সময়ে যদি ছেলের বউ পাশে না থাকে তাহলে এটা সারা জীবনের জন্য আমার মেয়ের কলঙ্ক হয়ে থাকবে। কথা শুনতে হবে। তাই নিরুপায় হয়ে অনিশ্চিত যাত্রা করেছি।

ইউনুস হায়দার নামে এক চাকরিজীবী ঢাকা থেকে নিজের বাইক নিয়েই রওনা হয়েছেন বরিশালের উদ্দেশে। তিনি ক্ষোভ নিয়ে বলেন, যদি পুরোপুরিভাবে লকডাউন দিত তবে একটা কথা ছিল। এখন কিছু জিনিস খোলা আছে আর কিছু জিনিস বন্ধ আছে। একারণেই সব থেকে বেশি বিপত্তি তৈরী হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মের মধ্যে থেকে যদি অন্তত দূরপাল্লার বাস ও অন্যান্য বাহন খোলা রাখতো, তাহলে এত দুর্ভোগ হতো না। এতে করে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা যেত। সংক্রমণ ঝুঁকিও তৈরী হতো না। এখন তো যা ইচ্ছে তাই অবস্থা। এভাবে তো বিপদ আরও বাড়ছে।

এসকে/পি

RTV Drama
RTVPLUS