logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮

‘বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ১০১টি ফানুস উড়াই’ (ভিডিও)

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১ তম জন্মবার্ষিকীতে ১০১টি ফানুশ উড়িয়ে ভালোবাসা বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন রাহুল বড়ুয়া। তিনি ফেসবুক পেজ ‘অতীশ দীপঙ্কর’ এর এডমিন। মূলত এই পেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাসেবীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ফানুশগুলো বানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে আরটিভি রাহুল বড়ুয়ার বিশেষ সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

ফানুশ ওড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে রাহুল বড়ুয়া বলেন, আসলে ফানুশ উড়ানোর বিষয়টিকে আমরা অন্ধকার দূরীভূত করার প্রতীক হিসেবেই দেখি। আমারা মনে করি এটি উড়ালে চারদিক আলোকিত হয়। যার ফলে আমরা আলোর দিকে ধাবিত হতে পারি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এ দেশটিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছিলেন, তিনি এদেশের মানুষকে মুক্তির স্বাদ দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ১০১তম জন্মবার্ষিকী পালনের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ফানুশ উড়ানোর জন্য আমাদেরকে নির্দেশনা দেন। ওনার নির্দেশনাতেই আমরা আরটিভি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে ফানুশ উড়িয়েছি। ফানুশগুলো আমরা ‘অতীশ দীপঙ্কর’ ফেসবুক গ্রুপের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে উড়িয়েছি। আমাদের গ্রুপের সদস্যরাই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফানুশগুলো তৈরি করেছিলো। এখানে ব্যবসায়িক কোনও বিষয় জড়িত নেই। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবামূলক চিন্তাধারা নিয়ে আমরা এই ইভেন্টে অংশ গ্রহণ করেছিলাম। আমরা এই সংগঠন থেকে মূলত সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি।

এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা প্রকাশ করলাম বঙ্গবন্ধু আমাদের হৃদয়ে রয়েছেন, তার আলো ছড়িয়ে রয়েছে আমাদের হৃদয় জুড়ে। ওনার মতো একজন আলোকিত মানুষের স্মরণেই আমরা এমনটি করেছি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন অসাম্প্রদাকি চেতনার মন মানসিকতার অধিকারী। তাই ওনার ১০১তম জন্মবার্ষিকীতে ওনাকে উৎসর্গ করেই আমরা ১০১টি ফানুশ উড়িয়েছি।

বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আমরা ১০১টি ফানুশ উড়াতে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। ফানুশের সঙ্গে বৌদ্ধ সংস্কৃতির একটি যোগসূত্র রয়েছে। সাধারণত আমরা যারা ফানুশ তৈরি করি এবং উড়াই তারা বু্ড্ডিস্ট কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এখানে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া যেহেতু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী, ওনার নির্দেশনার কারণেই আমরা ফানুশ উড়িয়েছি। তাছাড়া আমি নিজেও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সঙ্গে জড়িত রয়েছি। আমরা আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ফানুশ উড়িয়ে থাকি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ফেসবুক পেজটি যার নামে রয়েছে তিনি হলেন ‘অতীশ দীপঙ্কর’। বাংলাদেশের মধ্যে এই অতীশ দীপঙ্কর ছিলেন একজন জ্ঞানী মানুষ, সারা বিশ্বে উনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালীর তালিকায় রয়েছেন। তাই এই আলোকিত মানুষের নামেই আমরা পেজটি পরিচালনা করছি।

ধর্মের আচার আচরণ তো সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়, সেই হিসেবে বাঙ্গালী সংস্কৃতির সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের একটা মিল রয়েছে। বঙ্গবন্ধু যেহেতু আপাদমস্তক বাঙ্গালী ছিলেন, আর বাঙ্গালী সংস্কৃতির সঙ্গে বৌদ্ধ সংস্কৃতির একটি সুসম্পর্ক রয়েছে, তাই সেখানে আমরা একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাঙালী এবং বাংলাদেশের একজন স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের।

ফানুশ হলো একটা প্রদীপ। যেটিকে আমাদের ধর্মের কথায় আকাশ প্রদীপ বলা হয়। যেহেতু আমাদের ধর্মের সঙ্গে প্রদীপের একটা সম্পর্ক রয়েছে। গৌতম বুদ্ধ যখন বৌদ্ধতা লাভ করবেন, আধ্যাত্মিকতা অর্জন করেন, কথিত আছে- তখন তিনি তার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, পরে যে চুলগুলো মহাকাশের কোথাও রক্ষিত বা স্থিতিশীল রয়েছে। সে কারণেই আমরা গৌতম বৌদ্ধকে উদ্দেশ্যে করে ফানুশ উড়াই।

বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে এবারই প্রথম ফানুশ উড়ানো নয়, গত বছরও বঙ্গবন্ধুর ১০০ তম জন্মবার্ষিকীতে রাজধানীর হাতিরঝিলে ১০০টি ফানুশ উড়িয়েছিলাম। এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যায় কিনা বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি।

এবারের কার্যক্রমে সংগঠনটির ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন রাহুল বড়ুয়া। ওই ফানুশগুলো বানাতে ১০-১২ দিন সময় লেগেছিলো বলে জানান তিনি।

কেএফ/এমকে

RTV Drama
RTVPLUS