স্বামীর রেখে যাওয়া দুটি বরজ থেকে সংসার চালাচ্ছেন নমিতা

প্রকাশ | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:৫৮ | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০৪

আরিফুল হক সোহাগ
ছবি আরটিভি নিউজ

নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার কিত্তিপুর ইউনিয়নের জাগেশ্বর গ্রামে পৌঁছালে দেখা মিলবে শত শত পানের বরজ। গ্রামের প্রতিটি বাড়ির মানুষগুলো কৃষি জমিতে পানের বরজ গড়ে তুলেছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০০-৫০০ বরজ নিয়ে গ্রামটি এখন পানপাতা গ্রাম নামে পরিচিতি লাভ করেছে। গেলো দশ থেকে পনেরো বছর যাবত এলাকার চাষিরা ধানের পাশপাশি পান পাতা চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন। তাই এলাকার যবকরা নতুন করে গড়ে তুলছেন পান পাতা চাষ প্রক্রিয়া পানের বরজ।

আবহাওয়া এবং চাষ পদ্ধতি অনুকূল হওয়ায় পান পাতা চাষ গেলো কয়েক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসী।

জাগেস্বর গ্রামের সুরেন সরকার গেলো আশ্বিন মাসে মারা যান। তার স্ত্রী এবং এক সন্তান নিয়ে পরিবার ছিল। সুরেন সরকার মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী নমিতা সরকার ও তার ছেলে মিলে ধান চাষের পাশাপাশি পান চাষ করে লাভবান হয়েছেন। স্বামীর রেখে যাওয়া দুটি পানের বরজ থেকে পান বিক্রি করে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন তিনি।

নমিতা আরটিভি নিউজকে জানান ১টি পানের বরজ নিয়ে তার স্বামী মৃত সুরেন সরকার পান পাতা চাষ শুরু করেছিলেন গেলো বিশ বছর আগে।

লাভবান হওয়ায় পরবর্তীতে আরও একটি পানের বরজ স্থাপন করেন। একটি বরজ ২১শতাংশ জমিতে এবং অপরটি ১৮ শতাংশ জমিতে তৈরি করা হয়েছে।

একটি বরজ থেকে মৌসুমে ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকার পানপাতা বিক্রি করে থাকেন তিনি। তিনি জানান, গ্রামের প্রতিটি মানুষের পানের বরজ আছে। শুধু ধান চাষ করে অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে সংসার চলায় ধানের পাশাপাশি তারা পান পাতা চাষে মনোযোগী হয়েছেন। একটি পানের বরজে খরচ হয়ে থাকে প্রচুর।

প্রতি বছর দশ থেকে পনেরো হাজার টাকার কীটনাশক, শলা, জাংলা, উরা, ছুচকাবারী, সাতহাতি, বাঁশ, সরঞ্জাম ছাড়াও দিনমজুর যারা দৈনিক পানের বরজ দেখাশুনা করেন তাদের দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত মুজুরি দিতে হয়। সেই তুলনায় পানপাতা বিক্রি করে তাদের লাভের পরিমান কম থাকে বলে জানান এই পান চাষি। তিনি আরও বলেন, একটি পান পাতা গাছ থেকে তারা ১৫-২০টি পান পাতা পেয়ে থাকেন । পানের বাজার উঠানামা করার জন্য সঠিক মূল্য তারা পেয়ে থাকেন না। বিড়া প্রতি ১২-১৬ টাকায় বিক্রি করে থাকেন তারা। এতে করে খরচসহ সল্প পরিসরে লাভবান হয়ে থাকেন তারা। এছাড়া কৃষি অফিস থেকে পান পাতা চাষ নিয়ে এখনও সহযোগিতা তারা পান নি বলে জানান এই পান পাতা চাষি।

এদিকে পান পাতা চাষ নিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কর্মকর্তা মো. সামসুল ওয়াদুদ আরটিভি নিউজকে জানান, পান পাতা ওষুধী খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এর চাষ পদ্ধতিতে কীটনাশকের ব্যবহার বেশি হলে পান পাতার ওষুধি গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে পান চাষিদের কীটনাশকের ব্যবহার কম করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া ধান চাষের পাশাপাশি জাগেশ্বর এলাকার মানুষদের পান চাষে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সবসময় চাষিদের পাশে থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

জেবি