logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭

জামালপুরে শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নামে কোটি টাকা চাঁদা আদায় (ভিডিও)

Collection of crores of rupees in the name of Workers Welfare Society in Jamalpur,
জামালপুরে শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নামে কোটি টাকা চাঁদা আদায়

বাংলাদেশ অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নামে প্রতি মাসে অন্তত দেড় কোটি টাকা চাঁদা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকের কল্যাণের নাম দিয়ে বিপুল অঙ্কের চাঁদা উত্তোলন করা হলেও শ্রমিকের কল্যাণে কোনও অর্থই ব্যয় করা হয় না। চাঁদার বিপুল অঙ্কের অর্থ চলে যাচ্ছে শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নেতাদের পকেটে।

অটোবাইক চালকদের অভিযোগ, জামালপুর পৌর এলাকাসহ জেলার ৭টি উপজেলায় প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার অটোবাইক চলাচল করে। জামালপুর শহরে ৬টি পয়েন্টসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকশ পয়েন্টে অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নামে প্রতি পয়েন্টে ১০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। প্রতিদিন একটি অটোবাইক চালককে চাঁদা দিতে হয় ৫০ থেকে ৭০ টাকা। চাঁদা না দিলে অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নিয়োজিত চাঁদাবাজরা লাঠি দিয়ে গাড়িতে বারি দেয়, এতে গ্লাস ভেঙে যায়। অনেক সময় চালকদের মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এতে যাত্রীরা চরম বিব্রতকর অবস্থায় পরেন।

বেশ কয়েকজন অটোরিকশাচালক জানান, করোনা পরিস্থিতির আগে প্রতি পয়েন্টে চাঁদা দিতে হতো ২০ টাকা। করোনার কারণে চাঁদাবাজরা চাঁদার পরিমাণ অর্ধেক করেছে। এখন প্রতি পয়েন্টে চাঁদা দিতে হয় ১০ টাকা। পয়েন্টে পয়েন্টে চাঁদাবাজির কারণে অটোবাইক চালকরা অতিষ্ঠ হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির জেলার বিভিন্ন স্থানে শাখা কমিটি দেওয়ার নামেও হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা।

জামালপুর শহরের প্রধান সড়কে গেটপাড়ে কথা হয় অটোচালক হুরমুজ আলীর সাথে। তিনি জানান, অটোবাইক চালিয়ে সারাদিনে ইনকাম হয় ৭-৮শ টাকা। এর মধ্যে অটোর মালিককে দিতে হয় ৩০০ টাকা। প্রতিদিন অটোর ব্যাটারি চার্জের জন্য ব্যয় হয় আরও ১০০ টাকা। চাঁদাবাজদের দিতে হয় ৭০-৮০ টাকা। সারাদিন কষ্ট করে ঘরে যায় ৩-৪শ টাকা। এ টাকা দিয়ে তো সংসার চলে না।

শহরের তমালতলায় কথা হয় অটোচালক বিল্লাল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নামে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি হলেও কোনো মহল কিছুই বলেন না। সবার মুখ বন্ধ কেন। আসলে গরীবের পক্ষে কেউ নাই। চাঁদাবাজরা মনে হয় সবাইকে ম্যানেজ করেছে।

অটোচালক কাজিম উদ্দিন বলেন, শ্রমিকের কল্যাণের নামে চাঁদাবাজি হলেও কোনও শ্রমিকের সমস্যা হলে বা দুর্ঘটনা হলে চাঁদাবাজদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। শ্রমিকের কল্যাণের কথা বলে চাঁদা তুলে তারা নিজেরা মোটা তাজা হচ্ছে। সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের নাম ভাঙায় তারা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটি রেজিঃ নং এস-১১৩৮৭ জামালপুর জেলা শাখার প্রধান কার্যালয় করা হয়েছে শহরের রানীগঞ্জ বাজারে পৌরসভার সুপার মার্কেটে। এখান থেকে পরিচালিত হয় জেলার সব জায়গার অটোবাইকের চাঁদাবাজির কার্যক্রম। বাংলাদেশ অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি পদে আছেন জেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি ও পৌর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক। আর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন পৌর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বেলাল হোসেন।

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সাথে কোনও কথা বলতে রাজি হননি অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি মোজাম্মেল হক। তবে অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, পুরো জেলায় তারা চাঁদাবাজি করেন না। শহরের ৬টি পয়েন্টে তারা রসিদ দিয়ে চাঁদা নেন। রসিদ বই বিক্রি করা হয়। ১০০ পাতার প্রতিটি বই বিক্রি করা হয় ৩০০ টাকা করে। চাঁদার টাকা অটো চালকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। কোনও অটো দুর্ঘটনা হলে বা কোনও ঘটনায় থানা পুলিশ আটক করলে চাঁদার টাকা ব্যয় করে সমস্যা সমাধান করা হয়। কোনও শ্রমিক মারা গেলে বা দুর্ঘটনায় আহত হলে তাদেরকেও অনুদান দেওয়া হয়।

জামালপুরের পুলিশ সুপার মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, অটোবাইক ড্রাইভারদের কাছ থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজি বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শিগগিরই এই চাঁদাবাজি সমস্যার সমাধান করা হবে।

জামালপুর অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা জামালপুর জেলার অটোবাইক চালকদের।

পি

RTV Drama
RTVPLUS