logo
  • ঢাকা শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

‘করোনার নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে বিদেশযাত্রা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুয়া’

Travel, abroad, corona negative, result, scientifically, fake আরটিভির নিজস্ব ছবি
‘করোনার নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে বিদেশযাত্রা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুয়া’ আরটিভি নিজস্ব ছবি

বিশ্বজুড়ে চলছে করোনা মহামারি। তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এক দেশ থেকে অন্যদেশে যাত্রী প্রবেশে করোনার নেগেটিভ রেজাল্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে করোনার নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে অন্যদেশে গেলে তা পজিটিভ আসছে। এতে বিদেশগামী যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

এ বিষয়ে রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর আরটিভি নিউজকে বলেন, করোনার নমুনা পরীক্ষার নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে অন্যদেশে প্রবেশ করতে হবে, এটি রাষ্ট্রীয় পলিসি। তবে করোনার নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে অন্যদেশে প্রবেশের ব্যাপারটি বৈজ্ঞানিকভাবে ভুয়া।

জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনারসম্প্রতি নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট নেগেটিভ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া যান বেশ কিছু যাত্রী। সেখানে (দক্ষিণ কোরিয়া) ফের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে তাদের পজিটিভ রেজাল্ট আসে। এতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাত্রী যাওয়া বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। গত ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়া প্রায় ৭৫ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। যদিও তারা বাংলাদেশ থেকে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে গিয়েছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়া স্কলারশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা ঢাকায় দক্ষিণ কোরিয়া দূতাবাসে যোগাযোগ করলে তাদের জানানো হয়, বাংলাদেশের করোনার নমুনা পরীক্ষার রেজাল্টের ওপর দক্ষিণ কোরিয়া ভরসা পাচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনার নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে দেশ-বিদেশে যাত্রীদের যাওয়া-আসা রাষ্ট্রীয় পলিসি মাত্র। বাংলাদেশ থেকে করোনার নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে অন্যদেশে গেলে তা পরীক্ষা করলে পজিটিভ আসতে পারে। আবার অন্যদেশ থেকে যেসব যাত্রী করোনার নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন তাদের অনেকেরই নমুনা পরীক্ষা করলে পজিটিভ আসছে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, করোনাভাইরাসের রেজাল্ট ভুল হওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া যথাযথ না হলে টেস্টের ফলাফল ভুল হতে বাধ্য। নমুনা সংগ্রহেও কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হয়। প্রথমত, পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে নমুনা (সোয়াব) নেওয়া হলো কি না। দ্বিতীয়ত, সঠিক টুলস ব্যবহার করা হলো কি না। তৃতীয়ত, কিভাবে নমুনা প্রসেস করা হলো। আর চতুর্থ, সংক্রমণের কোন পর্যায়ে নমুনা সংগ্রহ করা হলো। এতোগুলো বিষয় ঠিকঠাক-মতো মিলে না গেলে করোনা টেস্টের ফলাফল ভুল আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশে করোনা নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট নেগেটিভ, কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া ওই একই ব্যক্তির রেজাল্ট পজিটিভ আসছে কেন এ বিষয়ে ড. এ এস এম আলমগীর বলেন, এটি যেকোনও দেশে হতে পারে। করোনার নমুনা যখন পরীক্ষা করা হয়েছে তখন নেগেটিভ ছিল। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হলে তার নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজিটিভ হবে। অথবা করোনা আক্রান্ত হবার পরপরই যদি অ্যা-সিম্পটোম্যাটিক মানুষদেরকে টেস্ট করা হয় তখন রেজাল্ট নেগেটিভ আসবে। অথচ তাদের শরীরে ভাইরাসটি রয়েছে। আবার যখন অ্যা-সিম্পটোম্যাটিক বেশি হয় তখন করোনার নমুনা পরীক্ষা করলে পজেটিভ হবে। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বলা হচ্ছে যে, করোনা নমুনা পরীক্ষার নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে আসতে হবে, আসলে এটির বৈজ্ঞানিক কোনও ব্যাখ্যা নেই। নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে অন্যদেশে প্রবেশ করা এটি রাষ্ট্রীয় পলিসি মাত্র। করোনার নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে অন্যদেশে প্রবেশের বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে ভুয়া।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরও বলেন, আজকে করোনার নমুনা পরীক্ষা করলে নেগেটিভ আসবে আবার একদিন পরে নমুনা পরীক্ষা করলে পজিটিভ আসবে, এটি কেউ ঠেকাতে পারবে না। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের নমুনা পরীক্ষা করলেও অনেকের করোনা পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। নমুনা পরীক্ষায় যাদের রেজাল্ট পজিটিভ হচ্ছে তাদেরকে আইসোলেশন ও বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে। কারণ আমাদেরতো লাখ লাখ মানুষকে আইসোলেশনে রাখার মতো ব্যবস্থা নেই।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা ডা. জসিম আরটিভি নিউজকে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে করোনা নমুনা পরীক্ষার নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে এলে বাংলাদেশে ওই ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করলে পজিটিভ আসতে পারে। করোনা আক্রান্ত হবার পরপরই যদি অ্যা-সিম্পটোম্যাটিক মানুষদেরকে টেস্ট করা হয়, তবে তার ফলাফল শতকরা ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে ভুল অর্থাৎ রেজাল্ট নেগেটিভ আসবে অথচ তাদের শরীরে ভাইরাসটি রয়েছে।

এফএ

RTV Drama
RTVPLUS