logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭

‘পুলিশের দুজন অফিসার আছে তারা দোকান বসায়’(ভিডিও)

'There are two police officers who set up shop'
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয়
ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপনের নামে রাজধানীজুড়ে চলছে দখল বাণিজ্য। টাকার বিনিময়ে বসানো হয়েছে বাজার, খাবার হোটেল, রিকশার গ্যারেজসহ নানা স্থাপনা। দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এমন সংস্কৃতি গড়ে উঠলেও দায় নিতে রাজি নন রাজনৈতিক নেতারা। প্রশাসনও যেন নির্বিকার এ জঞ্জাল সরাতে। 

রাজধানীতে দখল বাণিজ্য নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর এ বিষয়টি দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে নগরবাসী। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু কোনো দলই পারেনি এ সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে। এক তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলেই ফুটপাত আর রাস্তা দখল করে স্থাপন করা হয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নামে ডজন খানেক কার্যালয়। 

আবার এসব কার্যালয়কে ঘিরে ফুটপাত ও রাস্তায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বাজার, খাবার হোটেল, টং দোকানসহ রিকশার গ্যারেজ। এক দোকান কর্মচারী বলেন, এ দোকানের ভাড়া নেওয়া হয় না। মহাজন টাকা তোলেন। উনি শ্রমিক লীগের সদস্য।  

সাতরাস্তার মোড়ে প্রধান সড়কের পাশেই সটান দাঁড়িয়ে থাকা জাতীয় পার্টির কার্যালয়টি যেন জানান দিচ্ছে, ঢাকার সড়কে কোনো নিয়ম-নীতির বালাই নেই। রাজধানীর নতুন বাজার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন বাঁশতলা এলাকায় ১০ বছর আগে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির গড়ে তোলা কার্যালয়গুলো বন্ধ থাকলেও সক্রিয় আছে আশপাশের দোকানগুলো থেকে চাঁদা নেওয়া।

মহাখালী ওয়ারলেস গেটের পার্ক দখল করে গড়ে উঠেছে ২০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসনের উপর দায় চাপিয়ে দেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাসির।

ডিএনসিসির ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নাসির বলেন, আমার সাথে প্রশাসনের ঝামেলা হয়েছে। এখানে নতুন দুজন অফিসার আছে তারা দোকান বসায়। আমি বহুবার বলেছি কিন্তু এর কোনো সমাধান করেনি।  

মোহাম্মদপুরের কাঁটাসুরে চলছে ফুটপাত দখলের মহোৎসব। পান্থপথ ও পূর্ব-রাজাবাজারের বউবাজারে পুরো রাস্তা দখল করে বসানো হয়েছে দোকানপাট। ফকিরাপুল কালভার্ট রোডে ফুটপাত দখলে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে হয় পথচারীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা কিংবা ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা হোটেলের জায়গার মালিক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। ভাড়া যা আসে তাই দিয়ে মিছিল মিটিং হলে পার্টির ছেলেরা এখানে খাওয়া দাওয়া করে। এসব কার্যালয় দেওয়ার উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট। জায়গা দখল ও চাঁদাবাজি। কিন্তু এর দায় নিতে রাজি নন রাজনৈতিক নেতারা।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, খাস জমি আছে যা হয়তো সরকারের প্রয়োজন নেই। হয়তো কর্মীরা এখানে বসে। তারপরেও যাচাই করে দেখব। তারা ওখানে বসে কি করে।

আরেকজন আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরটিভি নিউজকে বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের ইউনিটকে বলতে পারবো। সহযোগী সংগঠনকে বলতে পারবো না। এটি দলের নেতারা বলবেন। 

তবে সবকিছুর সংস্কার হলেও এই দখল বাণিজ্যের অভিশাপ থেকে কেন মুক্তি পাচ্ছে না নগরবাসী, এমন প্রশ্ন এখন সবার।
জিএম/পি
 

RTV Drama
RTVPLUS