logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ৯ মাঘ ১৪২৭

সীমান্তের গ্রামগুলোতে মাদকের ছড়াছড়ি

ফাইল ছবি

শহর থেকে মাদক এখন গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে যুবক থেকে শুরু করে প্রায় সব বয়সের মানুষেই জড়িয়ে পড়ছে।

দিনাজপুর জেলার দক্ষিণে অবস্থিত হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা। একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলাটি। সীমান্তের খুবই কাছে এই উপজেলার ১নং খট্রামাধবপাড়া ও ২নং বোয়ালদাড় ইউনিয়ন ও ৩নং আলীহাট ইউনিয়নের অবস্থান।

হাকিমপুর উপজেলার ১নং খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যাক্ত জায়গাগুলোতে বেশ কিছু ফেনসিডিলের খালি বোতল পরে আছে। খোলা জায়গায় যুবকরা বসে ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ গাঁজা সেবন করছে। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে সেবনকারীরা পালিয়ে যায়।

কথা হয় ১নং খট্রামাধবপাড়ার স্থানীয়দের সঙ্গে। তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও আরটিভি নিউজকে জানান, আগের থেকে এখন তাদের এলাকাতে মাদক ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে যুবকরা এই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর ডাঙ্গাপাড়া রেলস্টেশনের উপরে মাদকসেবীরা ভিড় করেন। রাত ভর চলে তাদের আড্ডা।

১নং খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছার রহমান আরটিভি নিউজকে জানান, তার ইউনিয়নটি ভারত সীমান্ত সংলগ্ন। যে কেউ গোপনে ব্যবসা করতে পারে। তবে আমরা সব সময় মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেস্ট ঘোষণা করেছি। ইউনিয়নে আগের থেকে মাদক ব্যবসায়ী এমনকি মাদক সেবনকারী কমে গেছে। গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে সব সময় তদারকি করা হয়। রেলস্টেশনে মাদক সেবনের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন দুই একজন মাদক সেবন করতে পারে, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

তিনি আরও জানান, ভারত সীমান্তের পাশে অবিস্থিত হাড়িপুকুর, ঘাসুরিয়া, কাটলা বাজার এলাকায় এখন বেশি মাদক কেনাবেচা হয়। এসব এলাকা দিয়ে এখন মাদক পাচার হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।

উপজেলার ২নং বোয়ালদাড় ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যাক্ত জায়গাগুলোতে বেশ কিছু ফেনসিডিলের খালি বোতল পরে আছে। কথা হয় এলাকার লোকজনের সঙ্গে। তারা আরটিভি নিউজকে জানান, তাদের এলাকাতে মাদকের ছড়াছড়ি। বিশেষ করে স্কুল কলেজের ছাত্ররা এই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ যৌন উত্তেজক সিরাপ সেবন করে। সন্ধ্যার পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় এবং গ্রামের বেশ কিছু পরিত্যাক্ত জায়গাতে ও আমানুল্লা খানের পরিত্যাক্ত ভেড়ার খামারে মাদক সেবন করেন।

তারা আরও জানান, বোয়ালদাড় ইউনিয়নের পাশে নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের শান্তির মোড় নামক স্থানে রাতভর চলে মাদক কেনাবেচা। নবাবগঞ্জ থানার শেষ সীমানা হওয়ার কারণে সেখানে মাদক ব্যবসায়ী এবং সেবনকারীরা অতি সহজেই তাদের কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারে।

২নং বোয়ালদাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেফতাহুল জান্নাত আরটিভি নিউজকে জানান, ইউনিয়নে আগের থেকে এখন মাদক অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সব সময় মনিটরিং করা হয় এবং মাঝে মাঝে থানা পুলিশ গিয়েও টহল দিয়ে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদে রাতের বেলা মাদকের আসর বসে এই কথাটি তিনি অস্বীকার করেন।

সীমান্ত থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে আলীহাট ইউনিয়নে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। পরিত্যাক্ত জায়গাতে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার মাদকের খালি বোতল। দেখা মিলে কিছু সেবনের দৃশ্য।

স্থানীয় বাসীন্দারা জানান, ইউনিয়নের অনেক গ্রামেই মাদক কম বেশি পাওয়া যায়। তবে জাংগই এবং ইটাই বাওনা গ্রামে বেশি মাদক বিক্রি হয়। কারা মাদক সেবন করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, এলাকার কিছু যুবক, ছাত্ররা মাদক সেবন করে। এছাড়াও গাইবান্ধা এবং পলাশবাড়ি থেকে কিছু যুবক প্রতিদিন মাদক সেবন করার জন্য আসে। তারা হিলিতে আসলে পুলিশের বাধায় পরতে পারেন এমন ভয়ে গ্রামগুলোতে এসে সেবন করে চলে যায়।

৩নং আলীহাট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মন্ডল আরটিভি নিউজকে জানান, তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে মাদক নির্মূলে কাজ করছেন। কেউ যদি গোপনে ব্যবসা করেন তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাংগই এবং ইটাই বাওনা গ্রামের বিষয়টি তিনি জানতেন না। সেই বিষয়ে তিনি পুলিশের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এদিকে হাকিমপুর (হিলি) পৌর এলাকার হিলি সীমান্তের বিভিন্নস্থানে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও মাদকদ্রব্য কেনা-বেচা চলছে। বলতে গেলে প্রকাশ্যেই হচ্ছে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। মাদক নির্মূলে পুলিশ, বিজিবি বা স্থানীয় প্রশাসনের কোনও উদ্যোগ নেই। এ কারণে মাদক কারবারীরা হিলি সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করে।

উপজেলার হিলি চেকপোস্ট থেকে হিলি সিপি বিজিবি ক্যাম্পের প্রধান ফটকের দুরত্ব মাত্র ৩’শ মিটার। আরও এই দূরত্বের মাঝখানে অবস্থিত বালুরচর বস্তি। আবার প্রায় ২’শ মিটার পশ্চিমে ভারত সীমান্ত। এখানকার বালুরচর বস্তিটি এখন সবার কাছে মাদকের ঘাঁটি হিসেবেই বেশ পরিচিত। করোনার মধ্যেও পুরোদমে চলছে এখানে মাদক কেনাবেচা আর সেবনের আড্ডা আসর। এসব মাদক প্রবণ এলাকার মাদক নির্মূলে পুলিশ, বিজিবি বা স্থানীয় প্রশাসনের কোনও উদ্যোগ নেই।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, এখানে যেসব মাদক পাওয়া যায় তার মধ্যে, ফেন্সিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, প্যাথেডিন ইনজেকশন সহ বিভিন্ন ধরণের মাদক। প্রতিদিনই হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে লাখ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য পাচার হয়ে দেশে আসছে। এর একটি অংশ বালুরচর বস্তিসহ ওইসব এলাকায় ঢুকে পড়ছে। বস্তিটি শুধু মাদকের নিরাপদ ঘাঁটি নয়, এখানে অসামাজিক কার্যকলাপ সহ বিভিন্ন অপরাধও সংঘঠিত হচ্ছে।

হাকিমপুর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন সরকার আরটিভি নিউজকে জানান, মাদকের কোনও ছাড় নেই, মাদক নির্মূলে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। বালুচর বস্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি সেই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে ফোন কেটে দেন।

এমকে

RTV Drama
RTVPLUS