logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ভাওয়াল গড়ের ২২ হাজার একর জমি বেদখল (ভিডিও)

সবচেয়ে দ্রুত বেদখল হচ্ছে গাজীপুরের ভাওয়াল গড়ের বনভূমি। এ জেলায় ৫৭ হাজার একর বনভূমির মধ্যে দখল হয়ে গেছে প্রায় ২২ হাজার একর। প্রভাবশালীরা বন বিভাগের সদস্যদের সহায়তায় দখল উৎসবে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পরিবেশবাদীরা বলছেন এভাবে বন উজাড় হলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে। 

খাতা কলমে এটি বনভূমি। তবে বলে না দিলে বোঝার আর উপায় নেই। ঢাকার ফুসফুস হিসেবে পরিচিত ভাওয়াল গড়ের বনভূমির এখন এমনই দশা।

শিল্প কারখানা, বসত বাড়ি, দোকান, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বাগানবাড়ির নামে দখল করা হয়েছে এই বনের হাজার হাজার একর জায়গা। দখলদারের তালিকায় রয়েছে রাজনৈতিক নেতা, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রভাবশালীরা। বনের ৫৬ হাজার ৬৭১ একর বনভূমির মধ্যে দখল হয়ে গেছে ২১ হাজার ৩৭২ একর জায়গা। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে শিল্প মালিক ও প্রভাবশালীরা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি জবরদখল করছে।  

স্থানীয়রা বলেন, এখন যে যেভাবে পারছে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে এবং বন তো এখন বিলুপ্ত। শিল্পপতিরা জমি ক্রয় করে এক বিঘা বা দুই বিঘা। এরপর দেখা গেছে বনের জায়গাও দখল করে নিচ্ছে। 

রাজধানী ও আশপাশে নাগরায়ণের ফলে যেভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে ঠিক সে হারেই দখল হয়ে যাচ্ছে ভাওয়াল বন। যা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াইকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। 
 
পরিবেশবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, এই বনগুলোর মালিকানা ও তার সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের বন বিভাগের চরম ব্যর্থতা রয়েছে। ভাওয়াল রাজার সম্পদ এবং শালবনের সীমা রেখা নিয়ে বন বিভাগের কোনও সুনির্দিষ্ট দলিল নেই।
দখল হওয়া বনভূমি উদ্ধারে বন বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানান প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী।

তিনি বলেন, সার্বিকভাবে আমাদের পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেকটি সেক্টরকে যুক্ত করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্য এবং ফরেস্ট কভারেজের সেটুকু অর্জন করার জন্য দখলকৃত বন উদ্ধার করতে হবে।  

বনরক্ষায় নিজেদের উদ্যোগকে বনবিভাগ যথেষ্ট মনে করলেও পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বনের পুর জায়গাই হয়তো দখলদারদের কবলে চলে যাবে। 

জিএম/এমকে

RTVPLUS