logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ঢাকার ফুসফুস খ্যাত মধুপুর গড়ের এক তৃতীয়াংশই বেদখল (ভিডিও)

One-third of Madhupur Garh, famous for its lungs, was evicted
ঢাকার ফুসফুস খ্যাত মধুপুর গড়ের এক তৃতীয়াংশই বেদখল
প্রভাবশালীরা নির্বিচারে ধ্বংস করছে ঢাকার ফুসফুস খ্যাত টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম এই বনের এক তৃতীয়াংশ বনভূমি দখলে নিয়েছে প্রভাবশালীরা।  এতে যেমন উজাড় হচ্ছে বন তেমনি বিলুপ্ত হচ্ছে বন্যপ্রাণী। দিনের পর দিন এসব চললেও কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমাচ্ছে বন বিভাগ।  

সবুজে মোড়ানো সৌন্দর্য ও নির্মল পরিবেশ, পাখির কলকাকলী সবই আছে এখানে। যতদূর চোখ যায় এমনই গাঢ় সবুজে ঘেরা। বিস্তীর্ণ সবুজ প্রকৃতির এই অভয় অরণ্যের নাম মধুপুর গড়।

টাঙ্গাইলের মধুপুর, ঘাটাইল, সখিপুর ও মির্জাপুরের এক লাখ ১৮ হাজার চারশ চার একর বিস্তৃত এই বনভূমি রাজধানীর ফুসফুস নামেই পরিচিত। অথচ স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জবর-দখল করেছে বনের প্রায় ৪১ হাজার দুইশ ৬০ একর জমি। নির্মাণ করা হয়েছে ব্যক্তিগত দোকানপাট ও ঘরবাড়ি। চাষ করা হচ্ছে আনারস ও কলাসহ বিভিন্ন ফল-ফসলের। বন দখলের এ অপকর্ম দেখেও না দেখার ভান করে থাকে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা বলেন, এখন আর আগের অরণ্য নেই, বিভিন্নভাবে বন বিভাগের সহযোগিতায় ও টাকা দিয়ে শাল বন ভাঙচুর করে কলাবাগান ও আনারস চাষ করছে। আরেকজন বলেন, বন বিভাগের ব্যর্থতা আছে এখানে। এছাড়াও বিভিন্ন নেতারাও দখল করে খাচ্ছে। 

বন দখলবাজদের কাতারে বড় রাজনৈতিক দলের নেতাসহ রয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এমনকি আদিবাসী নেতারাও।

টাঙ্গাইল বন বিভাগ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ বলেন, নতুন করে আর দখল হচ্ছে না, যা হয়েছে আগে হয়েছে। আদিবাসীরা নতুন করে দখল করার চেষ্টা করছে। 

বনের জায়গা বেদখল হওয়ার জন্য বন বিভাগ ও প্রভাবশালীদের দায়ী করে আদিবাসী নেতা উইলিয়াম দাজেল বলেন, আর্থিক সুবিধা পেয়ে আমাদের সামাজিক বনায়নের যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য তা নষ্ট হয়েছে। এর জন্য দায়ী বন বিভাগ এবং স্থানীয় কিছু খারাপ লোক। বন বিভাগ যদি ঠিক থাকতো তাহলে তারা সাহস পেতো না।  

বিভিন্ন সময়ে বনভূমি দখল হওয়ার কথা স্বীকার করে তা উদ্ধারে চেষ্টা চলছে বলে জানালেন বন কর্মকর্তা আমীর হোসাইন চৌধুরী।
তিনি বলেন, দখলের ইতিহাস যদি দেখেন ৫০ বছর ধরে আমাদের ৩৫টি জেলার মধ্যে ২৮ জেলার বন দখল হয়ে গেছে। এসব বনের ভূমি উদ্ধারের জন্য আমরা কাজ করছি। সাত আট মাসে প্রায় একহাজার একর বনভূমি উদ্ধার করেছি। 

জবরদখলকারীদের উচ্ছেদ করা গেলে ফিরে আসবে মধুপুর গড়ের হারানো ঐতিহ্য। প্রকৃতিতে প্রতিষ্ঠা পাবে ভারসাম্য, এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের।
জিএম/এমকে
 

RTVPLUS