logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

এতো মোটরসাইকেলের চাপ সইতে পারছে না নগরী

|  ১৫ নভেম্বর ২০২০, ২০:৪২ | আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২০, ১০:৩৯
apps, motorcycle,
ঢাকার রাজপথে মোটরসাইকেল
গণপরিবহন, সিএনজি, প্রাইভেটকারের মতো দুই চাকার বাহন মোটরসাইকেলে যাত্রী টানা হচ্ছে রাজধানীসহ সারাদেশে। গত চার বছরের ব্যবধানে মোটরসাইকেল বেড়েছে কয়েকগুণ। রাজপথে একচেটিয়া রাজত্ব চলছে মোটরসাইকেলের।

অদক্ষ, বেকার ও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা নাম মাত্র কাজগপত্রে মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছেন বাড়তি উপার্জনের আশায়। মোটরসাইকেলের একচেটিয়া রাজত্বের বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করছেন, গণপরিবহনের ব্যর্থতার কারণে রাজধানীতে মোটরসাইকেলের উত্থান ঘটছে। এতে মোটরসাইকেল চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। ঢাকা শহরে রাস্তার তুলনায় মোটরসাইকেলের সংখ্যা অনেক বেশি। বিআরটিএ সম্প্রতি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমানোর প্রস্তাব করায় একসময় নিয়ন্ত্রণহীন এই মোটরসাইকেল রাজপথের বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াবে এমনটাই মনে করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।  

জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের কোনো সড়কে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন করা হয়নি। অথচ ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোটরসাইকেলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ২০১৫ সালে সারাদেশে যেখানে মোটরসাইকেলের ১ লাখও নিবন্ধন হয়নি। সেখানে মাত্র চার বছরের ব্যবধানে ২০১৯ সালে ৪ লাখ ৬ হাজার ৮৯৭ মোটরসাইকেলের নিবন্ধন হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৪টি মোটরসাইকেল নিবন্ধন নিয়েছেন গ্রাহকরা।

মোটারসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে অ্যাপস ভিত্তিক শেয়ার রাইডিং ব্যবস্থা। অনেকে জীবিকার টানে আবার অনেকে সখের বসে মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালাচ্ছেন। দুই চাকার বাহনটি ছোট হলেও দ্রুতগামী। সড়কে যানজটের মধ্যেও অল্প একটু ফাঁকা জায়গা পেলেই দ্রুতগতিতে ছুটে চলে। অ্যাপসভিত্তিক শেয়ার রাইডিং চালু হওয়ায় অনেক তরুণ আয়ের পথ হিসেবে মোটরসাইকেল চালানোর দিকে ঝুঁকিয়ে পড়েছেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্র জানায়, রাজধানীসহ দেশে প্রায় ৪০ লাখ যানবাহন নিবন্ধিত। এরমধ্যে প্রায় ২৮ লাখ মোটরসাইকেলের নিবন্ধন। খোদ রাজধানীতেই এ সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। এসব মোটরসাইকেলের সবই বিআরটিএ থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে রাস্তায় চলছে। এর বাইরে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ঢাকার ভেতরে বেশকিছু মোটরসাইকেল চলে। আবার ঢাকার পাশের এলাকা থেকে কিছু মোটরসাইকেল ঢাকায় প্রবেশ করছে।

রাজধানীর শাহবাগ, কাওরানবাজার, ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে রাস্তার মোড়ে মোড়ে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন চালক। পথচারীদের দেখলেই হাত দিয়ে চালক জিজ্ঞেস করছেন কোথায় যাবেন। কাওরানবাজারসহ বিভিন্ন রাস্তায় যখন সিগনাল সৃষ্টি হয় তখন রাস্তার দুইপাশে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

বাংলামোটর মোড়ে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সঞ্জয় চক্রবর্তী। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। চাকরি শেষে প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা মোটরসাইকেল চালান। চাকরির পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালানোর বিষয়ে সঞ্জয় চক্রবর্তী আরটিভি নিউজকে বলেন, ঢাকায় জীবন-জীবিকা চালানো ব্যয় বহুল। চাকরির টাকা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতিদিন চাকরির শেষে মোটরসাইকেল চালাতে হয় তাকে। সঞ্জয় চক্রবর্তীর মতো রাজধানীর রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য চালকদের প্রায় সবার কারণ একই।

বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার এ সম্পর্কে বলেন, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ মোটরসাইকেল ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনও দাবি করছে যে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমানোর।

সারাদেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ালেও ফের নিবন্ধন ফি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমানোর প্রস্তাবের বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. আব্দুল মালেক বলেন, দেশের বিনিয়োগের কথা ভেবে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানা গেছে, রাজস্ব আয় বাড়াতে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রস্তাবণা, ১০০ সিসি বা তার নিচের মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ৪ হাজার ২০০ টাকা থেকে কমে ২ হাজার টাকা। ১০০ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ৫ হাজার ৬০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মোহাম্মদ খান আরটিভি নিউজকে বলেন, ঢাকা শহরের সড়কের অবস্থা বিবেচনায় মোটরসাইকেল চালানোর উপযোগী নয়। দেড় কোটি মানুষের বসবাস, এখানে অবশ্যই পাবলিক বাস চলাচল করা উচিত। গণপরিবহণ সংকট ও বেকারত্ব পুঁজি করে বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল ঢাকায় নেমেছে। ঢাকার বাইরে তরুণদের জন্য মোটরসাইকেল একটি সৌখিন বাহন হয়েছে। রোড ম্যাপে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা নেই। উন্নত দেশে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা রয়েছে।

ড. আদিল মোহাম্মদ খান আরও বলেন, গণপরিবহনের ব্যর্থতার কারণে রাজধানীতে মোটরসাইকেলের উত্থান। এখন মোটরসাইকেলের কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে। হাইওয়ে মোটরসাইকেলের সর্বোচ্চগতি ঘণ্টায় কত কিলোমিটার হবে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। তরুণ ছেলেরা মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে গতির নিয়ম-কানুন মানছেন না। ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নগর ব্যবস্থাপক যারা আছেন তাদের ব্যর্থতা রয়েছে। ঢাকা শহরে ৪ হাজার পাবলিক বাস নামানো হবে। গত ১২ বছর ধরে এটি শোনা যাচ্ছে কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ঢাকা শহরে রাস্তার তুলনায় মোটরসাইকেল বেশি রয়েছে। এর মধ্যে ফের মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমানো হচ্ছে। কোনো পরিকল্পনা ছাড়া রাজধানীতে এভাবে মোটরসাইকেল বাড়তে থাকলে একসময় মানুষের জন্য অসহনীয় যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এফএ/ এমকে

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৪৫১৯৯০ ৩৬৬৮৭৭ ৬৪৪৮
বিশ্ব ৬০৩২৫২৬৯ ৪১৭২৯৫৩৩ ১৪১৮৯৯২
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর পাঠক প্রিয়