logo
  • ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

স্থানীয়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বনভূমি দখলে নিয়েছে রোহিঙ্গারা (ভিডিও)

বেহাত হয়ে গেছে কক্সবাজারের প্রায় ৬০ হাজার একর বনভূমি। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। বনবিভাগ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করলেও ভূমিদস্যুরা প্রভাবশালী হওয়ায় ঠেকানো যাচ্ছে না দখলদারিত্ব। 

মাইলের পর মাইল একরের পর একর বনভূমি নিয়ে সাগরপাড়ের জেলা কক্সবাজার। পাহাড়ি সবুজ প্রকৃতি আর সুবিশাল সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি এই জেলার মূল বৈশিষ্ট্য। কিন্তু গেল কয়েক দশকে বেদখল হয়েছে ৫৯ হাজার চারশ ৭১ একর বনভূমি। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারাতে বসেছে কক্সবাজার।

স্থানীয় দখলদারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বনভূমি দখলে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। উজাড় করেছে বনের গাছ কেটে। প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা নির্বিচারে পাহাড় কেটে এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সামাজিক বনায়নের বাগানে ছিন্নমূল মানুষদের ঝুপড়ি তৈরি করে দখলদারিত্ব কায়েম করছে। পরে সেখানেই স্থায়ীভাবে তৈরি করা হচ্ছে বাড়ি-ঘরসহ অন্যান্য স্থাপনা।

স্থানীয়রা বলেন, জনগণ তো আর তাদের সরিয়ে দিতে পারবে না। পুলিশ অনেকবার সরিয়ে দিয়েছে। এরপর আবার এসে বাড়ি করে। 

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের নয়টি রেঞ্জ ফাঁসিয়াখালী, ফুলছড়ি, ঈদগাহ, ঈদগড়, মেহেরঘোনা, জোয়ারিয়া নালা, পিএমখালী, বাঘখালী ও কক্সবাজার সদরে এভাবেই চলছে ভূমিদস্যুদের তাণ্ডব।

কক্সবাজার ফুলছড়ি বিট কর্মকর্তা আকরাম আলী বলেন, এই দুটি ঘর আমি নিজে ভেঙেছি দুবার। সকালে বা দুপুরে ভাঙলে এর কিছুক্ষণ পর আবার ঘর তুলে। 

কক্সবাজার ফুলছড়ি রেঞ্জ এর কর্মকর্তা সৈয়দ আবু জাকারিয়া বলেন, দখলদারি যেই হোক না কেন বা যত হুমকি দিক না কেন, জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও মোকাবিলা করবো।  
এই পর্যন্ত কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগে দখলদারদের বিরুদ্ধে সাত হাজার চারশ ৮৩টি মামলা হয়েছে। তবু থেমে নেই বনভূমি দখল।

বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, জবর দখল উচ্ছেদের জন্য আগে আমাদের যে কাজটি করতে হচ্ছে সেটি হলো জমির রেকর্ড সংগ্রহ করা। ভূমি অফিস থেকে সেটি সংগ্রহ করা শুরু করেছি। যেগুলো জমির তথ্য হাতে পেয়েছি, সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত তিন চার মাসে প্রায় সাড়ে তিনশ একরের মতো বনভূমি উদ্ধার করেছি। সম্পূর্ণ রেকর্ড হাতে পেয়ে গেলে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করা হবে, কোন মাসে কতটুকু বনভূমি উদ্ধার করা হবে।

জিএম/পি

RTVPLUS