logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

রাজধানীতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে মোটরসাইকেল (ভিডিও)

Motorcycles are growing uncontrollably in the capital
রাজধানীতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে মোটরসাইকেল
রাইড শেয়ারিং চালু হওয়ার পর থেকে রাজধানীতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে মোটরসাইকেল। তিন বছরে বেড়েছে তিন গুণ। ফলে গাড়ির পাশাপাশি যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মোটরসাইকেলও। সে সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনাও। অথচ এসব নিয়ে উদাসীন বিআরটিএ। 

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ মোড়, কারওয়ানবাজার, তালতলা, মিরপুর-১, ১০ ও ১৩, রামপুরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীর অপেক্ষায় প্রতিনিয়ত দাঁড়িয়ে থাকে ৩০ থেকে ৫০ জন রাইডার। এছাড়া বাস-সিএনজি অটোরিকশার পাশাপাশি গড়ে উঠেছে মোটরসাইকেলের অঘোষিত স্ট্যান্ড। যেখান থেকে প্রতিদিন চাঁদাও ওঠে। মোটরসাইকেল প্রতি ১০ টাকা করে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার টাকা ওঠান কয়েকজন। 

রাইডাররা বলেন, আমাদের এখানে কিছু নিয়ম আছে। সিরিয়াল দিয়ে মোটরসাইকেল রাখতে হয়। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারবো না। 

চাঁদা আদায় করা ব্যক্তি বলেন, এখানে যত রিকশা আছে সব সরিয়ে রাখতে হয়। আমরা তিন চারজন পরিশ্রম করি, যা পাই তা দিয়ে পেট চালাই। এখানের অনুমতি নেয়া আছে আমাদের। 

কারওয়ানবাজার মোড়েও প্রতিদিন এমন চিত্র দেখা যায়। এভাবে পার্ক করে রাখায় প্রায় সময়ই যানজট লেগে থাকে। মামলাসহ নানা ব্যবস্থা নিয়েও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না ট্র্যাফিক পুলিশ।

ট্র্যাফিক পুলিশ জানান, এরা সকলে অ্যাপসের বাইরে চালাচ্ছে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থেকে। এই সমস্যাটি ঢাকার সব জায়গাতে হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত ব্যবস্থা নিচ্ছি। তারপরেও এরা আইন অমান্য করছে। 

মোহাম্মদপুর বা কারওয়ানবাজারের মতোই এটি এখন রাজধানীর প্রায় প্রতিটি মোড়ের চিত্র। দাম কম ও কিস্তিতে পাওয়ায় বেকার যুবকরা সহজেই মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছেন। সময় বাঁচাতে যাত্রীরাও বেছে নিচ্ছেন মোটরসাইকেলকে।

রাইডার বলেন, তিন মাস ধরে চাকরি নেই। তাই ১২ দিন হলো এই কাজটি করছি। আরেকজন বলেন, করোনার আগে একটি ভালো চাকরি করতাম। এখন চাকরি নেই তাই এই কাজ করছি। 

বিআরটিএর তথ্য মতে, রাজধানীতে মোটরসাইকেলের সংখ্যা এখন প্রায় আট লাখ। অথচ তিন বছর আগেও এই সংখ্যা ছিল তিন লাখ। বেশি রোজগারের আশায় বিভিন্ন জেলা থেকেও মোটরসাইকেল যোগ হচ্ছে। 

লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকা মোটরসাইকেলের ওপর যেন কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বিআরটিএর। যদিও তা স্বীকার করতে অনীহা প্রকাশ করেন কর্মকর্তারা।

রাইডারদের এমন বিশৃঙ্খলার দায় নিতে রাজি নয় রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোও। তাদের ভাষ্য এটা দেখার দায়িত্ব বিআরটিএ ও ট্র্যাফিক পুলিশের।

রাইড শেয়ারিং কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলেন, আমরা কাউকে ট্যাগ করতে পারি না। আমরা চাই সম্মিলিতভাবে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে।   

নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে রাজধানীর ট্র্যাফিক পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
জিএম/পি

RTVPLUS