স্কুলের জন্য রাষ্ট্রপতির দেয়া জায়গাটিও রক্ষা পায়নি হাজী সেলিমের হাত থেকে (ভিডিও)

প্রকাশ | ০১ নভেম্বর ২০২০, ০৮:২২ | আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৩:২৮

এ আর বাদল
স্কুলের জন্য রাষ্ট্রপতির দেয়া জায়গাটিও রক্ষা পায়নি হাজী সেলিমের হাত থেকে

থাবা দিতে দিতে হাজী সেলিমের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সরকারি বধির হাইস্কুলের জমিও। প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে লালবাগের বেড়িবাঁধ এলাকায় রাষ্ট্রপতির দেয়া ৩ একর ১ শতাংশ জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে পেট্রোল পাম্প ও ওয়ার্কশপ। অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিব্বত হলসহ বেহাত হওয়া অন্যান্য স্থাপনা ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

ঢাকা সাত আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম কঠিন হৃদয়ে যেমন জায়গা দখল করতে ভালোবাসেন তেমনি নাচ-গানের জন্যও তার নরম একটা হৃদয় রয়েছে। বিশেষ করে দুর্বলের জিনিস লুট করে বিলাসিতার মজাই আলাদা।

পুরান ঢাকায় যার হুঙ্কারে বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায় তাকে ঠেকানোর সাধ্য কার। হাজী সেলিমের নাম শুনলেই থমকে যান সরকারি কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে রাজধানীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন লালবাগ এলাকায় প্রতিবন্ধীদের পড়ালেখার জন্য রাষ্ট্রপতির দেয়া জায়গাটি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছেন এই সংসদ সদস্য। সরকারি অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও এর কোনও প্রতিকার পায়নি স্কুল কমিটি। 

সরকারি ঢাকা বধির হাইস্কুলের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ২০০৮ সালে হাজী সেলিম জায়গাটি দখল করে এবং সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে দেয়। তারপর আমাদের লোকদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু হাজী সেলিমের নাম শুনার পর তারা আর কোনও কথা বলে নাই। আমরা মনে করি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া বধির স্কুলের সম্পত্তি রক্ষা হবে না। 

হাজী সেলিম পরিবারের অবস্থা বেগতিক দেখে নড়েচড়ে বসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও। আবাসিক হলের অভাবে ব্যয়ভার বহন করতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থীকে ঘুমাতে হয় বাসে। দখল হওয়া হলগুলো পুনরুদ্ধার হলে আবাসন সমস্যা অনেকটা দূর হবে বলে আশা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। 

তারা বলেন, টাকার অভাবে বাসে অনেককে ঘুমাতে হয়, কেউ আবার ফুটপাতে ঘুমায়, অথচ তিব্বত হল হাজী সেলিম দখল করে রেখেছেন। এই অত্যাচার আর আমাদের ভালো লাগছে না, আমরা পড়াশুনায় মনোযোগী হতে চাই। আমাদের থাকার জন্য যাতে আর আর্তনাদ না করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি আমাদের হলগুলো উদ্ধার করে দিন। 

খেতে কার না ভালো লাগে। তবে এমন কিছু মানুষ আছে যারা সবকিছু খেয়ে ফেলতে চায়। ঢাকা সাত আসনের সংসদ সদস্যের দখলে থাকা সব স্থাপনা উদ্ধার করা গেলে পুরান ঢাকায় শান্তি ফিরে আসবে মনে করেন এলাকাবাসী।

জিএম/এমকে