‘আজ তার বিরুদ্ধে কথা বললে কাল আমাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না’ (ভিডিও)

প্রকাশ | ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১১:০০ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১১:১৬

এ আর বাদল, আরটিভি
হাজী সেলিম ।। ফাইল ছবি

তালা হাজী হিসেবে পরিচিত ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললে লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমন ভয়ে কথা বলতে চান না স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ হাজী সেলিম একটাই দল করেন, আর সেটা হলো সরকারি দল। জাতীয় পার্টি, বিএনপি, আওয়ামী লীগ যে দলই ক্ষমতায় থাকে সেই দলেরই হয়ে যান তিনি। টর্চার সেলে নিয়ে ব্যবসায়ীদের নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে ঢাকা শহরজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অঢেল সম্পদের মালিক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে।  

এক সময় ছিলেন পান ব্যবসায়ী। সময়ের পরিবর্তনে এখন মদিনা গ্রুপের মালিক। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। ঢাকা শহরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সম্পদের পাহাড়। যার ভয়ে লালবাগ চকবাজারের মানুষ কাঁপে, সেই হাজী সেলিমের মজবুত দুর্গে আঘাত আসতে পারে এমনটা কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন ১৯৯৬ সালে এমপি হওয়ার পর এলাকায় সালিশ-বিচারের নামে ভুক্তভোগী পরিবারের ঘরে তালা লাগিয়ে পরিচিতি পান তালা হাজী হিসেবে।

এলাকাবাসী জানান, উনি বলতেন সরকার পরিবর্তন হয়েছে আমি কি করবো, যে দল ক্ষমতায় সে দলের আমি। উনার পান দোকান ছিল এবং এক বস্তা সিমেন্ট বিক্রি করলে তার সাথে মাটি মিলিয়ে বিক্রি করতো। ঢাকার সব জায়গায় তার বাড়ি আছে। পুরান ঢাকা তো শুধু উনার অন্য কারো নয়। আমরা আজকে তার বিষয়ে কিছু বললে কাল আর আমাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, এমন কি লাশও খুঁজে পাবেন না। 

অভিযোগ ওঠে একবার যে জায়গার উপর হাজী সেলিমের নজর পড়তো সেটা রক্ষার সাহস কারও নেই। সিদ্ধান্তের বাইরে গেলেই তুলে নেয়া হতো টর্চার সেলে।

চকবাজারে অগ্রণী ব্যাংকের জায়গা দখল করে স্ত্রীর নামে জাল দলিল করার অভিযোগ রয়েছে ঢাকা-৭ আসনের এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। 

মৌলভীবাজার শাখার অগ্রণী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক বৈষ্ণব দাস মণ্ডল বলেন, জায়গাটি উনার বউয়ের নামে জাল দলিল করে রেখেছে। এর আগে উনার ভয়ে এই অফিস থেকে অনেকে চলে গেছেন।  

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মওদুদ হাওলাদার বলেন, এর মধ্যে থানায় হাজী সেলিমের স্ত্রীর নামে একটি জিডি হয়েছিল। 
এসব বিষয়ে হাজী সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। দুদকের অনুসন্ধানে সেলিম পরিবারের সম্পদের হিসাব বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে এলাকাবাসী।

জিএম/এমকে