logo
  • ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

দীপ্ত চন্দ্র ও আনোয়ার হোসান, আরটিভি নিউজ

  ১৯ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৪৫
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ২৩:২৩

আরটিভির সহযোগিতায় এখন সুস্থ শিরিন (ভিডিও)

শিরিন আক্তার
শিরিন আক্তার
আরটিভিতে সংবাদ প্রচারের পর বদলে গেছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া হাজীপুর এলাকার শিরিন আক্তারের জীবন। মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার পর এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ। নিয়মিত চিকিৎসা ও সহযোগিতা পেলে বাকী জীবনটাও সুন্দর কাটবে বলে আশা পরিবারের। 

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন শিরিন আক্তার। চিকিৎসা তো দূরের কথা ঠিকমতো খাবারও জুটত না। ভাইয়ের অভাবের সংসারে শিকলবন্দি হয়ে পলিথিনে ঘেরা একটি খুপরি ঘরে অনেকটা বাড়তি বোঝা হিসেবে দিন কাটছিলেন তিনি। 

প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে আরটিভির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সৈয়দা মুনিরা ইসলামের। এরপর সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় শিরিনের জীবন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন তিনি। তারই সুবাদে শিরিন আক্তার এখন নতুন ঘরে বাস করেন।
 
শিরিন আক্তারের ভাবি জহুরা বেগম আরটিভি নিউজকে বলেন, মনিরা আপা, সুখলা আপা তারা সবাই সহযোগিতা করেছেন। আরও যদি সহযোগিতা করেন তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে এবং শিরিনের চিকিৎসা করাতে পারবো। শিরিনের ছোট ভাই এলিন বলেন, তাদের সহযোগিতায় আমার বোন বর্তমানে মোটামুটি সুস্থ আছেন। 

১৮ অক্টোবর আরটিভি'র টিম শিরিনের খোঁজ নিতে তার বন্দরের বাড়িতে যায়। এ সময় তার শারীরিক ও মানসিক উন্নতি দেখে খুশি হন তারা। আরটিভির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সৈয়দা মুনিরা ইসলাম বলেন, আমাদের সকলের সহযোগিতায় শিরিন এখন অনেক ভালো আছে, বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীবান্ধব। এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। এছাড়াও শিরিনের মতো যারা আছে সবাই এই সহযোগিতা পাবেন।  

ছোটবেলা থেকেই চঞ্চল স্বভাবের ছিলেন শিরিন। সংসারের কাজকর্মের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও বেশ আগ্রহ ছিলো। এসএসসি’র টেস্ট পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তার সব স্বপ্ন উচ্ছ্বাস আর চঞ্চলতা থেমে যায় অজানা এক রোগে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা জাফর সরকার শুক্লা শিরিনের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পে আমরা একটি ঘর করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। ওর যেনো কোনো অসুবিধা না হয় সেই বিষয়ে আমরা সবসময় খেয়াল রাখছি।  

সমবয়সীরা যখন স্বামী সন্তান আর সংসার নিয়ে ব্যস্ত তখন শিরিনের দিন গুনতে হয় সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য। অতীত আর ফিরে না পেলেও সবার সহযোগিতায় তার আগামী দিনগুলো ভালো কাটবে এমন প্রত্যাশা পরিবারের।

জিএম/এসজে

RTVPLUS