মগজে গেঁথে যাচ্ছে ধর্ষণ! (ভিডিও)

প্রকাশ | ১৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩:৪০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০, ১৪:১৯

খান আলামিন
ফাইল ছবি

কেবল ধর্ষণ নয় ধর্ষণের সঙ্গে বর্তমান সময়ে চলছে ক্ষমতা প্রদর্শনের সংস্কৃতি, এমন মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পুরুষের মগজে যেভাবে ধর্ষণ শব্দটি গেঁথে যাচ্ছে তা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা।  

শতাব্দী রায়। সাভারের একটি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। জেএসসি ও এসএসসি ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফলাফল মূল্যায়ন করা হবে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত তার পছন্দ হয়নি। তাই আইনি নোটিশ দিয়েছেন। বলেছেন, টেস্ট পরীক্ষার ফলাফলকেও মূল্যায়নের আওতায় আনতে হবে।

ফলাফল শতাব্দীকে এহেন কোনও বাজে মন্তব্য নেই যা শুনতে হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য ছেলে যাদের অধিকাংশই কিনা শতাব্দীরই ব্যাচের তারা শতাব্দীকে ধর্ষণ করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেছে। কেউ কেউ নিজেও চাইছে তাকে ধর্ষণ করতে। এগুলো শতাব্দী নিজে দেখেছেন। একবার ভাবুনতো এগুলো দেখার পর তার মনের অবস্থাটা কেমন?

শতাব্দী বলেন, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। এসব মন্তব্য দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। পরিবার যদি আমাকে সহযোগিতা না করতো তাহলে কখনো আমার পক্ষে ভালো থাকা সহজ হতো না। 

মানুষের জীবন এখন দুটি ভাগে বিভক্ত। একটা ভার্চুয়াল আরেকটা একচুয়াল। একচুয়ালে নারীরা ধর্ষিত হচ্ছেন, হচ্ছেন নির্যাতনের স্বীকার। আর ভার্চুয়ালে মুখোমুখি হচ্ছেন বিদ্বেষের। পুরুষের মননে-মগজে ঢুকে গেছে ধর্ষণ। যা সমাজটাকে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বললেন, আগের দিনেও ধর্ষণ হতো। কিন্তু বর্তমানে ধর্ষণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্ষমতা প্রদর্শন। সিলেটের এমসি কলেজে ধর্ষণের ঘটনা ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। স্বামীকে পাশের ঘরে আটকে রেখে কিংবা স্বামীর সামনেই চলেছে বীভৎসতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিউটের অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে কাজ করার কথা সেই ভাবে কাজ করছে না। রাজনৈতিক দলগুলো সঠিক ভূমিকা পালন করছে না।  

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, অপরাধীরা কারো না করো সহযোগিতা পাচ্ছে যার কারণে সে অপরাধ করছে। পুলিশ দেখে না দেখার ভান করে। এরকম ভাবে চলতে থাকলে ধর্ষণ বা অন্য অপরাধ বেড়ে যাবে।  

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। কিন্তু সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে না পারলে কোনও শাস্তিই ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে পারবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জিএম/এসএস