অপরাধীদের সহজ টার্গেট পথশিশু! (ভিডিও)

প্রকাশ | ১৮ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩১ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:৫২

মুক্তা মাহমুদ, আরটিভি নিউজ
পথশিশু

শিশু অপরাধের শাস্তি কম এবং সামান্য অর্থের বিনিময়ে অপরাধ করানো সম্ভব হওয়ায় অপরাধীদের সহজ টার্গেট ছিন্নমূল বা পথশিশু। প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তায় পেশাদার অপরাধীরা পথশিশুদের দিয়ে অপরাধীরা করিয়ে নিজেরা থেকে যাচ্ছেন আড়ালে। আবার সহজলভ্য হওয়ায় এসব শিশুকে অনেক সময় বিদেশেও পাচার করা হয়। 

পরিবারবিচ্ছিন্ন এসব শিশুর বসবাস বাস, রেল ও লঞ্চ টার্মিনাল। দেখা যায় ফুটপাত পার্কসহ খোলা জায়গাগুলোতেও। তাদের যাপিত জীবনের চিত্র যেন প্রতিনিয়ত ইঙ্গিত করে এরা সমাজের ‘অবাঞ্ছিত’  নাগরিক। এদের না আছে পরিবার না পায় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা।  

ছদ্ম নাম ইমন। পড়াশোনা ভালো না লাগায় বাসা থেকে পালিয়ে ঠাঁই নিয়েছে রেলস্টেশনে। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় হলে টাকার লোভ দেখিয়ে দলে ভেড়ায় ইমনকে। 
মসজিদের দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি করেছিল রতন। সেই শুরু। রতন, সবুজসহ অনেক পথশিশু এখন এমন সব অন্ধকার পথের যাত্রী! 

চুরি ছিনতাইয়ের সঙ্গে মাদকের ব্যবসায় জড়িয়ে নিজেরাও হয়ে পড়ছে মাদকাসক্ত। শুরু হয় ড্যান্টি দিয়ে এরপর হেরোইন, নেশার ইনজেকশন ও ট্যাবলেট। হাতের নাগালেই যেহেতু সব কিছু তাই সব কিছুতেই এদের আসক্তি।   

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামে’র গবেষণা বলছে, পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই কোনও না কোনোভাবে মাদকাসক্ত। এদের মধ্যে ১৯ শতাংশ হেরোইন, ৪৪ শতাংশ ধূমপান, ২৮ শতাংশ বিভিন্ন ট্যাবলেট ও আট শতাংশ ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা করে থাকে। ঢাকা শহরে কমপক্ষে ২২৯টি মাদকের স্পট আছে। এসব স্পটে নয় থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরা মাদক সেবন করে।

আরও পড়ুন: 
২৫ বছর আগেও খালটি ছিল ২০ ফিট, এখন মৃত অবস্থা (ভিডিও)
অভিজাত এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসার লাইসেন্সেই চলছে অবৈধ স্পা-পার্লার
ভ্রান্ত ধারণা আর চিকিৎসার অভাবে বাড়ছে মানসিক রোগী (ভিডিও)
প্রভাবশালীদের দখলে মিরপুরের খাল যেন সরু নালা (ভিডিও)

প্রশাসন ও রাজনৈতিক সহায়তায় পাড়া-মহল্লার মাস্তান সিন্ডিকেট এসব শিশুকে অপরাধে ব্যবহার করায় আসল অপরাধীরা সব সময় আড়ালেই থেকে যায়। চিলড্রেন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল বলেন, শিশুদের’কে বড় মাস্তানরা ব্যবহার করে থাকে। তাদের দিয়ে অস্ত্র আনা নেয়া করানো হয়। যা বিশ্বাস যোগ্য নয় কিন্তু এই কাজটি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।    

পথের এসব শিশুদের নিয়ে রাষ্ট্রও উদাসীন। সমাজবিজ্ঞানী সাদেকা হালিম বলেন, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় এবং তাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবেন কারা পথশিশু। মন্ত্রণালয় গুলো পরিষ্কার রোড ম্যাপ আছে কিন্তু সমন্বয়ের অভাবের কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতি মাসে বসার কথা এইসব সমস্যা নিয়ে। এবং এনজিওগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যাগুলোর সমাধান বের করতে হবে। 

জিএম/এসএস