যে বাড়িতে নিশ্চিন্তে থাকে পাখিরা (ভিডিও)

প্রকাশ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:৪৮ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৩৮

পাখি বাড়ি

বাড়ির নাম ‘পাখি বাড়ি’। মানুষ যখন নির্বিচারে নির্বিঘ্নে প্রকৃতি নিধন করছে তখন ব্যক্তি উদ্যোগে পাখিদের জন্য নিশ্চিন্ত আবাসস্থল গড়ে তুলেছেন সিলেটের ছালিয়া গ্রামের নূর উদ্দিন। সবুজের সমারোহে ঘেরা এই পাখির রাজ্যে হারিয়ে যেতে প্রতিনিয়ত পর্যটকরা ভিড় করেন সেখানে। 

চারপাশে হরেক রকম গাছ-গাছালি, আকাশ ছোঁয়া বাঁশ-বাগান, পানিতে ভাসমান সবুজ কচুরিপানা। এর মাঝেই রয়েছে একটি বাড়ি। যেটি সবার কাছে পরিচিত ‘পাখি বাড়ি’ নামে। এ যেন পাখির রাজ্য, চেনা অচেনা হাজারো পাখির কলতানে মুখরিত বাড়ির ভেতরের বাগান।

‘পাখির জায়গা খাঁচায় না, মুক্ত আকাশে’ এই দর্শনে বিশ্বাসী সিলেটের ছালিয়া গ্রামে এক প্রকৃতি-প্রেমী প্রায় ২৫ বছর আগে পাখিদের এই অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছেন। পাখিদের কলকাকলিতে মুখর এ রাজ্য বিচরণে প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে আসেন পর্যটকরা।

পর্যটকরা জানান, পুকুরে পাখির জন্য মাছ চাষ করা হচ্ছে, যা সত্যি আমাদের আনন্দ দিয়েছে। কেউ সিলেটে ঘুরতে আসলে পাখির বাড়ি আসবে না, এটা হবে না। তারা বলেন, এখানে অনেক প্রজাতির পশুপাখি রয়েছে যা দেখে সত্যি খুব ভালো লাগছে।   

খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের ফ্রেমে ঘেরা দৃষ্টিনন্দন এই বাড়ির আশপাশে এ গাছ থেকে ও গাছে নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে উড়ে বেড়াচ্ছে শ্বেতশুভ্র পান কৌড়ি, বকসহ নানা রঙের পাখি। পাখি ছাড়াও বাড়িটিতে রয়েছে বানর, ঘোড়া, হরিণ, পায়রাসহ বিভিন্ন পশু প্রাণী।

প্রকৃতি-প্রেমী নুর উদ্দিন বেঁচে নেই। তার ছেলেরা জানান, তাদের বাবা পাখি কিনে এনে ছেড়ে দিতেন আকাশে। কিছু পাখি উড়ে যেত বহু দূরে আর কিছু পাখি ফিরে আসতো ছায়াঘেরা এই বাড়িতেই। এভাবেই বাড়তে থাকে পাখির সংখ্যা। 

নুর উদ্দিনের ছেলে এমদাদুল জানান, পাখি পালনে আগে সমস্যা হলেও এখনো হয় না। তিনি বলেন, আমার গ্রামের মানুষ বলেছে এই পাখিকে কেউ বিরক্ত করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নুর উদ্দিনের ছেলে ময়নুল জানান, আমার বাবা ছিল খুবই পাখি প্রেমিক। বাবা বাজার গিয়ে খাঁচায় পাখি দেখলে কিনে এনে নিজের ছেড়ে দিতেন এবং পাখি ছেড়ে খুবই আনন্দ পেতেন। তিনি বলেন, পাখি ছাড়তে ছাড়তে দেখা যায় ৩-৪ হাজার পাখি হয়ে গিয়েছে।

লোকবল সঙ্কটে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই পাখিরা যাতে বিলুপ্ত না হয়ে যায়, তাই সরকারি উদ্যোগের দাবি জানান পাখিপ্রেমীরা।

এনএম/এসএস