smc
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭

আরও তিন বছর থাকার প্রক্রিয়ায় ওয়াসার এমডি!

  কাজী ফয়সাল

|  ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৪১ | আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৫৩
Business, out,
তাকসিম এ খান
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান। ওয়াসার এমডি পদে দায়িত্ব পালন করছেন ১১ বছর যাবত! দুর্নীতির অভিযোগেরস্তুপ মাথায় নিয়ে আবারও ওয়াসার দায়িত্ব নিতে আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ টায় বোর্ড সভা ডেকেছেন তিনি। এমন সংবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। তাদের মন্তব্য- দুর্নীতিরস্তুপ মাথায় নিয়ে আবারও শহর ডুবাতে চাচ্ছেন তাকসিম এ খান।

তাকসিম এ খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে ফলাও করে দুর্নীতির খবর প্রকাশ হয়েছে। তার বিরুদ্ধে- ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্পের সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত হয়েছিল ২০১৫ সালে। ঢাকা ওয়াসার পদ্মা জশলদিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্পের জন্য দরপত্র ও ভেটিং (দরকষাকষি) ছাড়াই নিম্নমানের পাইপ আমদানির মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকসিমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। ওই সময়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরেও অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উল্টো পরবর্তী সময়ে, তাকসিম এ খান আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। নিয়োগ বাণিজ্য, আউটসোর্সিং বাণিজ্য, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও বিদেশ ভ্রমণে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।  দুর্নীতির সাগরে দিব্যি তরী ভাসিয়ে ফুরফুরা মেজাজে আছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর পায়তারা চলছে। সরকারি চাকরিবিধির কোন কোন ধারা মতে তার চাকরির মেয়াদ বার বার বাড়ানো হচ্ছে? এমন প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের।

ওয়াসার এমডি হিসেবে ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে ১১ বছর ধরে দুর্নীতির পতাকা বয়ে চলেছেন তাকসিম। অভিযোগ রয়েছে- এ সময়ের মধ্যে ঢাকা ওয়াসাকে সচল করতে বিভিন্ন সময়ে তিনি ২৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছেন। কিন্তু সেই টাকা জলেই যেনো ভেসে গেলো, আজও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ওয়াসা।

এসব বিষয়ে আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

১১ বছর আগে যখন ঢাকা ওয়াসার দায়িত্ব নেন তাকসিম এ খান, তখনো শুষ্ক মৌসুমে রাজধানীতের পানির তীব্র সংকট ছিল। যা আজও আছে। অন্যদিকে বর্ষায় রাজধানীর সড়ক ও অলিগলী ময়লা পানিতে টইটুম্বুর ছিল। তার দায়িত্ব পালনের প্রায় একযুগের মাথায় সেই একই অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। খাবার পানিতে এখনো ময়লা আবর্জনার ছড়াছড়ি। অথচ এমডি তাকসিম বরাবরের মতোই দাবি করে আসছেন- ওয়াসার পানি সুপেয়! এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর জুরাইনের বাসিন্দাসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন গত বছরের ২৩ এপ্রিল  জুরাইন ও পূর্ব রামপুরা থেকে পাঁচজন রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনের সামনে আসেন। রাজধানীতে পানি সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওয়াসার পানি কতটা ‘সুপেয়’, তা দেখানো ও সেই পানি দিয়ে শরবত তৈরি করে এমডিকে পান করানোর জন্য তারা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এখানে আসেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমডি ওই পানি পান করেননি।

ওই সময়ে জুরাইন নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান ওয়াসার এমডির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন এ রকম কথা কীভাবে বলেন! ওয়াসার এমডিকে তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে।

এদিকে আবারও নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, কতোটা নিলজ্জ হলে তিনি আবারও ওয়াসার এমডি পদ চাইতে পারেন, আমার বুঝে আসে না। অন্যদিকে প্রশাসন যদিও তাকে এপদে নিয়োগ দেয়, তা হবে নগরবাসীর জন্য খুবই দুর্ভোগ ও খারাপ সংবাদ।

তার আগে গত বছরেরই ১৭ এপ্রিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গবেষণা উপস্থাপন করে জানায়, ঢাকা ওয়াসার পানির নিম্নমানের কারণে ৯৩ শতাংশ গ্রাহক বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানি পানের উপযোগী করেন। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে পান করেন। তবে টিআইবির এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছিলেন রাজধানীর কয়েক এলাকার বাসিন্দারা।

ওয়াসা বোর্ড তার দায়িত্ব পালনে ব্যার্থতা দেখিয়েছে এবং এখনই বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানকে অপসাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিৎ বলে মনে করছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পুনঃনিয়োগে বোর্ড সভার বিষয়টি অনৈতিক এবং বিধি বহির্ভূত। আমরা দেখতে পেয়েছি ওয়াসার বোর্ড সভার আলোচনার একমাত্র বিষয় বস্তুতে কেবলমাত্র বর্তমান এমডির নাম উল্লেখ করে তাকে আবারও নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী- এই পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়েছিলো কিনা? কারা আবেদন করেছিলেন? কতোজন আবেদন করেছিলেন? যারা আবেদন করেছিলেন, তারা কেনো যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হলেন না? কেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকে একমাত্র উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হলো? কেন বারবার বিধি ভঙ্গ করে একই ব্যক্তিকে নবায়নদান অপিরিহার্য হয়ে পড়লো? এসব প্রক্রিয়াগত প্রশ্নে উত্তার যাচাই বাচাই করা হচ্ছে। অথচ, বর্তমান এমডি দায়িত্বপালনকালীন সময়ে ঢাকা শহরের জনগনের দুর্ভোগের বিষয়টি কারো অজানা নয়!

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র জানা যায়, বর্তমান এমডি দায়িত্বপালনকালে বিভিন্ন রকমের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। এ সংক্রান্তে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সেগুলোর কোন কোন বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, যেখানে সরকার প্রধান বারবার ‍দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলছে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলছে, সেখানে এই বিষয়ে একটা সুরাহা হওয়া উচিৎ। কিন্তু আমরা তা দেখতে পাচ্ছি না। ওয়াসার দুর্নীতিতে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এতোদিন এই এমডি কি করে এ পদে বহাল থাকলেন? এর একটা নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। ওয়াসার সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা দরকার। আমি মনে করি- ওয়াসা বোর্ড তার দায়িত্ব পালনে ব্যার্থতা দেখিছে। এখনই বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানকে অপসানের উদ্যোগ গ্রহন করা উচিৎ।

জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসা পরিচালিত হয় ১৯৯৬ সালে পাস হওয়া ‘ওয়াসা অ্যাক্ট’অনুযায়ী। এ আইনে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হচ্ছেন এমডি। ওয়াসা বোর্ডের প্রস্তাব বা সুপরিশ অনুযায়ী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এমডি পদে নিয়োগ দেয় সরকার। কিন্তু একই ব্যক্তি একই পদে সর্বোচ্চ কতবার বা কত বছর নিয়োগ পেতে পারেন, সে ব্যাপারে আইনে কিছু বলা নেই। ফলে ২০০৯ সালে প্রথম দফায় নিয়োগ পাওয়ার পর আর পদ ছাড়তে হয়নি তাকসিম এ খানকে। এরপর আরও ৪ দফা নিয়োগ পেয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে, কখনো ওয়াসা বোর্ড তাকসিম এ খানের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেছে, মন্ত্রণালয় বিরোধিতা করেছে, আবার কখনো মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই তাকসিমকে পুনর্নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব পাস করেছে ওয়াসা বোর্ড।

ঢাকা ওয়াসার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৩ সালে। এর উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা শহরে পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন করা, পরে এর সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব যোগ হয়। ওয়াসার কর্মকর্তাদের একাংশ দাবি করেন, এখন সংস্থাটি নগরবাসীর চাহিদার তুলনায় বেশি পানি উৎপাদন করে।

কেএফ/ এমকে

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৩৯৪৮২৭ ৩১০৫৩২ ৫৭৪৭
বিশ্ব ৪,১৫,৭০,৮৩১ ৩,০৯,৫৮,৫৪৬ ১১,৩৭,৭০৩
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর পাঠক প্রিয়