logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭

রাজপথ কাঁপানো সেই ছাত্রলীগ নেতাদের দেখা নেই আওয়ামী লীগে

|  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৩৩ | আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:২৯
politics, student politics,
আওয়ামী লীগ
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের অল্প কয়েকজন জায়গা পেলেও বেশিরভাগই উপেক্ষিত। সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্বে থাকলেও আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটিতে আছেন অল্প কয়েকজন। সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নও পাননি অধিকাংশ। ছাত্রলীগের শীর্ষ পদেই শুধু নয়, সহ-সভাপতি বা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী অনেক নেতাই এখন জায়গা পাননি। আবার কাউকে কাউকে সান্ত্বনা দিতে করা হয়েছে কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক। গণহারে এ সহ-সম্পাদক করায় অনেকেই নিজেদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের সর্বোচ্চ দায়িত্ব হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিদের মধ্যে একমাত্র ওবায়দুল কাদেরের ঠাঁই হয়েছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ নির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীতে জায়গা পেয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, ডাকসুর সাবেক ভিপি তোফায়েল আহমেদ আছেন দলের উপদেষ্টা পরিষদে। পূর্ব পাকিস্তানের সর্বশেষ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেই নেই। তার কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শাজাহান সিরাজ। পরে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি বিএনপির রাজনীতি করেছেন আমৃত্যু। ওই কমিটিতে ইসমত কাদির গামাকে করা হয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। সেই ইসমত কাদির গামারও স্থান হয়নি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে।

১৯৭২-৭৩ সালে সাধারণ সম্পাদকদের দায়িত্ব পালনকারী এম এ রশিদ এখন প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন নিয়ে আছেন। ১৯৭৭-৮১ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাহালুল মজনুন চুন্নুও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। জায়গা হয়নি কোথাও। ১৯৮১-১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান আগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। পরবর্তীতে তাকে দলের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক করা হলেও এখন দলে কোনো পদ-পদবি নেই।

তার সময়ের সাধারণ সম্পাদক আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করলেও এখন কেন্দ্রীয় পদে নেই। অবশ্য তিনি দশম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের টিকিটে পটুয়াখালী থেকে এমপি হয়েছেন। ১৯৮৩-’৮৫ সাল পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন আবদুল মান্নান ও জাহাঙ্গীর কবির নানক। তারা দুজনই একাদশ জাতীয় সংসদের এমপি। জাহাঙ্গীর কবির নানক আওয়ামী লীগে জায়গা পেলেও আবদুল মান্নানকে কোনো পদে রাখা হয়নি। তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

১৯৮৬-’৮৮ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। তাকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সংস্কার ইস্যুতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি গণফোরামের হয়ে নির্বাচনে লড়েছেন। জয়ও পেয়েছেন। তবে গণফোরামের কোনো কমিটিতেও তিনি নেই। তার সময়ের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান দলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। তিনি ফরিদপুর থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। নব্বইয়ের গণআন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের হাবিবুর রহমান হাবিব সভাপতির দায়িত্ব পালনকালেই দলবদল করলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয় শাহে আলমকে। শাহে আলম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক। তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের দলে অবস্থান উপ-প্রচার সম্পাদক।

১৯৯২-৯৪ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী স্থানীয়ভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে আছেন দীর্ঘদিন ধরেই। তবে ছাত্রলীগের দায়িত্ব ছাড়ার পর তাকে কখনও আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যায়নি। এমনকি জেলা কমিটিতেও স্থান পাননি। সাধারণ সম্পাদক ইকবালু রহীম সংসদের সদস্য ও হুইপ হলেও দলীয় কোনো দায়িত্বে নেই। ১৯৯৪-৯৮ সালে দায়িত্ব পালনকারী সভাপতি এনামুল হক শামীম দলের শেখ হাসিনার চতুর্থ মন্ত্রিসভার পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমন্ত্রী। তিনি শরীয়তপুর-২ আসন থেকে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না এখন নিষ্ক্রিয়। তবে তিনি জেলা কমিটির সদস্য। ১৯৯৮-২০০২ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী বাহাদুর বেপারী কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নেই। তাকেও দলের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক করা হয়েছে। আর সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনের অবস্থানও একই।

২০০২-০৬ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী লিয়াকত শিকদারদের দলীয় অবস্থান নেই। সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নেই। ২০০৬-১১ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী মাহমুদ হাসান রিপন ও মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেও এখনো কোথাও স্থান পাননি।

২০১১-২০১৫ সাল পর্যন্ত এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলম দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে বদিউজ্জামান সোহাগ এখন দলের কোনো দায়িত্বে নেই। সিদ্দিকী নাজমুল আলম থাকেন যুক্তরাজ্যে। তিনি নিজ জেলা জামালপুর আওয়ামী লীগের সদস্য। ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন মো: সাইফুর রহমান সোহাগ ও এস.এম জাকির হোসাইন। দুজনেই এখনও কোথাও জায়গা পাননি। এরপরের কমিটির রেজওয়ানুল হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী দায়িত্ব পালনের মাত্র এক বছরের মাথায় পদচ্যুত হন। রাব্বানী ডাকসুর দায়িত্ব ছাড়ার টিম পজিটিভ বাংলাদেশ নামক একটি সামাজিক নিয়ে কাজ করছেন। তবে শোভনকে একেবারেই কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যায় না। তিনিও কোনো জায়গায় স্থান পাননি।

১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ চার বছর ধরে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ওবায়দুল কাদের। কেবল তিনিই আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ দায়িত্ব সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন। সরকারেও দায়িত্ব পালন করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর।

১৯৬৯-১৯৭০ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন আ স ম আবদুর রব। তিনি এখন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭২-১৯৭৩ সালে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী শেখ সহিদুল ইসলাম ও এম এ রশিদ কেউই আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে নেই। শেখ শহিদুল ইসলাম কয়েক দফা দল বদল করে এখন আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি-জেপির সাধারণ সম্পাদক। ১৯৭৩-১৯৭৪ সালে সভাপতি হন মনিরুল হক চৌধুরী। প্রথমে জাতীয় পার্টি ও পরে বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে সময়ের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। পঁচাত্তরের পট-পরিবর্তনের পর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলেন এম এ আউয়াল।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারী আরটিভি নিউজকে বলেন, আমরা আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার ছাত্র। সারাজীবন ছাত্র হিসাবে থাকতে চাই। তিনি এই প্রতিষ্ঠানে যেভাবে রাখবেন, সেভাবেই থাকতে চাই।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি, ভালোবাসা থেকে। দল সেই ভালোবাসার মূল্যায়ন নিশ্চয় একদিন করবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, কাউকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, বিষয়টা এমন না। সবাইকে তো একসঙ্গে জায়গা দেয়া সম্ভব না। দলে যারা সক্রিয় আছেন, সভানেত্রী সবাইকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে কমিটিতেও ছাত্রলীগের অনেক নেতাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আগামীতেও হবে। এক্ষেত্রে দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

এসজে/ এমকে      

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৩৪৪২৬৪ ২৫০৪১২ ৪৮৫৯
বিশ্ব ৩,০১,২৬,০২০ ২,১৮,৭৪,৯৫৭ ৯,৪৬,৭১২
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর পাঠক প্রিয়