logo
  • ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা বাড়লেও ভয়ে মামলা করে না সাধারণ মানুষ (ভিডিও)

  মাইদুর রহমান রুবেল, আরটিভি নিউজ

|  ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:৩৮ | আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:১৮
দেশে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা বাড়লেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মামলা করার সাহস পায় না স্বজনরা। তার ওপর পুলিশের ভয়ভীতি আর আইনের মারপ্যাঁচে আটকে হাঁসফাঁস সাধারণ মানুষের জীবন। এই আইন পুলিশের কাজের অন্তরায় উল্লেখ করে সংশোধনের দাবি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শকের। আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে অপরাধ করলেও আইনটা পুলিশের হাতেই থাকে। 

পুলিশি হেফাজতে আসামি মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে পুলিশি হেফাজতে। মামলা হয়েছে মাত্র ২টি, বাকি ১৪টি পরিবার সাহসই পায়নি পুলিশের বিরুদ্ধে যাওয়ার। সাহস করে যারা মামলা করেছেন নানাবিধ ভয়ভীতি আর হুমকির মুখে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা।

একভুক্তভুগি নারী ফোনে জানান, স্বামীকে যেভাবে মারা হয়েছে আমাকেও সেভাবে মারা হবে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে রাস্তায় বের হওয়া যাবে না। ওই নারী জানান সবসময় বাচ্চাদের নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়।  

মিথ্যে মামলা আর আইনের জালে আটকে যাওয়ার ভয়ে পুলিশের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আইনি-সহায়তা না চেয়ে নীরব থাকে। এমন বাস্তবতায় ২০১৩ সালের নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে প্রথম কোনো মামলায় মিরপুরের জনি হত্যার দায়ে তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। 

নিবারণ আইনে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন বা মৃত্যু ঘটলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের চাকরিচ্যুতি, পদোন্নতি স্থগিত ও পদাবনতির মতো শাস্তির বিধান রয়েছে। 

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহিদুল হক বলছেন, হেফাজতে মৃত্যুর নানা কারণ থাকতে পারে। পুলিশের কোনো গাফিলতি, বিচ্যুতি বা অপরাধ প্রমাণিত হলে অবশ্যই উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহিদুল হক জানান, একটা মানুষকে গ্রেপ্তার করলে কষ্ট হবে এটাও নির্যাতনের সংজ্ঞা ভুক্ত করা হয়েছে এবং এই সব সংশোধ করা না হলে পুলিশের কাজ করা কঠিন হয়ে যাবে।   

তিনি বলেন, পুলিশ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে, ফৌজদারি অপরাধ করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে হবে এইটাই স্বাভাবিক  পুলিশ তো আইনের ঊর্ধ্বে না। 

মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি  অ্যাডভোকেট সালমা আলী জানান, যেই অপরাধ করে তার শাস্তিটা যদি ঠিক মতো হতো তা হলে এটা হতো না। অপরাধ যে করে তার অপরাধ সবসময় ধামাচাপা দেয়া হয় এবং তাদের সবসময় ছত্রছায়ায় রাখা হয়। অপরাধের শাস্তি না হলে মানুষ গণতন্ত্র টিকসই হবে না এবং মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে না। 

তিনি আরও বলেন, আইনের রক্ষক আইন ভঙ্গ করবেন এমনটা হওয়া উচিত নয়। অপ্রিয় হলেও সত্য তবু কিছু পুলিশের কর্মকর্তা আইনের অপব্যবহার করছে যা গণতন্ত্রের জন্য অন্তরায়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র উপ-পরিচালক নীনা গোস্বামী জানান,  শুধু পুলিশ না যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে তারাই বিভিন্নভাবে মানুষকে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করে। যারাই সাহস নিয়ে অভিযোগ করে এবং মামলা করতে যান তারা ভয়ে পিচ পা হয়ে যান। 

তিনি আরও বলেন, অপরাধ করলেও আইনটা পুলিশের হাতেই থাকে। অপরাধ করেও পার পেয়ে গেলে পুলিশ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী কেউ নির্যাতনের শিকার হলে আদালতে অভিযোগ করতে পারে। শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন প্রমাণিত হলে শাস্তি হিসেবে ন্যূনতম ৫ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া নির্যাতনের ফলে মৃত্যু হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড হতে পারে।

এনএম/এম 
 

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৩৫৫৪৯৩ ২৬৫০৯২ ৫০৭২
বিশ্ব ৩,২১,৯৬,৬৫৫ ২,৩৭,৫১,১৩৪ ৯,৮৩,৬০৯
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর পাঠক প্রিয়