logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

‘বাবু খাইছো’ গানের সমালোচনা নিয়ে দর্শক ও শিল্পীর পাল্টাপাল্টি জবাব  

  আরটিভি নিউজ

|  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৪৬ | আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:৪২
A scene from the song
গানের ভিডিও চিত্রের একটি দৃশ্য
ছোট বাবুটার জন্য মিটসেফে খাবার রেখে মা গিয়েছিলেন অফিসে, বাসায় ফিরেই সন্তানকে জিজ্ঞেস করলেন, বাবু খাইছ? সন্তান হ্যাঁ অথবা না কিছু একটা বললো। অথবা রাস্তাঘাটে চলার পথে হঠাৎ শুনলেন ‘বাবু খাইছো? তাকিয়ে দেখলেন একজন তার বাবু নামের বন্ধুকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে সে খেয়েছে কিনা। তবে এখন এই বাক্য শুনলে মনে হয় কোনো প্রেমিক তার প্রেমিকাকে অথবা প্রেমিকা তার প্রেমিককে জিজ্ঞেস করছে- কথাগুলো বলছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারিয়া হোসেন। 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বাবু খাইছ?’  শিরোনামের একটি গান ভাইরাল হয়েছে। গানটি লিখেছেন ও কণ্ঠ দিয়েছেন ডিজে মারুফ। ঈগল মিউজিক ভিডিও স্টেশন থেকে গানটি প্রকাশ করা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি দেয়া গানটি এখন পর্যন্ত ভিউ হয়েছে ২৮ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি।  

তবে গানটি নেতিবাচকভাবে নিচ্ছেন অনেকেই। ‘বাবু খাইছ?’ বাক্য নিয়ে নতুন করে ট্রল হচ্ছে। ফেসবুকে গ্রুপও তৈরি হয়েছে। অনেকেই মজা করে একে অপরকে জিজ্ঞেস করছেন। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। 

বিষয়টি নিয়ে আরটিভি নিউজের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতামত লিখতে বলা হয়েছিল। অনেকেই নিজস্ব যুক্তি দিয়ে মতামত দিয়েছেন। অন্যদিকে গানটির লেখক ও শিল্পী বলছেন তার দৃষ্টিকোণ থেকে গানটি সঠিক আছে। 

গান প্রসঙ্গে ডিজে মারুফ আরটিভি নিউজকে বলেন, সব গান সব রুচির মানুষের জন্য না। মানুষ যদি এতটা সংস্কৃতি নিয়ে চিন্তা করে তাহলে ভাবতে হবে তার সৃষ্টি সমাজের জন্য কী করছে। এটা আসলে  র‍্যাপ সং। এই গান সবার কাছে পছন্দ না হতে পারে। যারা রবীন্দ্র, নজরুল সঙ্গীত তারা কিন্তু পছন্দ নাও করতে পারেন। এই ধরণের গান শোনার অভ্যাস না থাকলে প্রথমে কেউ পছন্দ নাও করতে পারেন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গানটি নিয়ে সানজিদা জামান কণিকা লেখেন, গানের সৌন্দর্য নষ্ট করবার জন্য এটাই যথেষ্ট। এটা কি কোনো গান হইলো! গানের একটা সুন্দর অর্থ থাকে, একটা সুন্দর ভাষা থাকে। 

ম্যাক চৌধুরী লিখেছেন, এসব নিয়ে যত কম লেখা যায় ততই মঙ্গল, ওরা চায় রিয়্যাক্ট এন্ড কমেন্ট। 

হুসাইন মাহমুদ রাসেল লেখেন, এই গানটি আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির সাথে একেবারেই মানায় না। আমাদের সুস্থ সংস্কৃতি নষ্ট করছে তথাকথিত এই গানগুলো। এসব উদ্ভট গানের যাঁতাকলে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের হাজার বছরের বাঙালিয়ানা সুস্থ সংস্কৃতি, হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য। 

হাসিবুল আলম লেখেন, বর্তমানে খুব জলদি আলোচনায় আসার জন্য মানুষ ভিন্নরকম কিছু করে যা সম্পূর্ণ অসামাজিক এবং অগ্রহণযোগ্য। 

মারাজ আহমেদ লেখেন, একটা প্রবাদ ছিল দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বাচাতে হলে এখন আমাদের এ সমস্ত সস্তা কন্টেন্ট গুলোকে পরিত্যাগ করা ছাড়া আর কোন উপায় আছে বলেও আমার মনে হয় না।

সৌরভ আহমেদ লেখেন, একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন এই গানটা শিক্ষিত শ্রেণির তরুণ-তরুণীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। 

আবু বকর লেখেন, বর্তমান জেনারেশন এসব ফালতু কনটেন্ট ফলো করছে। এতে তাদের আচরণের মধ্যেও এসবের প্রভাব ফেলছে। 

নুসরাত নিশ লেখেন, বর্তমানের কিছু আজাইরা টাইপ টাইমপাস নামক রিলেশনশিপ গুলায় এইগুলা আদিখ্যেতা করে সম্বোধন করা হয়, তাই এইগুলা ট্রেন্ড হয়ে যায়।

সৈয়দা সাদিয়া শাহরীন লেখেন, শিরোনাম শুনে আর দেখার বা শোনার ইচ্ছা হয় নাই। এই ধরণের বাক্যে গান হতে পারে এটা আবার আমার কাছে ভালো ঠেকেনি।

রেজাউল তানভীর তুহিন লেখেন, আমার আপনার বাবা মা যদি বিনোদনের ব্যবস্থা না করে তাহলে আমাদের দারা সাংস্কৃতিক অবক্ষয় হবে সেটা মেনে নিতেই হবে।

তবে কারও কারও দৃষ্টিতে গানের কথা ঠিক থাকলেও তারা প্রশ্ন তুলেছেন ভিডিও মেকিং নিয়ে। এস এম রিমেল নামের একজন বলেন, এই খাওয়া (ফিডার খাওয়া) অন্য কিছু বোঝাচ্ছে। খাওয়ার প্রশ্নে ফিডার মুখে কেন ভাই। আগে এই উত্তর চাই।

ভিডিও কন্টেন্টের আপত্তি প্রসঙ্গে ডিজে মারুফ বলেন, যারা ভিডিও নিয়ে কাজ করেছেন, ডান্সার আছেন তারা তাদের বিষয় বলতে পারেন। তবে আমার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী আমার গানের কথা সুর ঠিক আছে। আমার যে ভালো গান নাই তা কিন্তু না। আমার আরও অনেক গান আছে। দেশের বাইরে থেকে অনেকেই আমাদের গান শুনছেন ভালো মতামত দিচ্ছেন। 

জিএ/ এমকে

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৩৫৫৪৯৩ ২৬৫০৯২ ৫০৭২
বিশ্ব ৩,২১,৯৬,৬৫৫ ২,৩৭,৫১,১৩৪ ৯,৮৩,৬০৯
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • সোশ্যাল মিডিয়া এর সর্বশেষ
  • সোশ্যাল মিডিয়া এর পাঠক প্রিয়