‘প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, কেউ যেন বোরকা পরলে শিবির আর জিন্স পরলে গাঁজাখোর না বলে’

প্রকাশ | ১৭ মার্চ ২০১৯, ১৯:০০ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০১৯, ২৩:৫৭

সিয়াম সারোয়ার জামিল
শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি, ছবি: সংগৃহীত

শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া এই নেত্রীকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল একবার। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আলোচিত হয়েছেন তিনি। বিপদে পাশে দাঁড়ানো এই নেত্রী এখন ছাত্রীদের কাছে ভরসার নাম। তারই ধারাবাহিকতায় গেলো ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে শামসুন নাহার হলের সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন। শুধু তিনি নন, তার স্বতন্ত্র প্যানেলের সবাই জয় পেয়েছেন। নির্বাচন, নির্বাচন পরবর্তী আন্দোলন, গণভবনের দাওয়াতসহ সব বিষয় নিয়েই আরটিভির সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন ইমি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার সিয়াম সারোয়ার জামিল।

আরটিভি অনলাইন: নির্বাচনের এক সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চলেছে। এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কোনও উদ্যোগ নিয়েছেন?

ইমি: নির্বাচনের পরেই হলের প্রভোস্ট ম্যামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। ম্যাম, দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে কাজ শুরু করা যাবে না। হল সংসদের রুমটাও গুছানো হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে কাজ শুরু করতে একটু সময় লাগবে।

আরটিভি অনলাইন: হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে আপনার ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি। হলের শিক্ষার্থীদের এতো বেশি​ সমর্থন পাবার কারণ কী?

ইমি: হলে আসা প্রায় সাড়ে চার বছর হয়ে গেছে। আমি সবসময় হলের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই হলের প্রত্যেক রুমে একাধিকবার গেছি। আমি দীর্ঘদিন বাঁধনের সঙ্গে কাজ করেছি। রক্ত জোগানোর কাজ করতে করতে সবার সঙ্গে একটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক দাঁড়িয়েছে। কারো বাবা-মা অসুস্থ হলেও আমরা ফান্ড রেইজ করে দিয়েছি। এসব কাজ করতে করতে গত সাড়ে চার বছরে প্রত্যেকটা রুমেই একাধিকবার করে যাওয়া হয়েছে। সবাই কম-বেশি চেনে। তাছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরে হলের গেট থেকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল আমাকে। ফলে হলের আপুদের আমার প্রতি একটা সহানুভুতি ছিল সবসময়। এসবই আমাকে বিজয়ী করতে সহায়তা করেছে।

------------------------------------
আরো পড়ুন: সোমবার ১১৬ উপজেলায় নির্বাচন
------------------------------------

আরটিভি অনলাইন: ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর-নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম বক্তব্য দিয়েছেন। গতকাল গণভবনে একরকম বক্তব্য রেখেছেন। আজ বিকেলেও আবার পুনরায় ভোট চেয়েছেন। তার এরকম বক্তব্যকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

ইমি: এর আগেও আমি একটি গণমাধ্যমে বলেছিলাম। নুরুল হক নুর, ডাকসুর সম্মানিত ভিপি। তার কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেন শিক্ষার্থীরা। তার সময়ে সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেয়াটা দুঃখজনক।

আরটিভি অনলাইন: ভোট সুষ্ঠু হয়নি,পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে- এমন দাবি তুলে ক্যাম্পাসে পাঁচ প্যানেলের প্রার্থীরা যে আন্দোলন করছেন, সেই আন্দোলনকে কীভাবে দেখছেন?

ইমি: আমার হলে ভোট সুষ্ঠু হলেও সামগ্রিকভাবে পুরো ক্যাম্পাসে ভোট সুষ্ঠু হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে পাঁচ প্যানেলের চলমান এই আন্দোলনকে সমর্থন করি।

আরটিভি অনলাইন:  বামপন্থী দুই নেত্রী- তানহা ও মীম- ভোটে জয়ী হয়েও সামগ্রিকভাবে ভোট বর্জন করেছেন। গতকাল গণভবনেও তারা যাননি। তাদের সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখছেন?

ইমি: সবারই ব্যক্তিগত মত আছে। আমি তাদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা যে সাহস দেখিয়েছেন, সেজন্যে সাধুবাদ জানাই।

আরটিভি অনলাইন: আপনি বলছেন, ভোট পুরোপুরি সুষ্ঠু হয়নি। আন্দোলনকারীদের প্রতিও আপনার সমর্থন আছে- এমনটা জানিয়েছেন। গণভবনে যারা দাওয়াত পেয়েছেন, তারা এই ভোটে বিজয়ী। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে কি ভোটের বৈধতা দেয়া হলো না?

ইমি: আমি গিয়েছিলাম শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের সম্মান রাখতে। না গেলে তাকে অসম্মান করা হবে। ভুলভাবে উপস্থাপনও করা হতে পারে। তবে আমি এটাও বলে এসেছি, গত পরশু আমার রোকেয়া হলের বোনেরা না খেয়ে হলের সামনে পড়ে ছিলেন। সহযোগিতা তো দূর, তাদের চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়েছে। দাওয়াত পাবার পর থেকে আমাকে বিষয়টি পুড়িয়েছে। গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে বলে এসেছি, দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে কেউ যেন আর কোনও মেয়েকে যেন বোরকা পরলে শিবির কিংবা জিন্স পরলে গাঁজাখোর না বলে।

আরটিভি অনলাইন: ভবিষ্যতে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন?

ইমি: নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলাম, কারণ পরিবর্তন দরকার। তবে ভবিষ্যতে কোনও রাজনীতি করার ইচ্ছা নেই। শুধু হল জীবনে বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে মুক্তি পেতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতে এই নির্বাচন করা। দায়িত্ব শেষ হলে কী করবো, সেটা সময়ই বলে দেবে। এখন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই।

আরো পড়ুন :

এসজে/জেএইচ