ইসলামের প্রকৃত বার্তা ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৩১ | আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৪৩

আরটিভি ডেস্ক
শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার সুদর্শন দীপাল সুরেশ সিনিভিরন্তে বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনও স্থান নেই। ইসলামের প্রকৃত বার্তা ছড়িয়ে দিতে সরকার দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করছে।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে তিনটি দেশের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূত গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে আরও বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য দূতদের প্রতি আহ্বান জানান। খবর বাসস ও ইউএনবির।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য উন্নত ও আধুনিক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। ওই এলাকাকে আরও উন্নত করা হবে।

শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার সুদর্শন দীপাল সুরেশ সিনিভিরন্তে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে শেখ হাসিনা বলেন, দেশজুড়ে একশটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে বাংলাদেশ। এখানে বিদেশিদের জন্য প্রদত্ত অনুকূল ব্যবসার সুযোগ গ্রহণ করে শ্রীলঙ্কার উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারেন।

হাইকমিশনার বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের বিমান খাত, নার্সদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিপিং, হাসপাতাল, পর্যটন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক খাতে বিনিয়োগ এবং কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিগত কয়েক বছরে প্রভূত উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে। হাইকমিশনার বলেন, তার দেশ সমুদ্র ভ্রমণ চালুর পাশাপাশি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে কালচারাল ট্যুরিজম গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায়।

কভিড-১৯ মোকাবিলায়ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার বলেন, তিনি বাংলাদেশের করোনাভাইরাস ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত বিস্মিত।

ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন মনোনীত হওয়ায় সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়ে শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার বলেন, অটিজম ক্ষেত্রে তার কাজ প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা অটিজম খাতে সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী বলেও তিনি মত ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় এটা পিতা-মাতার জন্য লজ্জার কারণ ছিল অটিস্টিক ছেলেমেয়ে এবং তারা তাদের বাইরে আনতে চাইত না। সরকার এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। হিজড়াদেরও ভাতা দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

মিসরের রাষ্ট্রদূত হেথাম ঘোবাশি সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং তাদের প্রত্যাবাসনে সমর্থন দিয়ে যাবে। শেখ হাসিনা এ সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য 'ইস্টার্ন মিডেটারেনিয়ান গ্যাস ফোরাম'-এর পর্যবেক্ষক হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মালদ্বীপের হাইকমিশনার সিরুজিমাথ সমীর সাক্ষাত করতে গেলে শেখ হাসিনা দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শেখ হাসিনা মালদ্বীপের আরও বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশে এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি কৃষি ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের তাগিদ দেন। সিরুজিমাথ সমীর শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান দ্বীপরাষ্ট্রটির হাইকমিশনার।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন।

এফএ