logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

তিন বছরে ছাত্র ইউনিয়নের দুই কর্মী নিহত, বিচার হয়নি একটিরও

সিয়াম সারোয়ার জামিল, আরটিভি অনলাইন
|  ০৩ জুলাই ২০১৯, ১৪:০৭ | আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৯, ১৪:৪৮
গেলো তিন বছরে ছাত্র ইউনিয়নের দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। কর্মীদের মৃত্যুর পরে দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ হয়েছে। দেশজুড়ে কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়েও বিচার হয়নি কোনোটিরই। তদন্ত না এগোনোয় ঝুলে আছে মামলা। দাখিল হয়নি চার্জশিটও। তাদের স্মরণ করে না পরিবার এমনকি সংগঠনও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিহত দুইজন হলেন আফসানা ফেরদৌসী ও আবিররবি দাস। এর মধ্যে আফসানা ঢাকার সাইক মেডিকেল ইনস্টিটিউটের স্থাপত্য বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। মিরপুর থানা ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করতেন। মিরপুরের মানিকদি রোড এলাকার একটি মেসে থেকে পড়াশোনা করতেন। ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট তিনি নিহত হন। 

তেজগাঁও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি হাবিবুর রহমান ওরফে রবিনসহ তার কয়েক বন্ধু আফসানাকে হত্যা করেছেন বলে ওই সময়ে পরিবার ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীরা অভিযোগ করেন। এ নিয়ে বিক্ষোভ করতে গেলে তৎকালীন তেজগাঁও কলেজ ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি শামীম আহমেদসহ ৭ জনকে পেটায় রবিনের অনুসারীরা। এ ঘটনায় রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলাও হয়। 

বিক্ষোভের মুখে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন রবিন। পরে ক্যাম্পাসে ফিরে ফের সংগঠনে সক্রিয় হয়েছেন। পেয়েছেন তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতির পদ। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলারও কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন কাফরুল থানার ওসি। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, মামলা অনেক আগের। ওভাবেই আছে। অগ্রগতি নেই।

অন্যদিকে, বরিশাল মহানগর ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী আবিররবি দাস ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর নিহত হন। বনানী এ কে স্কুল মাঠে আবিররবি দাসকে ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়। এ ঘটনায় আবিরের বাবা জয় দাস বাদী হয়ে মিরাজ ও অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় প্রধান আসামি মিরাজ গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। মামলার কোনো অগ্রগতি নেই।

স্থানীয় ছাত্র ইউনিয়ন নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, হত্যাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হিরণকুমার দাস মিঠু আরটিভি অনলাইনকে জানান, আসামিরা জামিনে আছেন। পুলিশ এখনও চার্জশিট দেয়নি। 

এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল আরটিভি অনলাইনকে বলেন, দেশজুড়ে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, এটা তারই ফল। এখন পর্যন্ত ছাত্র ইউনিয়ন নেতা-কর্মীদের ওপর যত হামলার ঘটনা ঘটেছে, কোনোটিরই বিচার হয়নি। প্রত্যেকটা ঘটনার পর আমরা দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছি। বিচারের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু পুলিশ-প্রশাসন সেসব ভুলে গেছে।

সংগঠন থেকে কেন গত বছরগুলোতে স্মরণ করা হয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিহত সকল কর্মীকেই ছাত্র ইউনিয়ন স্মরণ করে থাকে। দলীয় কর্মসূচির চাপে হয়তো আফসানা-আবিরের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়নি। তবে আগামী মৃত্যুবার্ষিকীতে দলীয় কর্মসূচি থাকবে। 
এসজে/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়