logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

দুইদিন কি আপনার জন্য রোগী বসে থাকবে: ডাক্তারকে মাশরাফি (ভিডিও)

নড়াইল প্রতিনিধি
|  ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৪৪ | আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৩৬
‘‘আপনি তো আজকেই তত্ত্বাবধায়ক হননি। আপনি কাল যোগ দিয়েছেন সেটা বিষয় না। আপনি কালকে যোগ দিয়েছেন বলে আজকে যে রোগী মারা যাবে না, এমনতো গ্যারান্টি নাই। আপনার এখানে ডাক্তার নাই। নার্সের সুপারভাইজারও অনুপস্থিত। আপনার থাকার কথা নড়াইলে। আপনি বাসায় কেন, আমাকে বুঝিয়ে বলেন। যদি কোনও রোগীর অপারেশন প্রয়োজন হয়? আপনি বলছেন-রবিবার আসেন, আমি রবিবার সার্জারি করবো। এ দুইদিন আপনার জন্য রোগী পড়ে থাকবে। আপনি বলেন আপনারে কি করবো? আপনি কি ফাইজলামি করেন? চাকরি করলে নিয়ম মেনেই করবেন।’’

নড়াইল সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আকরাম হোসেনকে মুঠোফোনে বলছিলেন নড়াইল-২ আসনের সাংসদ ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা

গেল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টায় নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় চিকিৎসকদের অবস্থান জানতে চেয়ে হাজিরা খাতা দেখেন। পরে জানতে পারেন ছুটি ছাড়াই ওই চিকিৎসক তিনদিন ধরে অনুপস্থিত। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি প্রথমে রোগী হিসেবে ওই চিকিৎসককে ফোন করেন। পরে নিজের পরিচয় দেন। 

সেদিন মাশরাফি হাসপাতালের নানা স্থান ঘুরে দেখেন। জানতে পারেন হাসপাতালে পর্যাপ্ত নার্স থাকলেও দু-একজন নার্স দিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিচালিত হচ্ছে। তখনই নিচে নেমে এসে নার্সিং সুপারভাইজরদের খোঁজ করেন। তাদের কক্ষে তালা দেখতে পেয়ে টেলিফোন করেন। একজন সুপারভাইজরের ফোন বন্ধ পান এবং অন্যজনের ফোন খোলা থাকলেও রিসিভ করেননি। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে নানা সমস্যার কথা শুনে খোঁজখবর নিয়ে দেখতে পান, পুরো হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন ডাক্তার।

ওই সময় রোগীরা অনুরোধ করেন হাসপাতালের টয়লেট ও তার পরিবেশ দেখার জন্য। কয়েকটি টয়লেটের দরজা ভাঙা এবং দুর্গন্ধ যা দেখে মাশরাফি নিজেই বিব্রত হয়ে যান।

মাশরাফির হাসপাতালে আসার খবর পেয়ে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মশিউর রহমান বাবু ছুটে আসেন। আরেক চিকিৎসক ডা. আলিমুজ্জামান সেতুও চলে আসেন। এ সময় চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি বিষয়ে কথা বলে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারকে দিয়ে ডা. আকরাম হোসেনকে তিন দিনের অনুপস্থিত করিয়ে নেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে বসে তিনি তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুরকে ফোন করেন। সে সময় তিনি খুলনায় একটি সভায় অংশগ্রহণ করে মাগুরায় বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। কর্মস্থলে অবস্থান করার কথা জানিয়ে রাতের মধ্যেই তাকে হাসপাতালে চলে আসতে বলেন মাশরাফি। তবে এক ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতালে চলে আসেন তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর।

পরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জন, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের সঙ্গে সভা করেন সংসদ সদস্য মাশরাফি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, হাসপাতালের অবকাঠোমো দেখভাল করা প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। সভাটি হয় রুদ্ধদ্বার। পরে জানা যায়, সভায় হাসপাতালের নানা অনিয়মের মধ্যে বাইরের অ্যাম্বুলেন্স, দালাল ও ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের কঠোরভাবে দমনের কথা বলেন মাশরাফি। তিনি আগামীতে এসব ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি হাসপাতালকে মানুষের সেবার জন্য উন্মুক্ত করতে বলেন।

হাসপাতালের রোগীদের সঙ্গে কথা বলছেন নড়াইল-২ আসনের এমপি, ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা, ছবি: সংগৃহীত

এদিন সন্ধ্যায় নড়াইলের লোহাগড়ায় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন মাশরাফি। এসময় তিনি বলেন, আমি মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রণালয়ে ঘুরছি, এলাকার উন্নয়নের বরাদ্দ আনছি। কিন্তু এই বরাদ্দের শতভাগ টেকসই বাস্তবায়ন চাই। কাজগুলো সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, তা আপনারা সবাই মিলে খেয়াল রাখবেন। না হলে আমাকে বলবেন।

শুধু বরাদ্দ আনাই নয়, তদারক করাও আমার দায়িত্ব। সাধারণ মানুষ আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমার সব চিন্তা তাদের ঘিরেই।

এছাড়া নড়াইল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, সততা স্টোর, ডিজিটাল হাজিরা খাতার শুভ উদ্বোধন করেন মাশরাফি। ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নাকসী মাদরাসা বাজার মসজিদের কাজেরও উদ্বোধন করেন। এর পাশাপাশি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা হোস্টেলের উদ্বোধন করেন তিনি।

এমসি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়