logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জাহালমের ঘটনায় দায় নিতে চায় না দুদক

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৬ মার্চ ২০১৯, ১০:১১ | আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ১১:৫৮
​বিনা অপরাধে তিন বছর জেল খাটা জাহালমের বিষয়ে দায় নিতে চায় না দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ব্যাংকগুলোর অনুসন্ধান প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই তাদের তদন্ত কর্মকর্তারা প্রথম অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের দেওয়া তথ্য-উপাত্ত আমলে না নেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাহালমের জামিন আদেশের পর এ বিষয়ে সবিস্তার ব্যাখ্যা দিতে বলেন আদালত। সে সময় দুদকের আইনজীবী ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য চার সপ্তাহের সময় নিয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় আদালতে ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য হলফনামা আকারে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে দুদক।

দুদকের প্রধান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, ‘প্রতিবেদনটি আজ (বুধবার) আদালতে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত পাঁচটি ব্যাংককে পক্ষভুক্ত করারও আবেদন করেছে দুদক। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রথম অভিযোগপত্র দেয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সোনালী ব্যাংকের মতো একটি সরকারি ব্যাংক যখন আমাকে কিছু তথ্য-উপাত্ত পাঠাবে অবশ্যই সেটা আমাকে আমলে নিতে হবে। সেই তথ্য-উপাত্তের ভেলিডিটি (বৈধতা) নিয়ে প্রশ্ন ওঠানো দুদকের কোনও আইনগত এখতিয়ার নেই। ব্যাংকের অফিসাররাই তাকে (জাহালমকে) আইডেন্টিফাই করেছে। আমরা সে কথাগুলো এফিডেবিট ইন ফ্যাক্টসে (ঘটনার বর্ণনা বা ব্যাখ্যা হলফনামা আকারে) দাখিল করেছি। আশা করি বুধবার শুনানি হবে।’

তিনি আরও বলেন, তার আগে ব্যাংকগুলোকে পক্ষভুক্ত করতে যে আবেদন, সেটি আগে শুনানি করতে চাচ্ছি। কারণ এখানে ব্যাংক খুবই গুরুত্বপূর্ণ পারসন। আমরা চাই ব্যাংকগুলা এসে তাদের কথা বলুক।’

এ ঘটনায় দুদক দায় নিয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়। আপনারা যেহেতু জিজ্ঞেস করছেন তাই বলছি, এ ঘটনায় দুদকের দায় কতটুকু কিংবা আমার দায় আদৌ আছে কিনা সেটা আদালত নির্ণয় করবেন। কারণ আমি পাবলিক ডকুমেন্টের ভিত্তিতে সরল বিশ্বাসে কাজ করেছি। সে বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ৩১ ধারায় বলা আছে।’ সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমি যদি সরল বিশ্বাসে কাজ করে থাকি তাহলে দায়মুক্তি পাওয়া যাবে। এখানে আমার দায় কতটুকু সেটা নির্ণয় করবে আদালত।’

গত ৩০ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সেদিন বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। পরে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। জাহালমের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে।

একই সঙ্গে নিরীহ জাহালমের গ্রেপ্তারের ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মামলার বাদী, দুদক কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র সচিবের প্রতিনিধি ও আইন সচিবের প্রতিনিধিকে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেয়। সে নির্দেশ অনুযায়ী ৩ ফেব্রুয়ারি দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি হিসেবে দুদকের মহাপরিচালক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা হাজির হলে শুনানি শেষে জাহালমকে তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ওই রাতেই গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পায় জাহালম।

আরও পড়ুন 

এসজে/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • রাজনীতি এর সর্বশেষ
  • রাজনীতি এর পাঠক প্রিয়