• ঢাকা বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫

ছাত্র সংসদের বিধান নেই নোবিপ্রবি আইনে

নোবিপ্রবি সংবাদদাতা
|  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:৫৮ | আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদেরও নির্বাচন চাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়তে অবিলম্বে নির্বাচনের আয়োজন করা জরুরি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য নির্বাচনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বিশ্ববিদ্যালয়টির বিধানে আইন না থাকার বিষয়টিকে প্রধান বাধা বলে মনে করছেন। 

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৬ সাল থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাকাল পরবর্তী ২০ বছরের জন্য ক্যাম্পাসকে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য ড. আবুল খায়েরের আমলে রাজনীতি বন্ধ থাকলেও দ্বিতীয় উপাচার্য ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারীর সময়ে শিক্ষক সমিতি গঠন করার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে রাজনীতির সূচনা ঘটে। 

শিক্ষক রাজনীতি চালু হলেও দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ ছিল। ২০১৭ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতির আত্মপ্রকাশ ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম দৃশ্যমান নেই। ক্রিয়াশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও এ বিষয়ে আগ্রহী। 

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মিন্টু মল্লিক বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকারসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং সেগুলোর সমাধানে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য সামনে থেকে নেতৃত্ব প্রয়োজন। একমাত্র ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমেই এ নেতৃত্ব উঠে আসে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নোকসু চাই।

আরেক শিক্ষার্থী রোকসানা আফতাব রুহী বলেন, আমি মনে করি, ডাকসুর মতো নির্বাচন নোবিপ্রবিতে হলে সব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। যেহেতু শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই একজন প্রতিনিধি থাকবেন, সেহেতু ছাত্রছাত্রীদের কোনও যৌক্তিক চাওয়া আড়ালে থাকবে না, যদি তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হন। আর সুস্থ রাজনীতি চর্চা এবং প্রসারের জন্যও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র সংসদ। এ জন্য আমি চাই, নোবিপ্রবিতে ছাত্র সংসদের যাত্রা শুরু হোক।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম ধ্রুব আরটিভি অনলাইনকে বলেন, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা বা মুখপাত্র নির্ধারণের জন্য ছাত্র সংসদ অবশ্যই প্রয়োজন। পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক দিন বন্ধ থাকার পর বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছার কারণেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন আবার চালু হতে যাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে ছাত্র সংসদের যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হোক, সেটি নোবিপ্রবি ছাত্রলীগ চায়। শিগগির এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান আরটিভি অনলাইনকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদের বিধান নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে নতুন অর্গানোগ্রাম জমা দেয়ার সময় ছাত্র সংসদ কেন্দ্র নামে একটি ভবনের প্রস্তাব করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে চিন্তা করে নির্বাচন দেয়া যায়। 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা দাবি তুললে আইন সংশোধন করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।

এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়