DMCA.com Protection Status
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬

কোটালীপাড়ায় সাংবাদিক নির্মল সেনের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা
|  ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:১৪ | আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৩৬
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট, মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার নির্মল সেন স্মৃতি সংসদের আয়োজনে নির্মল সেন স্কুল এন্ড মহিলা কলেজ চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নির্মল সেন স্মৃতি সংসদের সভাপতি অধ্যাপক গৌরাঙ্গলাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক কার্তিকচন্দ্র বিশ্বাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুবুর রহমান, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কোটালীপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি অশোক কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক রতন সেন কংকন, সাংবাদিক গৌরাঙ্গ লাল দাস, অ্যাডভোকেট খান চমন-ই-এলাহি, কাজী আব্দুল হান্নান, রফিকুল ইসলাম হাওলাদার প্রমুখ।

অপরদিকে আজ সকালে তোপখানা রোডস্থ শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাজবাদী দলের পক্ষে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান মোসাদ্দেক হোসেন স্বপন, মাহাবুবুর রশিদ, আবু সুফিয়ান, মালা সেন, সমীরণ রায় প্রমুখ৷ এছাড়া সিপিবির রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদের বজলুর রশিদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের নাজমুল হক প্রধান, বাম গণতান্ত্রিক ঐক্যের হারুন চৌধুরী, সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের মোকাদ্দেম হোসেন, হারুন-উর রশিদ, শামসুল মাস্টার, সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের বজলুর রহমান ফুলেল শ্রদ্ধা জানান৷

নির্মল সেন: জন্ম ও বর্ণাঢ্য জীবন

নির্মল সেন ১৯৩০ সালের ৩ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত। মায়ের নাম লাবণ্যপ্রভা সেনগুপ্ত। বাবা সুরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত ছিলেন কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের গণিত শিক্ষক। এ বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া উপজেলার পাটগাতি এমই স্কুলে পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।

১৯৪২ সালে বরিশালের কলসকাঠিতে পিসিবাড়ি থেকে ৯ম শ্রেণিতে পড়াকালে মহাত্মা গান্ধীর ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনে অংশ নিয়ে ১৬দিন ধর্মঘট করার মাধ্যমে নির্মল সেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। তিনি ১৯৪৪ সালে রেভুল্যুশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টিতে (আরএসপি) যোগদানের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় নির্মল সেনের মা-বাবা ও ভাইবোনসহ পরিবারের সব সদস্য বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ত্যাগ করে কলকাতা চলে যান। কিন্তু নির্মল সেন এ দেশে থেকে যান। ঝালকাঠির কলসকাঠি গ্রামে তার পিসির বাড়িতে থেকে ১৯৪৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি কলসকাঠি বিএম একাডেমি থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর বরিশালের বিএম কলেজ থেকে ১৯৪৬ সালে আইএসসি পাস করে বিএসসিতে ভর্তি হন। এ সময় তিনি রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেলে সেখান থেকে বিএসসি পরীক্ষা দিলেও অকৃতকার্য হন। পরবর্তীকালে ১৯৬১ সালে জেলখানা থেকেই বিএ পরীক্ষায় অংশ নেন এবং কৃতকার্য হন। তিনি ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শৈশব থেকেই নির্মল সেনের লেখালেখিতে হাতেখড়ি।

রাজনৈতিক কারণে তাকে জীবনের অনেকটা সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে। অকৃতদার এই সংগ্রামী প্রগতিশীল রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭২-৭৩ সালে নির্মল সেন ডিইউজের সভাপতি ও ১৯৭২-৭৮ সাল পর্যন্ত বিএফইউজের সভাপতি ছিলেন। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অতিথি শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ ১০ বছর শিক্ষকতা করেছেন।

নির্মল সেনের লেখা উল্লেখযোগ্য বই

১. মানুষ-সমাজ-রাষ্ট্র, ২. বার্লিন থেকে মস্কো, ৩. পূর্ববঙ্গ পূর্ব-পাকিস্তান বাংলাদেশ, ৪. মা-জন্মভূমি, ৫. লেনিন থেকে গর্বাচেভ, ৬. স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই, ৭. আমার জীবনে ’৭১-এর যুদ্ধ, ৮. আমার জবানবন্দি।

উল্লেখ্য, নির্মল সেন ২০০৩ সালের ১০ অক্টোবর ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। দীর্ঘ ১০ বছর অসুস্থ থাকার পর ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।

আরো পড়ুন:

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়